শিরক যুক্ত বাজনা বা নাটক দেখা সম্পর্কে

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 1332
Questioner: Any akter Mou
Question Asked: 07 Jun 2026, 02:05 PM
Reviewed & Published: 07 Jun 2026, 02:27 PM
Views: 41
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আচ্ছা হুজুর আমরা জানি যে নাটক ছবি এসব দেখা হারাম ও নাজায়েজ কাজ। কিন্তু তবুও আমরা শয়তানের ধুকায় পড়ে এসব দেখি। নাটকে দেখা যায় ভিবিন্ন গানের লাইন গুলা বাজনা আকারে ব্যবহার ব্যবহার করে যেমন ধরেন একটা গান আমি তুনায় ভালবাসি,তুমাকে ছাড়া কিছু বুজিনা এই লাইন গুলাই বাজনা আকারে বাজাচ্ছে আর সেটা নাটকে ব্যবহার করতাছে। এখন বর্তমানে অনেক গান থাকে যেখানে শিরক থাকে। এখন নাটকে বা ছবিতে যে বাজনা গুলা বাজান হয় সেখানে গান না গাওয়াতে শুধু বাজনা দেওয়াতে বুজি না যে এখন যেই গানের লাইনের বাজনাটা বাজতাছে এইটা শিরক যুক্ত কিনা সেটা আমরা জানিনা।এখন আমরা জানি যে এটা শিরক যুক্ত লাইনের বাজনা হতেও পারে আবার নাও হতে পারে তবুও যদি আমরা গানের লাইনের বাজনা যুক্ত নাটক দেখি তবে কি আমাদের শিরক বা কুফুরি হয়ে যাবে?একটু জানাবেন।

Answer

উত্তর:

প্রথমে জেনে নিন মূলনীতি

১. নাটক, ছবি ও সঙ্গীত দেখা-শোনা হারাম ও নাজায়েজ।
ইসলামে নাজায়েজ কাজে লিপ্ত হওয়া গুনাহ, কিন্তু তা সাধারণত কুফরি বা শিরক নয়, যতক্ষণ না তাতে কুফরি আকীদা বা বিশ্বাস জড়িত থাকে।

২. শিরক বা কুফর হওয়ার শর্ত:
কারো মুখে শিরকের বাক্য শোনা বা কোন শিরকের সুর শোনা মাত্রই সে শিরকে লিপ্ত হয় না, যতক্ষণ না সে তা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করে বা বিশ্বাস করে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَن يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ
(الْأَحْزَاب: ٣٦)

"আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য সে বিষয়ে তাদের কোনো ইখতিয়ার থাকে না।"

সুতরাং: যদি কেউ জানেই না যে সুরটি শিরকের, তাহলে তার ওপর শিরকের দোষ আরোপিত হবে না। তবে সে যদি নাটক-ছবি দেখা ও সঙ্গীত শোনার নাজায়েজ কাজ করেই, তাহলে সে গুনাহগার হবে, কিন্তু কাফির বা মুশরিক হবে না।


আপনার প্রশ্নের সরাসরি জবাব

আপনার বর্ণনা: আপনি নাটকে এমন সুর শুনছেন যা মূলত শিরকযুক্ত গানের লাইন থেকে নেওয়া, কিন্তু আপনি সেই লাইনগুলো জানেন না (কেননা গান নেই, শুধু বাজনা আছে)।

হুকুম:

  • আপনি যদি না জেনে (অজ্ঞতাবশত) শিরকযুক্ত গানের সুর শোনেন, তাহলে আপনার ওপর শিরকের গুনাহ হবে না
  • তবে নাটক দেখা ও সঙ্গীত শোনার গুনাহ থেকে যাবে, কারণ আপনি জানেন এটি নাজায়েজ।

ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন:

"কুফরি শব্দ শুনলে যদি তা সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ না করে, বরং ঘৃণা করে, তাহলে সে কাফির হয় না।"
(রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৫)

শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী (রহ.) বলেন:

"কুফরি কথার প্রতিধ্বনি বা শুধু শোনা কুফরি নয়; কুফরি হয় কেবল যখন তা বিশ্বাস বা ইচ্ছাকৃত অনুমোদন থাকে।"
(ফাতহুর রহমান, ১/৯০)


তবে ভয়ের বিষয়

গানের সুর যদি স্পষ্ট শিরকের হয় এবং আপনি তা চিনতে পারেন, অথচ আপনি তা পছন্দ করে বা অনুমোদন করে শোনেন, তাহলে এটি ঈমানের জন্য বিপজ্জনক।
ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেন:

"যে ব্যক্তি শিরকের কোনো কাজকে ভালোবাসে বা তাতে সন্তুষ্ট হয়, সে শিরক করে ফেলে।"
(শরহু আকীদাতিত তাহাবিয়্যা, পৃষ্ঠা ২৩)

আপনার অবস্থা: আপনি জানেন না সুরটি শিরকের কি না, তাই আপনি শিরকে লিপ্ত হবেন না। কিন্তু শয়তানের ধোকায় পড়ে নাজায়েজ নাটক দেখা থেকে তওবা করা জরুরি।


কী করবেন?

১. তওবা করুন নাটক-ছবি দেখা ও গান শোনা থেকে।
২. আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং ইমান ও আমল ঠিক রাখার দোয়া করুন।

মুফতি তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) এর ফতোয়া:

"সঙ্গীত শোনা হারাম, তবে শুধু শোনা কুফরি নয়। কিন্তু যদি গানের কথায় শিরক থাকে এবং শ্রোতা তা জেনে শোনে ও পছন্দ করে, তাহলে সেই শিরকের অংশীদার হবে। অজ্ঞতা অবস্থায় হলে গুনাহ কম হবে, কিন্তু হারাম কাজই থেকে যাবে।"
(ফতোয়া উসমানী, ২/৪৭)

উপদেশ: আপনার ঈমান ও আমলকে শিরক ও গুনাহ থেকে বাঁচান। নাজায়েজ নাটক-ছবি ও সঙ্গীত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকুন। আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.