"যাও যেখানে ইচ্ছা" বললে কি তালাক হবে?

Family Life · Hanafi

Question No: 1398
Questioner: T
Question Asked: 09 Jun 2026, 10:48 AM
Reviewed & Published: 09 Jun 2026, 11:40 AM
Views: 60
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামীর কাজে স্ত্রী নাখোশ। স্ত্রীকে স্বামী ভালোবাসে এবং গুরুত্ব দেয়। তবে সেটা সবসময় প্রকাশ্য থাকে না। ফোনে সময় দেয় অনেক,স্ত্রীকে না দিয়ে। এটা নিয়ে স্ত্রী মনে কষ্ট নিয়ে কথা না বলে sbamir পাশে ঘুমিয়ে পড়ে। স্বামীর ফোন দেখা শেষ হলে স্ত্রীকে ঘুম থেকে উঠিয়ে জিজ্ঞেস করে রাগ করেছে কিনা। আরও অনেক কথা বলার একপর্যায়ে বলে,
"যাও যেখানে ইচ্ছা,যার কাছে ইচ্ছা। যেখানে শান্তি পাও যাও"।
এরকম চলে যাবার কথা বেশ কয়েক বার বলেছে স্বামী।
স্বামীর পছন্দমতো স্ত্রী না। এসব নিয়ে স্ত্রী ডিপ্রেশনে থাকার কারণে অনেক কিছু বলে ফেলে; যেমন আরেকটা বিয়ে করেন,আমাকে বিয়ে না করলে পারতেন ইত্যাদি। এরকম বলার পর স্বামী বলে "থাকতে না পারলে থেকো না,তবে এসব যেন আমি আর না শুনি"।

যেখানে ইচ্ছা চলে যাও বলার দ্বারা কি তালাক পতিত হবে? তালাকের নিয়তে স্বামী বলেনি। সে স্ত্রীকে কোনোভাবেই ডিভোর্স দিতে ইচ্ছুক না;যদিও তার স্ত্রী তার সাথে আর থাকতে চায় না।

Answer

উত্তর:

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় স্বামী কর্তৃক “যাও যেখানে ইচ্ছা, যার কাছে ইচ্ছা”, “যেখানে শান্তি পাও যাও”, “থাকতে না পারলে থেকো না” ইত্যাদি বাক্য তালাকের স্পষ্ট (সরীহ) শব্দ নয়; বরং এগুলো কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দ হিসেবে গণ্য হবে।

হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের নিয়ত অপরিহার্য। প্রশ্নে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে স্বামী তালাকের নিয়তে এ কথা বলেনি, বরং সে স্ত্রীকে তালাক দিতে ইচ্ছুক নয়। অতএব, এসব কথার দ্বারা কোনো তালাক পতিত হয়নি। তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক পূর্বের ন্যায় বহাল রয়েছে।

কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৪/৪৮৯): কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাকের নিয়ত ব্যতীত তালাক পতিত হয় না।
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (১/৩৭৩): “যেখানে ইচ্ছা যাও” বা “থাকতে না পারলে চলে যাও” শব্দগুলো কিনায়া, আর কিনায়ায় তালাকের জন্য নিয়ত শর্ত।
  • শরহু মা‘আনিল আসার (৩/২২৩): ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, এ ধরনের অস্পষ্ট শব্দ তালাকের নিয়ত ছাড়া তালাক সাব্যস্ত করে না।

পরামর্শ:
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে পারস্পরিক দুর্বোধ্যতা ও মানসিক চাপ রয়েছে, তা দূর করতে উভয়েরই ধৈর্য ও সৎপরামর্শের প্রয়োজন। উত্তম হবে সংশ্লিষ্ট এলাকার একজন বিজ্ঞ আলেমের সাথে সরাসরি পরামর্শ করা। আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে সুস্থতা ও শান্তি দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.