তাফসীর কি অযু ছাড়া পড়া যায়?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 1554
Questioner: Sumaiya Tabassum
Question Asked: 12 Jun 2026, 09:47 PM
Reviewed & Published: 12 Jun 2026, 10:13 PM
Views: 43
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
কুরআনের তাফসীর কি অযু ছাড়া পড়া যাবে?
তাপসীর গ্রন্থ কি অন্যান্য বইয়ের সাথে রাখলে আদবের খেলাফ হবে?

Answer

উত্তর: তাফসীর গ্রন্থ পাঠ ও সংরক্ষণের আদব (হানাফী মাযহাব)

প্রশ্ন:
১. কুরআনের তাফসীর কি অযু ছাড়া পড়া যাবে?
২. তাফসীর গ্রন্থ কি অন্যান্য বইয়ের সাথে রাখলে আদবের খেলাফ হবে?


১. অযু ছাড়া তাফসীর পড়ার বিধান

হানাফী মাযহাবে কুরআনের তাফসীর গ্রন্থ অযু ছাড়া পড়ার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নীতিগুলো প্রযোজ্য:

  • যদি তাফসীর গ্রন্থে কুরআনের আয়াত সংখ্যাগরিষ্ঠ না হয় (অর্থাৎ, ভাষ্য ও ব্যাখ্যার পরিমাণ আয়াতের চেয়ে বেশি), তাহলে নাপাকি (হাদাসে আসগর - অযু ভঙ্গ) ছাড়া পড়া জায়েয। তবে মুসহাফের মতো মূল আরবী আয়াত স্পর্শ না করা শর্ত।
    (রদ্দুল মুহতার, ১/১৭৪; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৮৫)

  • যদি তাফসীর গ্রন্থে কুরআনের আয়াত সংখ্যাগরিষ্ঠ হয় (যেমন কুরআনের সম্পূর্ণ পাঠ সহ তাফসীর), তাহলে তা মুসহাফের হুকুমে গণ্য হবে এবং অযু ছাড়া স্পর্শ করা নাজায়েয। তবে অযু ছাড়া দৃষ্টে পড়া জায়েয, কিন্তু স্পর্শ করা হারাম।
    (আল-হিদায়া, ১/২২; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৫২)

  • জানাবত (বড় নাপাকি) অবস্থায় তাফসীর গ্রন্থে থাকা কুরআনের আয়াত স্পর্শ করা ও পড়া উভয়ই হারাম। তবে তাফসীরের ভাষ্য অংশ শুধু পড়া জায়েয বলে ইমাম আবু ইউসুফের মত আছে, কিন্তু অধিকাংশ হানাফী ফকীহ এটাও নাজায়েয বলেছেন। তাই জানাবত অবস্থায় সম্পূর্ণ তাফসীর গ্রন্থ স্পর্শ ও পাঠ থেকে বিরত থাকা উচিত
    (রদ্দুল মুহতার, ১/১৭৪; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২৩)

সারমর্ম:

  • অযু ছাড়া তাফসীর পড়তে চাইলে গ্রন্থের প্রকৃতি দেখতে হবে। অধিকাংশ তাফসীর গ্রন্থে ভাষ্যই বেশি, তাই অযু ছাড়া পড়া যাবে, তবে আয়াত স্পর্শ না করে।
  • উত্তম হলো অযু করে পড়া, কেননা তাফসীরও কুরআনের সম্মানিত ব্যাখ্যা বহন করে (বাহিশতী জেওয়ার, ১/৭৮)।

২. তাফসীর গ্রন্থ অন্যান্য বইয়ের সাথে রাখার আদব

তাফসীর গ্রন্থ যেহেতু কুরআনের আয়াত ও তার ব্যাখ্যা ধারণ করে, তাই এর সম্মান বজায় রাখা ওয়াজিব। নিম্নোক্ত দিকগুলো লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:

  • ইসলামী গ্রন্থের সাথে রাখা জায়েয: হাদীস, ফিকহ, আকীদা ইত্যাদি ইসলামী বইয়ের সাথে তাফসীর রাখলে কোনো সমস্যা নেই। বরং এগুলো সবই ইলমের কিতাব হিসেবে সম্মানিত।
    (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪২৮; মাআরিফুল কুরআন, ১/৪৭)

  • অইসলামী বা সাধারণ বইয়ের সাথে রাখা: যদি অন্য বইগুলো অশালীন বা গুনাহের বিষয়ক হয়, তাহলে তাফসীরের সাথে রাখা আদবের খেলাফ এবং নাজায়েয। আর যদি সাধারণ (যেমন সাহিত্য, ইতিহাস) বই হয়, তবে উত্তম হলো আলাদা বা উপরের তাকে রাখা। নিচে রাখা থেকে বিরত থাকা উচিত।
    (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৮৬; ফাতাওয়া রহীমিয়া, ১/৪১২)

  • শারীরিক আদব: তাফসীর গ্রন্থ এমন স্থানে রাখবেন না যেখানে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে (যেমন জুতার কাছে, নিচের তাকে, অপরিষ্কার জায়গায়)। তাফসীরকে সর্বোচ্চ সম্মান দিন, কারণ এটি কুরআনের বাণী বহন করে।
    (বাহিশতী জেওয়ার, ১/৭৯; রদ্দুল মুহতার, ১/১৮০)

উত্তম পদ্ধতি:

  • তাফসীর গ্রন্থ সব কিতাবের উপরে রাখা সুন্নাহ ও আদব।
  • প্রয়োজনে একই তাকে রাখলেও ডান দিকে বা উপরের দিকে রাখুন।
  • অন্য বইয়ের সাথে মিশিয়ে রাখতে বাধ্য হলে তাফসীরকে পলিথিন বা কাপড়ে মুড়ে রাখা যায়।

সারসংক্ষেপ ও ফতোয়া:

  • অযু ছাড়া তাফসীর পড়া জায়েয যদি গ্রন্থে আয়াত অপেক্ষা ভাষ্য বেশি হয় এবং আয়াত স্পর্শ না করা হয়। তবে অযু করে পড়াই অধিক সওয়াব ও সম্মানজনক।
  • তাফসীর গ্রন্থ অন্য ইসলামী বইয়ের সাথে রাখা বৈধ; অইসলামী বা নিম্নমানের বইয়ের সাথে রাখা আদবের খেলাফ। সর্বোত্তম হলো তাফসীরকে সম্মানের স্থানে রাখা।

আল্লাহু আলাম।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.