যদি কোনো ব্যক্তি সুবহে সাদিকের পর ইচ্ছাকৃতভাবে খায় বা পান করে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে?

Siyam-Fasting · Hanafi

Questioner: Jannatul ferdous
Question Asked: 28 May 2026, 08:23 AM
Reviewed & Published: 28 May 2026, 09:52 AM
Views: 30
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সেহেরির সময় শেষ হয়ে যায় কিন্তু আমার বাবার প্লেটে খাবার ছিলো।
তখন তিনি বললেন, একজন হুজুর বলছেন, প্লেটের খাবার খেয়ে শেষ করলে সমস্যা হয় না।
এক্ষেত্রে তার কি রোজা সহিহ হয়েছে?

Answer

উত্তর: আপনার বাবার রোজা সহীহ হয়নি। সেহেরির সময় শেষ হওয়ার পর (সুবহে সাদিকের পর) ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খেলে রোজা ভেঙে যায় এবং তা কাজা করতে হবে। প্লেটে খাবার থাকলেও তা শেষ করার অনুমতি নেই। এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের গ্রন্থগুলোতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

প্রমাণ ও ফিকহি বিশ্লেষণ:

১. সুবহে সাদিকের পর খাওয়া-দাওয়া হারাম:
কুরআন ও হাদিসে রোজার সময়সীমা স্পষ্ট: "আর তোমরা পানাহার কর যাবত না ভোরের সাদা রেখা (রাতের) কালো রেখা থেকে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পায়। অতঃপর রোজা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত।" (সূরা বাকারা: ১৮৭)। সুবহে সাদিক (প্রকৃত ভোর) হওয়ার পর কোনো কিছু খাওয়া বা পান করা রোজা ভঙ্গের কারণ।

২. হানাফি ফিকহের মতে ভুল ধারণা:
ইচ্ছাকৃতভাবে সেহেরির সময় শেষ হওয়ার পর খাওয়া সম্পর্কে হানাফি ফুকাহা একমত যে, এতে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। "আল-হিদায়া" তে বলা হয়েছে:

"যদি কোনো ব্যক্তি সুবহে সাদিকের পর ইচ্ছাকৃতভাবে খায় বা পান করে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যায় এবং তাকে কাজা করতে হবে।" (আল-হিদায়া, ১/১২২)

"রদ্দুল মুহতার" (ইবনে আবিদীন) তেও এই মন্তব্য রয়েছে:

"সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে রোজা ভেঙে যায়, যদিও তা অল্প পরিমাণ হয়।" (রদ্দুল মুহতার, ২/৩৮০)

৩. 'প্লেটের খাবার শেষ করা' সম্পর্কিত ভুল ধারণা:
কোনো কোনো সাধারণ আলেমের কথায় এই ভুল ধারণা ছড়িয়েছে যে, 'প্লেটে সামান্য খাবার থাকলে তা খেলে রোজা ভাঙে না'। এটি সঠিক নয়। হানাফি মাজহাবে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খাওয়াই রোজা ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট, খাবারের পরিমাণ কম বা বেশি হোক।
"ফাতাওয়া আলমগীরি" তে উল্লেখ:

"সুবহে সাদিকের পর সামান্য পরিমাণ খাদ্য বা পানীয়ও ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হয়।" (ফাতাওয়া আলমগীরি, ১/১৯৮)

৪. আপনার বাবার অবস্থা:
যেহেতু তিনি জানতেন সেহেরির সময় শেষ হয়ে গেছে (অর্থাৎ ফজরের সময় প্রবেশ করেছে) এবং তারপরও তিনি হুজুরের কথায় প্লেটের খাবার খেয়েছেন, সেটা ইচ্ছাকৃতই গণ্য হবে। তাই তার রোজা নষ্ট হয়েছে।

শরয়ী সমাধান:

  • তাকে অবশ্যই এই রোজার কাজা (এক দিনের রোজা) আদায় করতে হবে।
  • যেহেতু ভুল ধারণা থেকে কাজটি করেছেন, কাফফারা (৬০ দিন রোজা) দিতে হবে না; শুধু কাজা যথেষ্ট। হানাফি মাজহাবে কাফফারা শুধুমাত্র যৌনসংগম বা ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহারের মাধ্যমে রোজা ভাঙলে ওয়াজিব হয় যখন ব্যক্তি রোজা ভঙ্গের বিধান সম্পর্কে অবগত থাকে। কিন্তু এখানে তিনি হুজুরের ভুল ফতোয়ার উপর নির্ভর করেছেন, তাই কাফফারা নেই। (বিস্তারিত: ফাতাওয়া উসমানি, ২/২১৫)

তথ্যসূত্র:

  • কুরআন (সূরা বাকারা: ১৮৭)
  • আল-হিদায়া (১/১২২)
  • রদ্দুল মুহতার (২/৩৮০)
  • ফাতাওয়া আলমগীরি (১/১৯৮)
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/২১৫)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৪০)

সতর্কতা: ভবিষ্যতে সেহেরির সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে খাবার সরিয়ে ফেলা উচিত। সাধারণ আলেমদের থেকে ভুল ফতোয়া নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য ফিকহি গ্রন্থ বা স্বীকৃত মুফতির রায় গ্রহণ করা জরুরি।

সংক্ষেপে: আপনার বাবার রোজা সহীহ হয়নি। তাকে অবশ্যই একদিন রোজা কাজা করতে হবে। আল্লাহ তাওবা কবুল করুন ও সহজ করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.