গরমকে গালি দিলে কি ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 1485
Questioner: Rajia Suntana
Question Asked: 11 Jun 2026, 09:56 AM
Reviewed & Published: 11 Jun 2026, 11:06 AM
Views: 42
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। কেউ যদি গরম নিয়ে বলে যে, রাগ করে বলে যে, "কালকে কুত্তা মরা গরম পড়বে " তাহলে কি তার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নটি একজন মুসলমানের বিশ্বাস (ঈমান) ও মুখের ভাষার গুরুত্ব সম্পর্কিত। আসুন, আমরা হানাফি ফিকহ ও আকিদার আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করি।

উত্তর সংক্ষেপে:

"কালকে কুত্তা মরা গরম পড়বে" এই বাক্যটি বলা ঈমান নষ্ট করার কারণ হবে না, ইনশাআল্লাহ। তবে এটি একটি অশ্লীল ও গুনাহের কাজ, যা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এই ধরনের কথা বলা ইসলামী শিষ্টাচার ও একজন মুসলমানের মর্যাদার পরিপন্থী।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও দলিল:

আপনার প্রশ্নে দুটি দিক রয়েছে:

  1. বাক্যটির অর্থ ও প্রেক্ষাপট: এটি মূলত একটি গালি বা অশ্লীল ভাষা, যা গরমের তীব্রতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে "কুত্তা মরা" দ্বারা গরমের ভয়াবহতাকে হেয় বা নিচু পর্যায়ের কিছুর সাথে তুলনা করা হয়েছে। বক্তা এখানে আল্লাহ, রাসূল (সাঃ) বা ইসলামের কোনো মৌলিক বিশ্বাসকে অস্বীকার বা অপমান করেননি। এটি রাগের মাথায় বলা একটি অশোভন অভিব্যক্তি মাত্র।
  2. ঈমান নষ্ট হওয়ার শর্ত: হানাফি ফিকহের বড় বড় ইমামগণ (যেমন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ) এবং পরবর্তী ফকিহগণ (যেমন ইমাম তাহাবী, ইবনে আবেদীন, মুফতি মুহাম্মদ শফী, মুফতি তাকী উসমানী) সকলেই এই বিষয়ে একমত যে, ঈমান নষ্ট হওয়ার জন্য স্পষ্টভাবে আল্লাহ, রাসূল (সাঃ), কুরআন বা ইসলামের কোনো প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাস ও বিধানের প্রতি অপমান, অবজ্ঞা বা অস্বীকৃতি জানাতে হবে। (সূত্র: ফিকহুল আকবর, রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া উসমানী)

এই বাক্যটিতে সরাসরি ধর্মীয় কোনো বিষয়কে অস্বীকার বা অপমান করা হয়নি। এটি কুফরি নয়, বরং অশ্লীলতা ও গুনাহ।

হানাফি গ্রন্থের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): এই গ্রন্থে কুফরি শব্দ ও কাজের বিস্তারিত আলোচনা আছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, কেবলমাত্র সেই শব্দগুলোই মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়, যেগুলো দ্বারা আল্লাহ, রাসূল বা দ্বীনের প্রতি স্পষ্ট অপবাদ বা অস্বীকৃতি প্রকাশ পায়। রাগের মাথায় বলা অশালীন শব্দ, যেমন কাউকে গালি দেওয়া, সাধারণত কুফর হিসেবে গণ্য হয় না, তবে তা মারাত্মক পাপ। (كتاب الصيد والذبائح، باب ما يكره وما لا يكره، وكتاب الكراهية)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): এখানে বলা হয়েছে, 'কেউ যদি কারো প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে অশ্লীল কথাবার্তা বলে, যা কুফরি বাক্য হিসেবে পরিচিত নয়, তাহলে সে কাফির হবে না। তবে তার জন্য তওবা করা ওয়াজিব।'
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, গরম, ঠান্ডা ইত্যাদি প্রাকৃতিক বিষয়ে কটূক্তি করলে ঈমানের সমস্যা হবে না, যতক্ষণ না তাতে আল্লাহর প্রতি অভিযোগ বা তাঁর ইচ্ছাকে অস্বীকারের ভাব থাকে। (আপনার উল্লিখিত বাক্যটিতে আল্লাহর প্রতি অভিযোগ না করে গরমকে 'কুত্তা মরা' বলে অভিহিত করা হয়েছে, এটি অশ্লীলতা কিন্তু কুফর নয়)।

কেন এটি গুনাহ এবং কীভাবে শোধরাবেন:

  1. গুনাহের কারণ: ইসলাম একজন মুসলমানকে সর্বোত্তম চরিত্র ও মার্জিত ভাষার শিক্ষা দেয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা ভালো কথা বলো" (সূরা বাকারা: ৮৩)। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "মুমিন তিরস্কারকারী ও অভিশাপ দাতা হয় না" (তিরমিজি)। 'কুত্তা' শব্দটি অশ্লীল এবং গালি হিসেবে গণ্য। তাছাড়া, 'কুত্তা মরা গরম' বলে গরমকে একটি নাপাক ও নিকৃষ্ট প্রাণীর সাথে তুলনা করা হচ্ছে, যা একটি সৃষ্টি হিসেবে গরমের (আবহাওয়া) প্রতি অশোভন এবং রাব্বুল আলামীনের প্রতি অশিষ্টতা হতে পারে (কারণ তিনিই গরম সৃষ্টিকারী)।
  2. রাগের সময় সাবধানতা: রাগের সময় মানুষ অনেক ভুল কথা বলে ফেলে। হাদীসে এসেছে, "ক্ষমতাবান সে ব্যক্তি নয় যে কুস্তিতে জিতে, বরং ক্ষমতাবান সে যে রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখে।" (বুখারী, মুসলিম)। রাগ থেকে বাঁচার জন্য দোয়া করা এবং অজু করা উচিত।

করণীয়:

  1. তওবা করুন: এই ধরনের কথা বলার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন যে ভবিষ্যতে মুখ থেকে এমন অশ্লীল শব্দ বের করবেন না।
  2. ভাষা সংশোধন করুন: রাগ হলেও ভালো কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন বলতে পারেন: "আজ খুব প্রচণ্ড গরম পড়বে" বা "আবহাওয়া খুব গরম থাকবে"।
  3. আমল: নিয়মিত তওবা ও ইস্তেগফার পড়ার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে রাগের সময় "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়ুন।

সারসংক্ষেপ ও উপসংহার:

| পাঠ | উত্তর | হুকুম | | :--- | :--- | :--- | | "কালকে কুত্তা মরা গরম পড়বে" | ঈমান নষ্ট হবে কি? | না, ঈমান নষ্ট হবে না। | | | গুনাহ হবে কি? | হ্যাঁ, এটি মারাত্মক গুনাহ ও অশ্লীলতা। | | | করণীয় কী? | তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকা। |

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে রাগ নিয়ন্ত্রণ করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের মুখের ভাষাকে পবিত্র ও সুন্দর করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.