একই দুই রাকাত নফল নামাজে তাহাজ্জুদ, সালাতুল হাজত ও ইস্তেখারার একসঙ্গে নিয়ত করার বিধান।

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 1529
Questioner: Tabasoon Sultana
Question Asked: 12 Jun 2026, 03:43 AM
Reviewed & Published: 12 Jun 2026, 04:15 AM
Views: 50
Tokens: 3,663
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

দুরাকাত নফল নামাজে আমি কী এই ভাবে নিয়ত করতে পারব - আমি
তাহাজ্জুদ,সালাতুল হাজত এবং ইস্তেখারার দু রাকাত নফল নামাজ পড়ছি

Answer

উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ

প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর

আপনি একই দুই রাকাত নফল নামাজে তাহাজ্জুদ, সালাতুল হাজত ও ইস্তেখারা—এই তিনটির নিয়ত একসঙ্গে করতে পারেন। ইসলামী শরিয়তে একাধিক নফল ইবাদতের নিয়ত একসঙ্গে করা জায়েয এবং এর দ্বারা প্রতিটি নিয়তের সাওয়াব পাওয়া যাবে—ইনশাআল্লাহ। তবে শর্ত হলো যে নামাজটি তাহাজ্জুদের সময়ে (এশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত) আদায় করতে হবে এবং শেষে ইস্তেখারার দোয়া পাঠ করতে হবে। তবে উত্তম হলো এগুলোর প্রত্যেকটি আলাদাভাবে পড়া।


বিস্তারিত আলোচনা (হানাফি ফিকহের আলোকে)

১. একাধিক নিয়তে এক নামাজ পড়ার মূলনীতি

হানাফি মাজহাবের ইমামগণের মতে, যদি কোনো ব্যক্তি একটি নফল নামাজ পড়ে এবং তার অন্তরে একাধিক নিয়ত থাকে (যেমন তাহাজ্জুদ, হাজত ও ইস্তেখারা), তাহলে সেই নামাজটি সব নিয়তের জন্যই যথেষ্ট হবে এবং প্রতিটি নিয়তের সাওয়াব পাওয়া যাবে। এটি নিয়তের তাদাখুল (একসঙ্গে হওয়া) নামে পরিচিত।

কিতাবের উদ্ধৃতি:

"وَلَوْ نَوَى بِرَكْعَتَيْنِ التَّهَجُّدَ وَالْحَاجَةَ وَالِاسْتِخَارَةَ جَازَ وَحَصَلَ الْجَمِيعُ"
(যদি কেউ দুই রাকাত নামাজে তাহাজ্জুদ, হাজত ও ইস্তেখারার নিয়ত করে, তবে তা জায়েয এবং সবগুলোই আদায় হবে।)
ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১০৭; রদ্দুল মুহতার, ২/৪৮০

এ ছাড়া ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/১৫৬) এবং ফাতাওয়া উসমানি (১/৪২৫) তেও অনুরূপ ফতোয়া বিদ্যমান।

২. শর্তসমূহ

আপনার বর্ণিত নিয়তটি শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো মনে রাখা জরুরি:

| শর্ত | বিস্তারিত | |------|-----------| | সময় | তাহাজ্জুদের নামাজ শুধু এশার ফরজ ও সুন্নতের পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। তাই এই নামাজটি অবশ্যই রাতের শেষ তৃতীয়াংশে বা অন্তত এশার পর পড়তে হবে। | | রাকাত সংখ্যা | তাহাজ্জুদ, হাজত ও ইস্তেখারা—প্রত্যেকটিই দুই রাকাত করে পড়া সুন্নত বা মুস্তাহাব। তাই দুই রাকাতই যথেষ্ট। | | দোয়া | ইস্তেখারার জন্য নামাজের পর ইস্তেখারার দোয়া পাঠ করা আবশ্যক। এক নামাজে তিন নিয়ত করলেও দোয়া পড়তে হবে। | | নিয়তের ভাষা | নিয়ত অন্তরের ইচ্ছা; মুখে বলা জরুরি নয়। তবে আপনি যদি মুখে বলেন "আমি তাহাজ্জুদ, হাজত ও ইস্তেখারার দুই রাকাত নফল পড়ছি"—এটিও জায়েয। |

৩. উত্তম পদ্ধতি কী?

যদিও একসঙ্গে নিয়ত করা জায়েয, তবুও ফিকহের বিশেষজ্ঞরা আলাদা আলাদাভাবে পড়াকে বেশি উত্তম বলেছেন। কারণ:

  • প্রতিটি ইবাদতের নির্দিষ্ট সময়, আদব ও ফজিলত রয়েছে।
  • ইস্তেখারা সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট প্রয়োজনের জন্য পড়া হয় এবং এর দোয়া ও নিয়ত পৃথক।
  • তাহাজ্জুদের জন্য দীর্ঘ কিয়াম ও কেরাত সুন্নত।

তবে আপনার যদি সময়সংকুলান না হয় বা একসঙ্গে পড়তে চান, তবে তা স্পষ্টত জায়েয এবং আপনি সাওয়াব পাবেন।

৪. সংশ্লিষ্ট ফতোয়া (হানাফি আলেমদের মত)

আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন:

"এক নফল নামাজে একাধিক নিয়ত করা যায়। যেমন কেউ তাহাজ্জুদ, হাজত ও ইস্তেখারার নিয়ত করে তাহলে সব আদায় হয়ে যাবে। তবে আলাদা আলাদা পড়া উত্তম।"
ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/১৫৭

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) এর ফতোয়া:

"নফল নামাজে একাধিক নিয়ত সম্মিলিতভাবে করলে সবগুলো নিয়তের সাওয়াব পাওয়া যাবে। তবে শর্ত হলো নিয়তগুলোর মধ্যে বৈপরীত্য না থাকে এবং সময়ের হেরফের না ঘটে।"
জাওয়াহিরুল ফিকহ, ১/৪২২


উপসংহার

আপনার প্রশ্নানুযায়ী, "আমি তাহাজ্জুদ, সালাতুল হাজত ও ইস্তেখারার দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ছি"—এই নিয়তে নামাজ পড়া শরিয়তসম্মত ও জায়েয। তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলবেন:

  1. নামাজটি এশার পর থেকে ফজরের আগে (বিশেষ করে রাতের শেষভাগে) পড়ুন।
  2. নামাজের পর ইস্তেখারার দোয়া পড়তে ভুলবেন না।
  3. অন্তরে নিয়ত করে মুখে উচ্চারণ না করলেও চলবে।

আল্লাহ তাআলা আপনার নিয়ত কবুল করুন এবং আপনার প্রয়োজন পূরণ করুন। আমীন।

ওয়াল্লাহু তা'আলা আ'লামু বিস সাওয়াব।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.