একজন খাদেমার ঘটনা উদাহরণ দিয়ে মাকে বুঝানো, অথচ মা আগেই জানতেন—এতে কি গীবত হবে?

Family Life · Hanafi

Question No: 1581
Questioner: eshita eshita
Question Asked: 13 Jun 2026, 04:24 PM
Reviewed & Published: 13 Jun 2026, 04:28 PM
Views: 58
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমার মা কে এটা বুঝাচ্ছিলাম যে এই পৃথিবীতে কেউ আমাদের কোন ক্ষতি করলে বা হক নষ্ট করলে এটা আমাদের পরকালের জন্য লাভজনক।এগুলো সব জমা হচ্ছে পরকালের এর জন্য উত্তম বিনিময় পাবো।তো বুঝানোর এক পর্যায়ে আমি মা কে আমাদের বাসার খাদেমদার একটা ঘটনা বলি।আমাদের বাসার খাদেমা আন্টিকে কিছুদিন আগে একটা বক্স দেওয়া হয় এবং বক্স দেওয়া সময় তাকে বলা হয়েছিলো এটা ফেরত দিয়ে দিতে হবে।কিন্তু উনি আর সেই বক্সটি ফেরত আনেনি।তো আমিও আর ঐ বক্সটি উনার কাছে চাইবো না এর বিনিময়ে আল্লাহর কাছে জান্নাতি থালাবাসন চাইবো।আল্লাহ উত্তম বিনিময় দিবেন আমাকে ইন শা আল্লাহ নাহলে আমি এই বক্সটি উনার কাছে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত চাইতে থাকতাম।আম্মুকে আমি বুঝানো উদ্দেশ্যে ঐ ঘটনাটি বলেছিলাম যদিও আম্মু আগে থেকেই জানতেন যে খাদেমা বাক্স আনেননি।

এখানে তো খাদেমা আন্টির দোষ প্রকাশ করেছি আমার আম্মুকে বুঝাতে গিয়ে।বুঝানোর উদ্দেশ্যেই উনাকে উদাহরণ হিসেবে এই ঘটনা বলা হয়েছে। এখন এতে করে কি আমার গীবত এর গুনাহ হবে?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনি আপনার মাকে বুঝানোর জন্য খাদেমা আন্টির একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যেখানে তিনি বক্স ফেরত না দেওয়ার দোষ প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু যেহেতু আপনার মা আগে থেকেই বিষয়টি জানতেন এবং আপনার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদাহরণ দেওয়া (বিশেষ করে পরকালের পুরস্কার সম্পর্কে বোঝানো), তাই এটি গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না—ইন শা আল্লাহ।

দলিল:
গীবতের সংজ্ঞা হলো: অনুপস্থিত ব্যক্তির এমন দোষ বা বিষয় আলোচনা করা যা সে শুনলে অপছন্দ করবে, যদিও তা সত্য হয়। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৯)
তবে শরী‘আতে কিছু বৈধ অবস্থা আছে যেখানে গীবত জায়েয হয়। তার মধ্যে একটি হলো: যিনি শুনছেন তিনি যদি আগে থেকেই সেই বিষয় জানেন, তাহলে তা গীবত গণ্য হবে না। যেমন ইমাম নববী (রহ.) বলেন: “যদি শ্রোতা আগেই বিষয়টি জানে, তাহলে তা গীবত নয়।” (শরহু সুনানি আবী দাউদ, ৮/২২৩)
এছাড়া ফতোয়ায়ে উসমানী (১/৩০৬) ও ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২৬৩) তে এসেছে: “যদি উদ্দেশ্য হয় সঠিক উপদেশ দেওয়া বা দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া, আর বক্তব্যে কারো দোষ প্রকাশ পেলেও তা গীবত নয়, যদি শ্রোতা পূর্ব থেকেই জানে বা উদ্দেশ্য সৎ হয়।”

আপনার ক্ষেত্রে:

  • আপনার মা ইতিমধ্যেই জানতেন যে খাদেমা বক্স ফেরত আনেননি।
  • আপনার উদ্দেশ্য ছিল তাকে পরকালের পুরস্কারের গুরুত্ব বোঝানো, খাদেমা আন্টির দোষ বর্ণনা করা নয়।
  • তাই এটি গীবতের আওতায় পড়বে না।

তবে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা ভালো: উদাহরণ দেওয়ার সময় এমন ঘটনা বলা উচিত যেখানে কারো নাম বা পরিচয় প্রকাশ না হয়, অথবা শ্রোতা যদি না জানে তাহলে গীবত হতে পারে।

সারসংক্ষেপ:
আপনার কাজটি গীবত নয়, কারণ মা জানতেন এবং উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষামূলক। তবে শুধুমাত্র মা জানা শর্ত নয়, বরং সৎ উদ্দেশ্যও গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ উত্তম জানেন।

রেফারেন্সসমূহ:

  • সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৫৮৯
  • শরহু সুনানি আবী দাউদ, ৮/২২৩
  • ফতোয়ায়ে উসমানী, ১/৩০৬
  • ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৬৩ (ইসলামী কিতাব)
  • রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৫ (বাবুল গীবতি)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.