শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দান করলে (তফবীজ)তা কি প্রত্যাহার করতে পারবে?
Marriage and Divorce · Shafei
Question
**২. প্রশ্ন:** স্ত্রী পূর্বে শাফেয়ী মাযহাবের বিশ্বাসে থেকে একটি কাজ করেছিল (যেমন: স্বামীকে তালাকের অধিকার প্রত্যাহার করতে বলা এবং স্বামী তা প্রত্যাহার করা)। কিন্তু ভুলবশত একদিন এক জায়গায় হানাফী মাযহাব অনুসরণ করে বলে লিখে ফেলার কারণে স্ত্রীর মনে একটি ভুল ধারণা তৈরি হয় যে তার মাযহাব পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন সেই ভুল ধারণা থেকে স্ত্রী জানতে চায়—সে যদি হানাফী মাযহাবে চলেও যায়, তবে তার আগের শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী করা সিদ্ধান্তের কারণে স্বামীর বাতিল করা অধিকারটি কি কোনোভাবে পুনরায় স্ত্রীর কাছে ফিরে আসবে?
**৩. প্রশ্ন:** স্ত্রীর এমন ভুল ধারণা থেকে নিজের মাযহাব পরিবর্তন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী এই ধরণের প্রশ্ন করার কারণে কি আসলেই তার মাযহাব পরিবর্তন হয়ে যাবে
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নগুলোর জবাব শাফেয়ী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও ইমামদের মত অনুযায়ী নিম্নরূপ। বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আলাদাভাবে দেওয়া হলো।
১. তফবীজে তালাকের অধিকার বাতিলের বৈধতা (স্বামী অন্য মাযহাবের হলে)
উত্তর:
শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী, স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দান করলে (তফবীজ) তিনি যেকোনো সময় তা প্রত্যাহার (বাতিল) করতে পারেন, যতক্ষণ স্ত্রী সেই অধিকার ব্যবহার করেনি। মুখে বললেই তা বাতিল হয়ে যায়। স্বামীর ব্যক্তিগত মাযহাব (হানাফী হোক বা অন্য) এখানে কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ স্ত্রী শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী কাজ করেছে এবং তার ওপর শাফেয়ীর বিধান প্রযোজ্য। শাফেয়ী গ্রন্থে স্পষ্ট:
“ولو رجع الزوج عن التفويض قبل طلاقها صح رجوعه” (মুগনি আল-মুহতাজ, ৩/৪২২; তুহফাত আল-মুহতাজ, ৮/২২৩)
অর্থাৎ, “স্ত্রী তালাক দেওয়ার আগে স্বামী যদি তফবীজ প্রত্যাহার করে, তাহলে তা সহীহ।”
সুতরাং, আপনার স্বামী মুখে বলেই অধিকার বাতিল করেছেন। শাফেয়ী মতে তা বৈধ এবং অধিকার আর স্ত্রীর কাছে ফিরে আসবে না।
২. স্ত্রী হানাফী মাযহাবে চলে গেলে কি পূর্বের বাতিলকৃত অধিকার ফিরে আসবে?
উত্তর:
না, পূর্বের শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী স্বামী কর্তৃক তালাকের অধিকার বাতিল করার সিদ্ধান্ত বৈধ ছিল এবং তা আর ফিরে আসবে না। মাযহাব পরিবর্তন অতীতের বৈধ কাজকে অকার্যকর করে না। ইমাম নববী (রহ.) বলেন:
“إذا صح العقد أو التصرف في مذهب المكلف، ثم انتقل إلى مذهب آخر، لا يبطل ما سبق.” (আল-মাজমূ‘, ১/৫৯)
অর্থাৎ, “যদি কোনো ব্যক্তি নিজ মাযহাব অনুযায়ী কোনো কাজ বৈধভাবে সম্পন্ন করে, পরে অন্য মাযহাবে চলে গেলে তা পূর্বের বৈধতাকে নষ্ট করে না।”
সুতরাং, আপনি হানাফী মাযহাবে চলে গেলেও শাফেয়ী মতে বাতিলকৃত অধিকার পুনরায় ফিরে আসবে না। তবে ভবিষ্যতে হানাফী মতে আমল করলে আপনাকে সে অনুযায়ী চলতে হবে।
৩. ভুল ধারণা বা লিখে ফেলায় কি মাযহাব পরিবর্তন হয়?
উত্তর:
শুধু ভুলবশত কোনো জায়গায় ‘আমি হানাফী’ বলা বা লিখে ফেলায় মাযহাব পরিবর্তন হয় না। মাযহাব পরিবর্তনের জন্য অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস ও নিয়ত জরুরি। ইমাম আল-বাইজাবী (রহ.) বলেন:
“الانتقال من مذهب إلى مذهب لا يتحقق إلا بالنية والعمل به.” (তুহফাত আল-মুহতাজ, ৬/২৩৪)
অর্থাৎ, “এক মাযহাব থেকে অন্যটিতে যেতে নিয়ত ও সে অনুযায়ী আমল করতে হয়।”
আপনার লেখাটি যদি কেবল ভুল বা অজ্ঞানতার কারণে হয়, তাহলে তা মাযহাব পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং আপনি শাফেয়ীই রয়েছেন। তবে যদি আপনার মন হানাফী মাযহাব গ্রহণে সন্তুষ্ট হয় এবং আপনি সে অনুযায়ী আমল করতে ইচ্ছুক হন, তাহলে তা পরিবর্তন বলে গণ্য হবে।
উপদেশ:
মাযহাব পরিবর্তন ব্যাপারটি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি শাফেয়ী মাযহাবেই স্থির থাকতে পারেন এবং যদি কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি থাকে তবে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের শরণাপন্ন হোন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ এবং সর্বোত্তম বিধানদাতা।