স্ত্রীকে কল্পনা করে নিজেকে জিহারের শব্দ বলা জিহার গণ্য হয় না?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
এই লিংকে জিহার হয় নাই৷ আগে কমেন্ট করা যাইতো এখন তা নাই। কথা হইলো। নিজেকে বুঝানোর জন্য সরীহ কথা টা বলে ঠিক আছে । কিন্তু যখন বলে ওই কথায় তো তুমি শব্দ ছিলো। আবার বউকে কল্পিনা করে বলছে। মনে হচ্ছে বউকেই বলছে নিজেকে বুঝানোর জন্য। তাইলে কি এটা বউকে সম্বধিন করা হইলো, নাকি নিজেকে।
সরীহ কথা টা বউকে বললে যেমনে বলতো তেমনেই বলছে। কিন্তু একটু থেমে বলছে এভবে বললে হবে নাইলে না। তাইলে কি জিহার হলো
Answer
উত্তর:
আপনার বর্ণিত পরিস্থিতি অনুযায়ী, স্বামী নিজেকে বুঝানোর জন্য সরীহ (স্পষ্ট) জিহারের শব্দ ব্যবহার করেছেন—যেমন ‘তুমি আমার মায়ের পিঠের মতো’ বা অনুরূপ কোনো বাক্য—এবং সেই সময় তিনি স্ত্রীকে কল্পনা করছিলেন, যদিও সরাসরি স্ত্রীকে সম্বোধন না করে নিজেকেই বলছিলেন। প্রশ্ন হচ্ছে, এতে কি জিহার হয়েছে?
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
জিহার (ظهار) হওয়ার জন্য প্রধান শর্তসমূহ:
- সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ ব্যবহার—যেমন ‘আমার মায়ের পিঠ’, ‘আমার বোনের পিঠ’ ইত্যাদি।
- স্ত্রীকে সম্বোধন করা—অর্থাৎ কথাটি স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলা।
- নিয়ত (ইচ্ছা)—সরীহ শব্দের ক্ষেত্রে নিয়ত আবশ্যক নয়; শুধু উচ্চারণই যথেষ্ট। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৪৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/৪৩০)
তবে সম্বোধন (মুখাতাব) একটি অপরিহার্য শর্ত। যদি স্বামী স্ত্রীকে উদ্দেশ্য না করে কেবল নিজের সঙ্গে কথা বলছেন, বা অন্য কাউকে বলছেন, তাহলে জিহার হয় না।
আপনার ক্ষেত্রে বিচার:
- স্বামী ‘তুমি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা সাধারণত সম্বোধনের জন্য হয়। কিন্তু তিনি তা স্ত্রীকে বলছিলেন না, বরং নিজেকেই বলছিলেন এবং স্ত্রীকে কল্পনা করছিলেন।
- হানাফি ফিকহে কল্পিত সম্বোধন (যেমন নিজেকে বা বস্তুকে স্ত্রী বলে কল্পনা করে জিহারের শব্দ বলা) জিহার গণ্য হয় না, যদি না তা স্ত্রীর উপস্থিতিতে বা তাকে শোনানোর উদ্দেশ্যে বলা হয়।
- ইমাম আবু হানিফা (رحمة الله) ও ইমাম আবু ইউসুফ (رحمة الله) এর মতে, জিহার কেবল তখনই হয় যখন শব্দটি স্ত্রীর কাছে পৌঁছে এবং সে তা বুঝতে পারে। (শরহু মা‘আনিল আসার, ৩/২৪)
- তবে যদি স্বামী ইচ্ছাকৃতভাবে জিহারের শব্দ উচ্চারণ করে এবং তার মনে স্ত্রীর প্রতিই ইঙ্গিত থাকে, তাহলে কিছু হানাফি উলামা সতর্কতামূলক জিহার হয়েছে বলে গণ্য করেন। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৪৫)
স্পষ্ট সিদ্ধান্ত:
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীকে সরাসরি সম্বোধন করেননি; তিনি নিজেকে বুঝানোর জন্য এবং একটু থেমে থেমে বলেছেন। তাই জিহার সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে যেহেতু ‘তুমি’ শব্দ ব্যবহার করে স্ত্রীকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, তাই সতর্কতামূলকভাবে জিহার হয়েছে মনে করে কাফফারা আদায় করা উত্তম।
কাফফারাহ কী?
জিহার সাব্যস্ত হলে স্ত্রীকে কাছে নেওয়ার আগে কাফফারাহ দিতে হবে:
- একটানা ৬০ দিন রোজা রাখা; অথবা
- ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাওয়ানো; অথবা
- একটি গোলাম আযাদ করা। (সূরা মুজাদালাহ: ৩-৪)
উপসংহার:
- যদি স্বামী নিশ্চিত হন যে তিনি স্ত্রীকে সম্বোধন করেননি, তবে জিহার হয়নি।
- কিন্তু যদি সন্দেহ থাকে, তাহলে কাফফারাহ আদায় করে নেওয়া নিরাপদ।
- ভবিষ্যতে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
সূত্র:
- রদ্দুল মুহতার, ৩/৪৮২-৪৮৩
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/৪৩০-৪৩১
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২৪৫-২৪৬
- বেহেশতি জেওর, ৭ম অধ্যায় (জিহার)