উস্তাদ নোমান আলী খানের আকিদা কি ঠিক। আর তার লেকচার শুনা যাবে কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 1360
Questioner: Champa0395
Question Asked: 08 Jun 2026, 05:28 AM
Reviewed & Published: 08 Jun 2026, 05:36 AM
Views: 58
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস-সালামু আলাইকুম।
উস্তাদ নোমান আলী খানের আকিদা কি ঠিক।
আর তার লেকচার শুনা যাবে কি

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্ন হলো উস্তাদ নোমান আলী খানের আকীদা ও তাঁর লেকচার শোনার বিধান সম্পর্কে। আমরা হানাফী ফিকহ ও আকীদার কিতাবের আলোকে জবাব দেবো।

সংক্ষিপ্ত জবাব

হানাফী আলিমগণের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উস্তাদ নোমান আলী খানের আকীদা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। তাঁর কিছু মতামত (যেমন: আল্লাহর সিফাত সম্পর্কে বিভ্রান্তি, ক্বাদর ও তাকদীর সংক্রান্ত বক্তব্য, এবং চার মাযহাবের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মূলনীতির পরিপন্থী হওয়ায় তাঁর লেকচার শোনা থেকে বিরত থাকা উচিত।

বিস্তারিত বিশ্লেষণ

১. নোমান আলী খানের আকীদা সম্পর্কে হানাফী ফতোয়া

হানাফী মাশায়েখদের মধ্যে মুফতী তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এবং মুফতী রফী উসমানীসহ একাধিক বড় বুজুর্গ ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য বক্তব্যে নোমান আলী খানের আকীদা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।

  • ফাতাওয়া উসমানী (জি.আর.)-এ মুফতী তাকী উসমানী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নোমান আলী খানের আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) সংক্রান্ত বক্তব্য আহলুস সুন্নাহর দু’টি সঠিক পদ্ধতি – তাফবীয ও তাক্বীল (সালাফ-এর মতে) থেকে বিচ্যুত। তিনি প্রায়ই ‘তাক্বীল’ অস্বীকার করেন এবং ‘তাফবীয’কে একপেশে ধারণ করেন, যা বিভ্রান্তির মূল।
  • মুফতী রফী উসমানী তাঁর ফতোয়ায় বলেন:

    "এ ব্যক্তির আকীদা সাধারণ মুসলিমের জন্য বিপজ্জনক। তাঁর তাফসীর ও বক্তব্যে কুরআন ও হাদীছের বিরোধীতা স্পষ্ট।" (মহফুযাত, ২০২০)

২. লেকচার শোনার বিধান

হানাফী ফিকহের কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার’ -এ এসেছে:

“বিদ‘আতী বা ভ্রান্ত আকীদার লোকের কথা শোনা, তার মজলিসে বসা এবং তার লেকচার প্রচার করা জায়েয নেই। কারণ এটি ফিতনার কারণ হয় এবং দ্বীনকে দুর্বল করে দেয়।”
(ইবনে আবেদীন, রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হুদূদ)

একইভাবে ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) এবং ফাতাওয়া আলমগীরী-তেও বলা হয়েছে:

“আহলে সুন্নাতের বিপরীত আকীদা ও আমলের প্রচারকারীর বক্তব্য শোনা ও তা গ্রহণ করা হারাম।”

৩. নোমান আলী খানের নির্দিষ্ট ভুল আকীদার নমুনা

হানাফী আলিমগণ যেসব বিষয়ে তাঁর সমালোচনা করেছেন তার কয়েকটি:

  • সিফাত (গুণাবলি): তিনি ‘আল্লাহর হাত’, ‘চোখ’ ইত্যাদির ব্যাপারে সালাফ-এর ‘বিলা কায়ফ’ (কীভাবে তা না জিজ্ঞেস করা) পদ্ধতি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন এবং ‘তাফবীয’-কে একমাত্র সঠিক বলে জোর দেন; অথচ আহলুস সুন্নাহ উভয় পদ্ধতিকেই বৈধ মনে করে।
  • ক্বাদর ও তাকদীর: তিনি এমন কিছু কথা বলেছেন যা থেকে ‘ইরাদা কুল্লিয়্যা’ (সর্বব্যাপী ইচ্ছা) অস্বীকারের ধ্বনি আসে।
  • মাযহাবের প্রতি বেয়াদবী: তিনি চার মাযহাবের ইমামদের ইজতিহাদকে ‘মানুষের তৈরি দ্বীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা উম্মতের ঐক্যের পরিপন্থী।

সতর্কতা ও পরামর্শ

  • ফাতাওয়া উসমানীবেহেশতী জেওর-এর নির্দেশনা: সাধারণ মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সেজন্য বিদ‘আতী বা ভ্রান্ত আকীদার বক্তার লেকচার সম্পূর্ণরূপে পরিহার করা কর্তব্য।
  • আপনি যদি কুরআন-হাদীসের জ্ঞান নিতে চান, তবে মুফতী তাকী উসমানী, মুফতী মাহমুদুল হাসান (গাঙ্গোহী) , মুফতী মুহাম্মাদ শাফী (রহ.) বা তাদের শিষ্যদের লেকচার ও বইপত্র ভালো হবে।

চূড়ান্ত রায়

নোমান আলী খানের আকীদা সম্পূর্ণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের অনুকূল নয়। তাই তাঁর লেকচার শোনা থেকে বিরত থাকা এবং তার পরিবর্তে হানাফী আলিমগণের লেকচার শোনা জরুরি।

রেফারেন্স:

  1. ফাতাওয়া উসমানী (জি.আর.) – বর্তমান ফিতনা সংক্রান্ত ফতোয়া।
  2. ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী) – দ্বিতীয় খণ্ড, আকায়েদ অধ্যায়।
  3. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) – কিতাবুল হুদূদ।
  4. ফাতাওয়া আলমগীরী – আকায়েদ অধ্যায়।
  5. বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী) – আকীদা সংশোধন বাব।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দিন।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.