পাত্রী দেখার সময় প্রশ্ন না করলে পরে পাত্র কি পাত্রীর সাথে কথা বলতে পারবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
পাত্রী দেখার সময় বা তার পরে পাত্রের পাত্রীর সাথে কথা বলা জায়েয আছে, তবে কিছু শর্তের ভিত্তিতে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো—
১. ইসলামী দৃষ্টিতে পাত্র-পাত্রীর কথা বলা
ইসলামে বিয়ের প্রস্তাবের জন্য পাত্র ও পাত্রীর পরস্পর দেখা-সাক্ষাৎ ও কথা বলার অনুমতি আছে, কিন্তু তা হতে হবে শরিয়তের সীমার মধ্যে। অর্থাৎ:
- গোপনীয়তা ও খালওয়াত (একান্ত সাক্ষাৎ) থেকে দূরে: পাত্র-পাত্রীর মধ্যে কোনো মাহরাম পুরুষ বা নির্ভরযোগ্য মহিলা উপস্থিত না থাকলে একান্তে কথা বলা জায়েয নয়। হাদিসে এসেছে, কোনো পুরুষ ও মহিলা যদি একান্তে মিলিত হয়, তবে তৃতীয়জন হয় শয়তান। (তিরমিজি, ২১৬৫)
- প্রয়োজনীয় ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা: শুধুমাত্র বিয়ের প্রস্তাব ও পারস্পরিক ধর্মীয়-চারিত্রিক বিষয়াদি জানার জন্য কথা বলা জায়েয। অপ্রয়োজনীয়, লম্বা বা কামোত্তেজক কথাবার্তা নিষিদ্ধ।
- নিয়ত: কথা বলার নিয়ত হতে হবে বিয়ের জন্য উপযুক্ততা যাচাই ও ইসলামী বন্ধন গঠনের উদ্দেশ্যে, শুধু মনের ইচ্ছা বা অহেতুক সময় কাটানোর জন্য নয়।
২. পাত্রী দেখার সময় প্রশ্ন না করলে পরে কি করবেন?
পাত্রী দেখার সময় প্রশ্ন করা না করলেও পরবর্তীতে পাত্র যদি পাত্রীর সাথে কথা বলতে চান, তাহলে তা উপরোক্ত শর্ত সাপেক্ষে জায়েয। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, পাত্রী দেখার জন্য অনুমতি নেওয়া এবং তার অভিভাবকের উপস্থিতিতে দেখা-সাক্ষাৎ করাই উত্তম। পরে কথা বলার সময়েও এ আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।
৩. হানাফী কিতাবের দলিল
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): বিয়ে করার ইচ্ছা থাকলে পাত্রীর দিকে তাকানো এবং প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা জায়েয। তবে খালওয়াত (একান্ত সাক্ষাৎ) হারাম। (২য় খণ্ড, বিবাহ অধ্যায়)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি): পাত্র-পাত্রী উভয়ে যদি বিয়ের নিয়তে প্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলে, তবে তা বৈধ। কিন্তু অহেতুক বা নিষিদ্ধ বিষয়ে কথা বলা বৈধ নয়। (১ম খণ্ড, ৩০২-৩০৩ পৃষ্ঠা)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি রশিদ আহমদ লুধিয়ানভী): পাত্র-পাত্রীর মধ্যে মাহরাম ছাড়া কথা বলা জায়েয নেই, তবে বিয়ের প্রস্তাব ও প্রয়োজনীয় বিষয়ে মাহরামের উপস্থিতিতে কথা বলা জায়েয। (২য় খণ্ড, বিবাহ অধ্যায়)
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তকী উসমানী): বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পাত্র ও পাত্রীর মধ্যে মাহরামের উপস্থিতিতে সীমিত ও শালীনভাবে কথা বলা জায়েয। এটি সুন্নতের অনুকূল। (২য় খণ্ড, ২৩২ পৃষ্ঠা)
" يَجُوزُ تَكْرَارُ النَّظَرِ إِنِ احْتَاجَ إِلَيْهِ لِيَتَبَيَّنَ هيئتها ، فَلاَ يَنْدَمُ بَعْدَ النِّكَاحِ ، إِذْ لاَ يَحْصُل الْغَرَضُ غَالِبًا بِأَوَّل نَظْرَةٍ ". বারংবার দৃষ্টি দেয়া জায়েয। যাতে করে পাত্রীর পূর্ণ অবয়ব পরিস্কার ভাবে ফুটে উঠে।এবং যাতেকরে বিয়ে পরবর্তী লজ্জিত হতে না হয়।কেননা একবারের দৃষ্টি অধিকাংশ সময়ে যথেষ্ট নাও হতে পারে।(আল-মাওসুআতুল ফেকহিয়্যাহ-২২/১৭)
৪. ব্যবহারিক নির্দেশনা
পাত্র যদি পাত্রীর সাথে কথা বলতে চান, তাহলে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
- পাত্রীর অভিভাবকের অনুমতি নিন।
- যে কোনো মাহরাম পুরুষ (যেমন বাবা, ভাই) বা নির্ভরযোগ্য মহিলা (মা, বোন) সেখানে উপস্থিত থাকুন।
- কথা বলার বিষয় শুধু দ্বীন, চরিত্র, শিক্ষা, সংসার ও বিয়ের শর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন।
- অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন, হাসি-ঠাট্টা বা দীর্ঘ সময় ধরে আলাপ করা থেকে বিরত থাকুন।
সারসংক্ষেপ
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে পাত্র তার মাহরাম মহিলাকে দিয়ে পাত্রীকে সে প্রশ্নগুলি করে উত্তর জেনে নিবে। অথবা পাত্রীর কোনো মাহরাম পুরুষকে দিয়ে পাত্রীকে সে প্রশ্নগুলি করে উত্তর জেনে নিবে।
এগুলোর কোনোটি কোনোভাবেই সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে পরে আরো একবার কথা বলা জায়েয**, যদি তা শরিয়তের সীমার মধ্যে হয়।
- খালওয়াত, অশ্লীলতা ও অহেতুক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা বাধ্যতামূলক।
- মাহরামের উপস্থিতি এবং বিয়ের নিয়তই বৈধতার মূল ভিত্তি।
মোটকথা: পাত্র যদি পাত্রীর সাথে বিয়ের উদ্দেশ্যে, মাহরামের উপস্থিতিতে ও সীমিত পরিসরে কথা বলতে চান, তবে তা জায়েয ও বৈধ। কিন্তু যদি তা অহেতুক, গোপন বা কামোদ্দীপক হয়, তবে তা হারাম।