শর্ত ভঙ্গ না করে গান গাইলে কি তালাক হয়?

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 1609
Questioner: Unknown
Question Asked: 14 Jun 2026, 11:19 AM
Reviewed & Published: 14 Jun 2026, 11:31 AM
Views: 55
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি ওয়াসওয়াসার রোগী পূর্বেও একজন মুফতি বলেছেন আমার অনবরত প্রশ্ন করা দেখে। আমার স্বামী আমার ওপর কয়েকটি শর্তযুক্ত তালাক যোগ করেছেন যার কোনোটাই আমি ভঙ্গ করিনি। কিন্তু আমার সবসময় টেনশন হয় কিছু করলে কিছু বললেই যে শর্ত ভঙ্গ হলো কিনা। আমি বারবার প্রশ্ন করি।

এই যে মাস খানেক আগে, আমার স্বামী আমাকে শর্ত দিয়েছেন নির্দিষ্ট একজন ব্যাক্তি নিয়ে কথা না বলতে, নাম না নিতে । এখন একদিন আমি মনে মনে নির্দিষ্ট ব্যাক্তি নিয়ে কল্পনা করেছিলাম ওই মূহুর্তে মুখে কিছু গান গেয়ে ফেললাম। এখন এটা নিয়ে মাসের পর মাস ভাবছি শর্ত ভঙ্গ হলো কিনা। গানের লিরিক্স এর জন্য শর্ত ভঙ্গ হলো কিনা। লিরিক্স ছিল, "তোমাকে সাথে রাখব"

দয়া করে আমাকে সমাধান দিবেন।
2. As like situation 1 same once I was talking with my husband about his topic like we were laughing and then I tell something to my husband about his body smell and remember that specific person's same detail and then I said to my husband the smell thing (same detail what I just thought to myself) but I didn't meant the specific person I only meant my husband but my inner thought keep giving me waswasa after that I immediately told my husband only one thing that I only meant you though he didn't understand anything an didn't ask further . As I write the whole situation here does this break the condition of talking about that specific person
3. Husband jodi wife k bole talaq dite like bollo "tmi dau" wife pore Husband k bollo tmk talaq dilam eta ki talaq hobe?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
উত্তর: আপনার সমস্যা হলো ওয়াসওয়াসা (মনের কুমন্ত্রণা) যা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। শরীয়তে ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেওয়া নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ"
“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা কথা বলে।” (বুখারী: ২৫২৮, মুসলিম: ১২৭)

অতএব, শুধু মনে মনে চিন্তা করলে বা অনিচ্ছাকৃত কিছু বললে শর্ত ভঙ্গ হয় না। নিচে আপনার তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:


১. প্রথম ঘটনা: শর্ত ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে কথা না বলা। আপনি মনে মনে কল্পনা করেছিলেন, তারপর মুখে একটি গানের লিরিক্স “তোমাকে সাথে রাখব” গেয়ে ফেলেন।

উত্তর: এটি শর্ত ভঙ্গ করেনি। কারণ:

  • আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে ঐ ব্যক্তির নাম বা সম্পর্কে কিছু বলেননি। গানটি ছিল সাধারণ।
  • শর্ত ভঙ্গের জন্য ইচ্ছা ও স্পষ্ট উচ্চারণ জরুরি। এখানে আপনার কোনো ইচ্ছা ছিল না।
  • শায়খ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেছেন: শর্তযুক্ত তালাক তখনই কার্যকর হবে যখন শর্তটি ইচ্ছাকৃতভাবে ও জেনে-বুঝে পূর্ণ করা হয়।” (আশ-শারহুল মুমতি’, ১৩/২৩৫)

পরামর্শ: ওয়াসওয়াসা ত্যাগ করুন। শয়তান আপনাকে বিভ্রান্ত করছে। মাসের পর মাস চিন্তা করা জায়েয নয়।


২. দ্বিতীয় ঘটনা: আপনার স্বামীর শরীরের গন্ধ নিয়ে কথা বলার সময় ঐ নির্দিষ্ট ব্যক্তির একই গন্ধের কথা মনে পড়ে, তারপর আপনি স্বামীকে সেই গন্ধের কথা বললেন (কিন্তু আপনি স্বামীকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন)।

উত্তর: শর্ত ভঙ্গ হয়নি। কারণ:

  • আপনার নিয়ত ছিল শুধু স্বামীকে বলা, ঐ ব্যক্তিকে নয়।
  • আপনি সাথে সাথে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে শুধু স্বামীকে বুঝিয়েছেন।
  • ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: “প্রকৃত বিষয় হলো নিয়তের উপর নির্ভরশীল। যদি ব্যক্তি অন্য কিছু উদ্দেশ্য না করে, তবে তার কথা শর্ত ভঙ্গ করে না।” (মাজমু’ ফাতাওয়া, ৩২/১৩২)

পরামর্শ: ওয়াসওয়াসার কারণে নিজেকে কষ্ট দেবেন না। আপনার বিবাহ এখনও বৈধ।


৩. তৃতীয় ঘটনা: স্বামী স্ত্রীকে বলল “তুমি দাও” (অর্থাৎ তালাক দাও), তারপর স্ত্রী স্বামীকে বলল “তোমাকে তালাক দিলাম” – এটি কি তালাক হবে?

উত্তর: এটি তালাক হবে না, যদি না স্বামী স্পষ্টভাবে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা স্ত্রীকে অর্পণ করে থাকে (তফবীয)।

  • স্বামীর কথা “তুমি দাও” – এটি সাধারণ ভাষায় তালাক প্রদানের নির্দেশ নয়। অনেক সময় হাসি-ঠাট্টায় বা অজ্ঞতা বসত বলা হয়।
  • ইবনু বায (রহ.) বলেছেন: “তালাক কেবল তখনই কার্যকর হয় যখন তা স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয় এবং তালাক দেওয়ার ইচ্ছা থাকে। সন্দেহ বা ওয়াসওয়াসার কারণে তালাক পতিত হয় না।” (মাজমু’ ফাতাওয়া ইবনু বায, ২২/১২৫)
  • শায়খ আলবানী (রহ.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি তালাক দিতে বাধ্য নয় বা সন্দেহে আছে, তার তালাক পতিত হয় না।” (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান্নূর, ক্যাসেট নং ২৮২)

সুতরাং: আপনার বর্ণনা অনুযায়ী এই তালাক পতিত হয়নি। তবে যদি স্বামী সত্যিই উদ্দেশ্য করে থাকে (অর্থাৎ তাকে তালাক দেওয়ার অধিকার দেয়), তবে ভিন্ন কথা। এখানে ওয়াসওয়াসার কারণে আপনি বারবার চিন্তা করছেন—তাই তালাক গণ্য হবে না।


সারসংক্ষেপ:

  • ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন।
  • শর্ত ভঙ্গের ব্যাপারে নিশ্চিত না হলে তালাক পতিত হয় না।
  • আপনার স্বামীর সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, তবে অতিরিক্ত প্রশ্ন না করাই উত্তম।

وَاللهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.