কালিমা পড়ার পর গজলের সুর দেওয়া কি কুফর

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 1366
Questioner: Salahuddin Ahmed
Question Asked: 08 Jun 2026, 12:10 PM
Reviewed & Published: 08 Jun 2026, 12:17 PM
Views: 35
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম,১. যদি কেউ কালিমা পড়ার পর মুখ বন্ধ করে কোন গজলের সুর গাইতে থাকে এ অবস্থায় মুখ বন্ধ অবস্থায় এক ধরনের আওয়াজ তৈরি হয়, তখন যদি তার মনে হয় যে এই আওয়াজ হয়ত না এর মত শুনাচ্ছে , তাহলে কি তার ঈমান ঠিক থাকবে?
২. কোন নাপাকি লেগে হাত শুকিয়ে গেলে সেই শুকনা হাত যদি আবার ঘামে ভিজে যায় তাহলে কি ওই হাতে কোন কিছু ধরলে সেই বস্তুটি কি নাপাক হবে?

Answer

প্রথম প্রশ্ন: কালিমা পড়ার পর মুখ বন্ধ করে গজলের সুরে আওয়াজ করা ও ঈমানের অবস্থা

উত্তর: মুখ বন্ধ করে কোনো গজলের সুর গাইতে থাকলে যে আওয়াজ বের হয়, তা মূলত একটি আওয়াজ মাত্র। যদি কেউ কালিমা পড়ার পর এ রকম করে এবং তার মনে হয় যে “এই আওয়াজ হয়তো আরেক রকমের শোনাচ্ছে” – এটি একটি সাধারণ ধারণা বা ওয়াসওয়াসা। যতক্ষণ পর্যন্ত তার মনে কুফরি কোনো বিশ্বাস বা ইচ্ছা না থাকে, ততক্ষণ তার ঈমান অটুট থাকে। হানাফি ফিকহ ও আকীদার মতে, অনিচ্ছাকৃত ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ ঈমান নষ্ট করে না। ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেন:

لا يزول الإيمان بالشك ولا بالوهم

অর্থ: “সন্দেহ বা কল্পনা দ্বারা ঈমান দূর হয় না।” (شرح العقیدة الطحاویة، ص ৪২)

তবে সতর্কতা হলো: ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলামী কালিমা বা পবিত্র বাক্যের সাথে খেলার মতো কোনো আওয়াজ বের করা থেকে বিরত থাকা উচিত। যদি কেউ জেনেশুনে কুরআন বা কালিমার সাথে অন্য কিছুর সুর মিলিয়ে উপহাস করে, তাহলে তা কুফরি হতে পারে। কিন্তু এখানে ব্যক্তি সেটি করেনি; তার কেবল একটি আওয়াজ শুনে মনে হয়েছে যে “মনে হচ্ছে অন্য কিছুর মতো শোনাচ্ছে” – এটি মনের একটি স্বাভাবিক ধারণা, যা ঈমানের ক্ষতির কারণ নয়।

ইবনে আবিদীন (রহ.) আল-রদ্দুল মুহতার এ কুফরির শর্ত সম্পর্কে লিখেছেন:

لا يكفر إلا إذا كان مع الاستهانة أو الاعتقاد

“কুফরী হয় না যতক্ষণ না উপহাস বা ই‘তিকাদ থাকে।” (رد المحتار، كتاب السير، باب أحكام المرتدين)

অতএব, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় তার ঈমান ঠিক থাকবে; তাকে শুধু তওবা ইস্তিগফার করে দিলেও চলবে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করাই উত্তম।


দ্বিতীয় প্রশ্ন: নাপাকি লেগে শুকিয়ে যাওয়া হাত ঘামে ভিজলে স্পর্শকৃত বস্তু নাপাক হবে কি?

উত্তর: হাতের উপর যদি নাপাকী থাকে এবং তা শুকিয়ে যায়, তবে যতক্ষণ হাত শুষ্ক থাকে, ততক্ষণ তা অন্য কোনো শুকনো বস্তুকে নাপাক করে না। কিন্তু যখন হাত আবার ঘামে বা পানিতে ভিজে যায়, তখন ঐ ঘাম বা আর্দ্রতা শুকানো নাপাকীর সাথে মিশে নাপাক হয়ে যায়। ফলে ঐ ভেজা হাত দ্বারা কোনো বস্তু স্পর্শ করলে সেই স্পর্শকৃত বস্তুও নাপাক হবে (যদি স্পর্শকৃত স্থান ভিজে যায় বা নাপাকীর প্রভাব দৃশ্যমান হয়)।

হানাফি ফিকহের কিতাব আল-হিদায়া-তে এসেছে:

وإن يبس ومسه بثوب يابس لم ينجسه، وإن مسه برطب نجسه

“যদি নাপাকি শুকিয়ে যায় এবং কোনো শুকনো কাপড় দিয়ে স্পর্শ করে, তবে তা নাপাক করে না। কিন্তু যদি ভিজা অবস্থায় স্পর্শ করে, তাহলে তা নাপাক করে দেয়।” (الهداية، كتاب الطهارة، فصل في النجاسة)

এছাড়া ফতোয়ায়ে আলমগীরীতে বলা হয়েছে:

إذا أصابت النجاسة اليد ثم جفت، فإذا عرقت صارت اليد نجسة، وكل ما تمسه من رطب ينجس

“যদি হাতে নাপাকি লাগে এবং তা শুকিয়ে যায়, অতঃপর যখন হাত ঘামে, তখন হাত নাপাক হয়ে যায়। আর ঐ ভেজা হাত যা কিছু স্পর্শ করে, তা নাপাক হবে।” (الفتاوى الهندية، كتاب الطهارة، الباب الرابع في النجاسة)

সুতরাং, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শুকনো নাপাকি হাত ঘামে ভিজে গেলে তা নাপাক হবে এবং ওই হাত দিয়ে কোনো শুকনো বস্তু ধরা হলে (যদি হাত ভেজা থাকে) বস্তুটিও নাপাক হয়ে যাবে। তবে হাতের ঘাম যদি এত কম হয় যে নাপাকির কোনো চিহ্নই বের হয়নি, তাহলে সতর্কতামূলকভাবে ধৌত করে নেওয়া উত্তম। কিন্তু মূল নীতি হলো: নাপাকির ভেজা স্পর্শই সংক্রমণ ঘটায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.