বেতর নামাজ এক রাকাত পড়া যায়? বেতর পড়ার নিয়ম কী?

Salah-Prayer · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 111
Questioner: Md. Ashrafuzzaman Bhuiyan
Question Asked: 15 May 2026, 06:29 AM
Reviewed & Published: 15 May 2026, 07:30 AM
Views: 47
Tokens: 2,895
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বেতর নামাজ এক রাকাত পড়া যায়? বেতর পড়ার নিয়ম কী? অন্যান্য মাজহাবে কিভাবে পড়া হয়? তাদের বেতর নামাজ কি শুদ্ধ হয়?

Answer

উত্তর

১. এক রাকাত বেতর নামাজ পড়া কি যায়?

হ্যাঁ, এক রাকাত বেতর নামাজ পড়া জায়েজ এবং সহিহ। এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তিনি বলেছেন:

"রাতের নামাজ দু’ দু’ রাকাত করে পড়। যখন তুমি ফজরের সময় হওয়ার আশঙ্কা করবে, তখন এক রাকাত বেতর পড়ে নাও।"
(সহিহ বুখারী: ৯৯০, সহিহ মুসলিম: ৭৪৯)

এছাড়া তিনি নিজেও এক রাকাত বেতর পড়েছেন। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন:

"নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে দুই দুই রাকাত করে পড়তেন, আর শেষে এক রাকাত বেতর পড়তেন।"
(সহিহ বুখারী: ৯৯২, সহিহ মুসলিম: ৭৪৯)

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"বেতর নামাজ এক রাকাত পড়া জায়েজ, এবং এটি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। তবে উত্তম হলো তিন, পাঁচ বা সাত রাকাত পড়া।"
(মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৩/১০০)

শাইখ ইবনে বায (রহ.) এবং শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.)-ও একই মত দিয়েছেন। শাইখ আলবানী (রহ.) বলেন:

"বেতর নামাজ এক রাকাত, তিন রাকাত, পাঁচ রাকাত, সাত রাকাত, নয় রাকাত বা এগারো রাকাত—সবই জায়েজ।"
(সিফাতু সালাতিন নবী, পৃ. ১৭৮)

২. এক রাকাত বেতর পড়ার নিয়ম

এক রাকাত বেতর পড়ার নিয়ম নিম্নরূপ:

  1. নিয়ত: মনে মনে নিয়ত করা যে "আমি বেতর নামাজের এক রাকাত পড়ছি।"
  2. রুকনসমূহ: সূরা ফাতিহা পড়ার পর একটি সূরা (যেমন: সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়া। তারপর রুকু, সিজদা, শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ ও দরূদ পড়া এবং সালাম ফেরানো।
  3. কুনূত: বেতরে কুনূত পড়া সুন্নাত, তবে আবশ্যক নয়। কুনূত রুকুর আগে বা পরে পড়া যায়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনও রুকুর আগে, কখনও পরে কুনূত পড়েছেন। (সুনান আবু দাউদ: ১৪২৫, সহিহ ইবনে মাজাহ: ১১৭৯)

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহ.) বলেন:

"একাকী বেতর পড়লে এক রাকাতই যথেষ্ট। তবে তিন রাকাত পড়া অধিক উত্তম।"
(শরহুল মুমতি': ৪/৫৮)

৩. অন্যান্য মাজহাবে বেতর পড়ার পদ্ধতি

| মাজহাব | পদ্ধতি | দলিল | |------------|------------|----------| | হানাফি | তিন রাকাত এক সালামে, এক বৈঠকে তাশাহহুদ সহ। কুনূত তৃতীয় রাকাতে ফাতিহা ও সূরার পরে রুকুর আগে পড়া হয়। | তারা হাদিস গ্রহণ করেন: নবী (সা.) কখনও তিন রাকাত এক সালামে পড়েছেন। (সহিহ মুসলিম: ৭৩৭) | | মালিকি | অধিকাংশ সময় দুই রাকাত শাফ (জোড়) পড়ে এক রাকাত বেতর। তবে তিন রাকাত এক সালামেও জায়েজ। কুনূত রুকুর পরে। | মালিকি ফিকহ: "বেতর কমপক্ষে এক রাকাত।" (আল-মুদাওয়ানা) | | শাফিঈ | দুই রাকাত শাফ পড়ে এক রাকাত বেতর। অথবা তিন রাকাত দুই সালামে (দুই রাকাত, তারপর এক রাকাত)। কুনূত রুকুর পরে। | শাফিঈরা হাদিস নেন: "বেতর হলো এক রাকাত।" (সহিহ মুসলিম) | | হাম্বলি | এক রাকাত, তিন রাকাত দুই সালামে, বা পাঁচ রাকাত ইত্যাদি—সব জায়েজ। কুনূত রুকুর আগে বা পরে। | ইমাম আহমাদের মতে, সব পদ্ধতি বৈধ। (আল-মুগনী: ২/৫৯৮) |

৪. তাদের বেতর নামাজ কি শুদ্ধ?

হ্যাঁ, সব মাজহাবের বেতর নামাজ শুদ্ধ। কেননা প্রতিটি মাজহাব সহিহ হাদিসের কোনো না কোনো দিককে গ্রহণ করেছে। তবে সালাফি/আহলে হাদিস মত অনুসারে, সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো রাসূল (সা.)-এর বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করা, যা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

"সব মাজহাবের বেতর নামাজই সহিহ, যদি তারা কুরআন ও সুন্নাহর কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা অনুসরণ করে। তবে আমাদের জন্য সর্বোত্তম হলো নবী (সা.)-এর সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ।"
(মাজমুউল ফাতাওয়া: ২৩/১২৫)

শাইখ সালিহ আল-ফাওজান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"বেতর নামাজের বিভিন্ন পদ্ধতি সবই জায়েজ, কারণ নবী (সা.) থেকে এসব পদ্ধতি বর্ণিত। তাই কোনো একটি পদ্ধতিকেই ভুল বা বাতিল বলা যাবে না।"
(আল-মুনতাকা: ২/২৫২)

সারসংক্ষেপ:

  • এক রাকাত বেতর পড়া জায়েজ এবং সহিহ।
  • পদ্ধতি: এক রাকাত, ফাতিহা + সূরা, রুকু-সিজদা, তাশাহহুদ, সালাম। কুনূত ঐচ্ছিক।
  • অন্যান্য মাজহাবে বিভিন্ন পদ্ধতি আছে, সবই সহিহ হাদিসের ওপর ভিত্তিশীল।
  • তাদের বেতর শুদ্ধ, তবে উত্তম হলো রাসূল (সা.)-এর বিভিন্ন পদ্ধতি মেনে চলা।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.