সই জাল করে তিন মাস আগে ডিভোর্স দিলে তা কি কার্যকর হবে?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে সই জাল করে মেয়ের পরিবার কর্তৃক ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন করানোকে ইসলামী শরিয়তে বৈধ তালাক হিসেবে গণ্য করা হবে না। হানাফী ফিকহ অনুযায়ী তালাকের অধিকার শুধুমাত্র স্বামীর। স্বামীর ইচ্ছা ও উচ্চারণ ব্যতীত (বা তার স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া) তৃতীয় কোনো পক্ষ তালাক দিতে পারে না। এমনকি কেউ জালিয়াতি করে রেজিস্ট্রেশন করালেও তা শরিয়তে কোনো প্রভাব ফেলে না। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই বিবাহিত অবস্থায় বহাল থাকবেন।
কারণ:
- তালাক একটি ইবাদত ও আইনী প্রক্রিয়া, যা স্বামীর ইচ্ছা ও ইজাব (উচ্চারণ) দ্বারা সম্পন্ন হয়।
- জাল সই বা প্রতারণার মাধ্যমে তালাক দলিল সম্পাদন করা সম্পূর্ণ বাতিল ও অবৈধ।
- স্বামী যদি নিজে তালাক দেয়নি, বরং তার অজান্তে পরিবার জালিয়াতি করে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে ফেলে, তাহলে তা শরিয়তে কোনো মূল্য রাখে না।
হানাফী কিতাবের আলোকে দলিল:
- রদ্দুল মুহতার (৪/৪৯২): “যে ব্যক্তি তালাক দেয়নি, তার পক্ষ থেকে তালাক পতিত হয় না।”
- ফাতাওয়া উসমানী (২/৪৬): “তালাকের জন্য স্বামীর ইচ্ছা ও উচ্চারণ জরুরি। জালিয়াতি বা বাধ্যবাধকতায় তালাক পতিত হয় না।”
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৩/৪৫২): “স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাকের দাবি বা পরিবারের জোরপূর্বক তালাক বৈধ নয়।”
মেয়ের অভিভাবকহীন বিয়ের প্রভাব:
হানাফী মতে, নারী নিজে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে তা সঠিক ও বৈধ হয়, যদি সে প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক হয়। তাই এই বিয়েটি শরিয়তে বৈধ। এখন ফুফু ও মামা অভিভাবক নন, তবে বিয়ের বৈধতায় কোনো সমস্যা নেই।
আইনি ও শরয়ী অবস্থান:
- বাংলাদেশের আইনে রেজিস্ট্রেশন করানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জালিয়াতি করে রেজিস্ট্রেশন করালে তালাক পতিত হবে না।
- স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এখনো বিবাহিত। তারা একসঙ্গে থাকতে পারেন বা ইচ্ছা হলে স্বামী নিজে সরাসরি তালাক দিতে পারেন।
উপসংহার:
মেয়ের পরিবার জাল সই করে ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশন করালেও ইসলামী শরিয়তে তা তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অটুট থাকবে। যদি স্বামী তালাক দিতে চান, তাহলে তাকে নিজেই সরাসরি তালাক উচ্চারণ করতে হবে অথবা লেখার মাধ্যমে জানাতে হবে। কিন্তু জালিয়াতি করা কোনো ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য নয়।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।