স্বামীর শর্তাধীন তালাক (যদি নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বলি তাহলে তালাক) নিয়ে ওয়াসওয়াসা।

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1619
Questioner: Unknown
Question Asked: 14 Jun 2026, 02:42 PM
Reviewed & Published: 14 Jun 2026, 02:44 PM
Views: 5
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

His exact words also were'" যদি বল biye kore vul korso omuk (specific person) k biye korle valo hoto তাহলে talaq) __ as I write these words for fatwa it's not a problem right? (The condition was nit to mention or talk anything about one specific person)

1. One sday I was talking neutral like marrying someone else not the specific person not exactly anyone just neutral. So he goes like why did you say it didn't I gave you condition and I was like but you said one specific person not everyone and he goes like yes I know don't worry but don't do this

Situation 2: (this happened after Situation 1) husband gave condition talaq about not taking someone's name a specific person he said these in chat there was another line where he said "pola oi polar nam anba auto হবে " so later I asked did you mean one specific person or everyone he said no one specific person . So it's safe to follow his saying right but the msg giving me waswasa

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণিত ঘটনা এবং শর্তাধীন তালাকের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) দূর করার জন্য নিম্নোক্ত স্পষ্ট ফতোয়া পেশ করা হলো।


১. শর্তের ব্যাখ্যা ও স্বামীর নিজের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য

স্বামী শর্ত দিয়েছিলেন যে, আপনি যদি নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির নাম বলে থাকেন যে “ওই ব্যক্তিকে বিয়ে করলে ভালো হতো”, তাহলে তালাক হবে। পরে তিনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে তার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি, অন্য কারো সম্পর্কে নয়। শরিয়তে শর্তের ব্যাখ্যা নির্ভর করে শর্তদাতার (স্বামী) নিয়ত ও বক্তব্যের ওপর। যেহেতু তিনি নিজেই বলেছেন “শুধু one specific person”, তাই আপনার পক্ষে তা মেনে নেওয়া বৈধ এবং এটি ইসলামের মূলনীতি।

দলিল:

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস ১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৯০৭)
  • ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “শর্ত ওয়াদা বা অঙ্গীকারের মতো; এর ব্যাখ্যা করা হয় শর্তদাতার উদ্দেশ্য ও তার কথার সাধারণ অর্থ অনুযায়ী।” (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ৩২/১২৪)
  • শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ আরও বলেন: “যদি স্বামী শর্তে কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করে, তাহলে সেই শর্ত শুধু সে ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য হবে।” (ইবনু তাইমিয়্যাহ, ফাতাওয়া আল-কুবরা, ৩/২১৬)

সুতরাং, পরিস্থিতি ১-এ আপনি যখন নিরপেক্ষভাবে অন্য কাউকে বিয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন (নির্দিষ্ট ব্যক্তি নয়), তখন সেই শর্ত ভঙ্গ হয়নি। স্বামী নিজেও বলেছেন “চিন্তা করো না, কিন্তু এটা আর করো না” – এটি প্রমাণ করে যে তিনি শর্ত ভঙ্গ মনে করেননি।

পরিস্থিতি ২-এ স্বামী লিখেছিলেন “পোলা ওই পোলার নাম আনবা অটো হবে” (অর্থাৎ ওই ছেলের নাম আনলে অটোমেটিক তালাক হবে)। পরে আপনি জিজ্ঞেস করলে তিনি স্পষ্ট জানান “কেবল one specific person” উদ্দেশ্য। তাই আপনার পক্ষে তার এই ব্যাখ্যা মানা জায়েজ এবং এটি ইসলামসম্মত। শায়খ ইবনু বায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “তালাকের ক্ষেত্রে যখন স্বামী নিজের কথার ব্যাখ্যা দেয়, তবে তা গ্রহণ করতে হবে যতক্ষণ না সেটি মিথ্যা বা স্পষ্ট বিপরীত প্রমাণিত হয়।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২২/১২৯)


২. ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার উপায়

আপনি লিখেছেন: “the msg giving me waswasa” – অর্থাৎ শয়তান আপনাকে সন্দেহে ফেলে দিচ্ছে যে আপনার কাজে শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না। শরিয়তে ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করা ওয়াজিব। কারণ এটি শয়তানের পক্ষ থেকে ইবাদত ও বিবাহের পবিত্রতা নষ্ট করার চেষ্টা।

দলিল:

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের অন্তরে উদিত হওয়া ওয়াসওয়াসা মাফ করে দেবেন যতক্ষণ না তারা তা উচ্চারণ করে বা কাজে পরিণত করে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৫২৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১২৭)
  • ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “ওয়াসওয়াসা হলো শয়তানের অস্ত্র; মুমিনের কর্তব্য তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।” (ইগাসাতুল লাহফান, ১/৩৪২)

ফতোয়া লেখার বিষয়ে: আপনি ফতোয়ার জন্য শব্দগুলো লিখছেন, এটি কোনো মুখে উচ্চারণ বা শর্ত পূরণের ইচ্ছা নয়। এটি কেবল জ্ঞান অন্বেষণের মাধ্যম। এতে কোনো তালাক পতিত হয় না। শায়খ আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: “লেখা ও মুখের কথার মধ্যে পার্থক্য আছে; শর্ত পূরণের জন্য স্পষ্ট উচ্চারণ বা ইচ্ছা প্রয়োজন।” (সিলসিলা আহাদীস আস-সহীহা, ৪/২৯১)


৩. চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

  • কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনার স্বামী যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা নিয়েই আপনি চলবেন।
  • ওয়াসওয়াসা ত্যাগ করুন। শয়তানকে সুযোগ দেবেন না।
  • ভবিষ্যতে স্বামীর শর্ত মেনে চলুন; সে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বা প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলুন।

উপদেশ:
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান, “আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম” পড়ুন এবং ওয়াসওয়াসা এলে বলুন “আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করলাম, তিনি সব জানেন।” যদি সন্দেহ খুব বেশি হয়, তাহলে একজন আলেমের সাথে সরাসরি কথা বলুন, ইনশাআল্লাহ মন শান্ত হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞানী।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.