পরী (জিন) ও মানুষের শারীরিক সম্পর্ক ইসলামী দৃষ্টিতে সম্ভব কি না?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2919
Questioner: Mr Aolad
Question Asked: 20 Jul 2026, 02:51 PM
Reviewed & Published: 20 Jul 2026, 03:04 PM
Views: 89
Tokens: 2,631
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পরী ও পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক করা সম্ভব?

Answer

প্রশ্ন: পরী (জিন) ও পুরুষের শারীরিক সম্পর্ক করা সম্ভব? ইসলামী দৃষ্টিতে এর বিধান কী?

উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
আলহামদুলিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ।

পরী বলতে সাধারণত জিন জাতির নারী সত্ত্বাকে বোঝানো হয়। জিন আল্লাহর সৃষ্ট এক অদৃশ্য সৃষ্টি, যা আগুন থেকে সৃষ্ট। কুরআন ও হাদিসে জিনের অস্তিত্ব ও তাদের সাথে মানুষের সম্পর্কের কথা এসেছে। তবে জিন ও মানুষের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব কি না এবং তার ইসলামী বিধান কী—এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের কিতাবাদিতে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

১. শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব কি না?

হানাফি ফিকহের ইমামগণ ও বড় বড় মুফতিগণ (রহ) এ ব্যাপারে একমত যে, জিন ও মানুষের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব। আল্লাহ তাআলা জিনকে শক্তি ও ক্ষমতা দিয়েছেন, তারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে। তাই তারা মানুষের আকৃতিতে এসে মানুষের সাথে শারীরিক মিলন ঘটাতে পারে। অনেক সাহাবি, তাবেয়ি ও পরবর্তী আলিমগণ এ ধরনের ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য: পবিত্র কুরআনে সূরা আল-জিন ও সূরা আল-হিজরে জিনের কথা এসেছে। তাফসিরবিদগণ লিখেছেন, জিন ও মানুষের মধ্যে বিবাহ বা শারীরিক সম্পর্ক জায়েজ নয়, তবে সম্ভব বলে বর্ণিত আছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ) থেকে বর্ণিত, জিন-ইনসানের মধ্যে বিবাহ বৈধ নয়, আর শারীরিক সম্পর্কও নাজায়েজ। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটতে পারে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৮২; রদ্দুল মুহতার, ৩/৪০৫)

২. ইসলামী বিধান (হানাফি মতে):

  • বিবাহ বৈধ নয়: হানাফি মাজহাবের মত অনুযায়ী জিন ও মানুষের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয় না। কারণ বিবাহের জন্য পাত্র-পাত্রী উভয়ের সমজাতীয় হওয়া শর্ত নয়, তবে জিন-ইনসানের বিবাহের কোনো বৈধতা ইসলামি শরিয়তে নেই। ইমাম আবু হানিফা (রহ) ও তাঁর প্রধান শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ (রহ) বলেন, জিনের সাথে মানুষের বিবাহ জায়েজ নয়। (বদাইউস সানাই, ২/২৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৮২)
  • অবৈধ সম্পর্ক (যিনা): কোনো পুরুষ যদি পরী (জিন নারী) বা জিন পুরুষের সাথে ব্যভিচার করে, তবে তা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। এই কাজকে ইসলামে যিনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই কোনো উপায়ে তা জায়েজ নয়। (তাকমিলাতু ফাতহিল কাদির, ৩/৩৫৯)
  • ক্ষতি ও বিপদ: আলিমগণ সতর্ক করেছেন, জিনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। জিনের প্রভাবে মানুষ জিনে আক্রান্ত হতে পারে, মানসিক ও শারীরিক রোগে ভুগতে পারে। তাই এ বিষয়ে সম্পূর্ণ বিরত থাকা উচিত।

৩. হানাফি ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতি:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন): জিন ও মানুষের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু তা নাজায়েজ। (৩/৪০৫, বাবুন নিকাহ)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): জিন-ইনসানের বিবাহ বৈধ নয়, তবে যদি কেউ করে তবে তা ফাসেদ। (১/২৮২)
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি): জিনের সাথে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব হলেও তা সম্পূর্ণ হারাম। (২/৪২৮)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): জিন-ইনসানের সম্পর্কের কথা সহিহ, তবে তা পরিহার করা ওয়াজিব। (৪/২৫৪)

৪. গুরুত্বপূর্ণ নোট:

  • কোনো ব্যক্তি যদি দাবি করে যে সে জিনের সাথে সম্পর্ক রেখেছে, তবে তার কথা গ্রহণযোগ্য নয় unless কোনো রোগ বা অস্বাভাবিক আচরণ প্রকাশ পায়। তাহলে তাকে চিকিৎসা ও ইসলামি পরামর্শ নেওয়া উচিত।
  • জিনের অস্তিত্ব মানা ফরজ, তবে তাদের নিয়ে অতিরিক্ত কৌতূহল বা ভয় না দেখানোই উত্তম। বরং কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবনযাপন করলে জিনের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

সারসংক্ষেপ:

পরী (জিন নারী) ও পুরুষ মানুষের শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব বটে, কিন্তু শরিয়তে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। এ ধরনের সম্পর্ক যিনার অন্তর্ভুক্ত। তাই মুমিনের উচিত এ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা এবং তাওবা করা।

**আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হারাম কাজ থেকে বাচার তাওফিক দান করুক।আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.