বিদেশে দীর্ঘমেয়াদী থাকা সংক্রান্ত।

Family Life · Hanafi

Question No: 131
Questioner: Al shariya shawon
Question Asked: 16 May 2026, 03:11 PM
Reviewed & Published: 16 May 2026, 05:22 PM
Views: 28
Tokens: 2,619
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি ইসলামী ইমারত আফ*গা*নিস্তা:নকে শক্তিশালী করতে বিদেশ থাকে পড়াশুনা করে উচ্চ ডিগ্রী নিয়া phd করে আমার জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে ইমারত কে সামনে এগিয়ে নিতে চায় ।এর জন্য আমি কানাডা ইউরোপ ও পড়তে যাইতে চাই এইখান থাকে পড়া শেষ করে 9 /১০ বছর পরে ইমারত যাব।এই তাকি ঠিক আসে ।কারণ ইমারত এর উচ্চশিক্ষিত লোক প্রয়োজন
2।নাকি দেশে থেকে দ্বিনি কাজ করব

Answer

উত্তর:
আপনার নিয়ত ও উদ্দেশ্য অত্যন্ত প্রশংসনীয় যে, আপনি ইসলামী ইমারত (আফগানিস্তান) কে শক্তিশালী করতে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চান। তবে বিদেশে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষা (পিএইচডি) শেষ করে ৯/১০ বছর পর দেশে ফিরে কাজ করার পরিকল্পনা শরিয়তের দৃষ্টিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনার দাবি রাখে।

১. বিদেশে পড়তে যাওয়ার বৈধতা ও শর্তাবলী

ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা ফরজ ও সম্মানিত কাজ। তবে বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলী মেনে চলা জরুরি:

  • দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখা: যে দেশে পড়তে যাবেন, সেখানে ইসলামী জীবনযাপনের সুযোগ থাকতে হবে (হালাল খাবার, নামাজের ব্যবস্থা, পর্দা ইত্যাদি)।
  • ফেতনা-ফ্যাসাদ থেকে সুরক্ষা: পাশ্চাত্যে দীর্ঘদিন থাকলে ধর্মীয় ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি থাকে। হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত।" (আবু দাউদ)
  • নিয়তের শুদ্ধতা: আপনার নিয়ত যদি শুধু দেশের সেবা হয় এবং পড়াশোনার মাধ্যমে দ্বীনি ইলম বা প্রয়োজনীয় জ্ঞান (যেমন প্রকৌশল, চিকিৎসা, অর্থনীতি ইত্যাদি) অর্জন করে দেশে ফিরে আসা, তবে সেটা বৈধ হবে।

২. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সমস্যা

৯/১০ বছর বিদেশে থাকলে অধিকাংশ সময় অমুসলিম পরিবেশে কাটবে, যা আপনার ঈমান, আমল ও আকিদাকে দুর্বল করতে পারে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন:

"সন্দেহজনক স্থান থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।" (রদ্দুল মুহতার)

বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা কঠিন। তাই স্বল্প সময়ের (যেমন ২-৩ বছর) জন্য প্রয়োজনীয় ডিগ্রি নেওয়া বা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করাই উত্তম।

৩. দেশ থেকে দ্বীনি কাজ করার গুরুত্ব

আফগানিস্তানের মতো দেশে এখন দ্বীনি কাজের (শিক্ষা, দাওয়াত, ইকামাতে দ্বীন) প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:

"এক ঘণ্টা ন্যায়পরায়ণ শাসকের নিকটবর্তী থাকা সত্তর বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।" (তিরমিজি)

আপনি যদি দেশে থেকে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করে (যেমন কওমি মাদ্রাসায়) অথবা প্রতিষ্ঠিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশের জনগণের মাঝে কাজ করেন, তাহলে তা অধিক বরকতময় হবে।

৪. হানাফি ফিকাহর নির্দেশনা

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়ায় এসেছে: "মুসলিমদের জন্য অমুসলিম দেশে পড়তে যাওয়া জায়েয, যদি দ্বীনি বা দুনিয়াবি প্রয়োজন থাকে এবং ফেতনা থেকে বাঁচার উপায় থাকে।"
  • আল-হিদায়া: "অমুসলিম দেশে বসবাস করলে দ্বীনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা হারাম।"

পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত

আপনার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদেশে পড়তে যাওয়ার চেয়ে দেশে থেকেই দ্বীনি কাজ করা অধিক নিরাপদ ও সওয়াবের। দেশে থেকেও আপনি উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে পারেন (যেমন অনলাইনে বা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে)। তবে যদি বিদেশে যাওয়া জরুরি হয়, তবে:

  1. সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য (২-৩ বছর) বিশেষায়িত ডিগ্রি নিন।
  2. একটি শক্তিশালী দ্বীনি পরিবেশ থাকে এমন দেশ (যেমন মালয়েশিয়া, তুরস্ক) বেছে নিন।
  3. দেশে ফিরে আসার ওয়াদা করে যান এবং দ্বীনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করুন।

মহান আল্লাহ আপনার নিয়ত কবুল করুন এবং দেশের সেবা করার তাওফিক দিন। (আমিন)


বিঃদ্রঃ

  • দীর্ঘমেয়াদী বিদেশগমনের (!) চেয়ে দেশের ভেতর থেকেই ইমারত ও উম্মাহর সেবা করা উত্তম।
  • আপনার জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের কাজে লাগাতে হলে দেশের বাস্তব চাহিদা বুঝে পড়াশোনা ও কাজের পরিকল্পনা করুন।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.