রাষ্ট্রীয় একটি নির্দিষ্ট বয়স বা ব্যক্তি ধারণা থেকে একটি বয়সকে বিয়ের বয়স হিসেবে মনে করা কি বৈধ?

Faith and Belief · Hanafi

Questioner: Ahmed
Question Asked: 28 May 2026, 10:42 PM
Reviewed & Published: 28 May 2026, 11:01 PM
Views: 56
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

১/ ইসলামে বালেগ হওয়াকে ছেলে মেয়ের বিয়ের বয়স হিসেবে দেখা হয়। সে ক্ষেত্রে মেয়েরা সাধারণত ৯ বছর এবং ছেলেরা ১২ বছরে সাধারণত বালেগ হয়। এখন আমাদের আধুনিক সমাজে অনেকে মনে করে যে ৯ বছর বা ১২ বছর অর্থাৎ ১৮ বছরের নিচের বয়সে মেয়ে বা ছেলেদের বিয়ে বিয়ের উপযুক্ত বয়স নয়। এমন অবস্থায় কেউ যদি বালেগ হওয়া নয় বরং কোনো রাষ্ট্রীয় একটি নির্দিষ্ট বয়স বা ব্যক্তি ধারণা থেকে একটি বয়সকে বিয়ের বয়স হিসেবে মনে করে, তাহলে ইসলামের নিয়ম অস্বীকার বা অবিশ্বাস করার জন্য সে কি ঈমান হারা হবে?

২/ ইসলামে ইনসাফ বজায় রেখে ছেলেদেরকে চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এখন যদি কেউ আমভাবে মনে করে যে ছেলেদের একাধিক বিয়ে করা উচিত নয়, তাহলে কি সে হালালকে হারাম মনে করার কারণে ঈমান হারা হবে?

৩/ আল্লাহ নারীদের জন্য ঘরকে উত্তম করেছে। কেও যদি মনে করে যে, মেয়েদের জন্য ঘর নয় বরং বাইরে কর্মজীবনে প্রবেশ করা উত্তম তাহলে কি সে ঈমানহারা হবে?

৪/ কেউ যদি এমন কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন করে এবং এমন কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করে যাদের রাজনৈতিক আদর্শে কুফর রয়েছে (যেমন: সেকুলারিজমে বিশ্বাস, শরিয়া আইন অস্বীকার করা) তাহলে কি সে গুনাহগার হবে? সে যদি উক্ত দলের আদর্শ না জেনেই আদর্শে বিশ্বাসী হয়, তাহলে সে কি ইমান হারা হবে?

Answer

উত্তর:
প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচে দেওয়া হলো। প্রতিটি উত্তর হানাফি ফিকহ ও আকীদার কিতাবের আলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে।


১/ বিয়ে ও বয়স সংক্রান্ত প্রশ্ন

ইসলামে বালেগ হওয়া (পুংগত্বে পৌঁছা) বিয়ের জন্য শর্ত। হানাফি মতে, ছেলেদের বালেগ হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ১২ বছর এবং মেয়েদের ৯ বছর (যদিও ১৫ বছর পূর্ণ হলেই বালেগ ধরা হয়, তবে কেউ আগে বালেগ হলে তাকে বালেগই গণ্য করা হবে) – (আল-হিদায়া, ১/২৩; রদ্দুল মুহতার, ১/৪২৫)

যদি কেউ ইসলামের এই বিধান (বালেগ হওয়ার পর বিয়ে জায়েজ) অস্বীকার করে এবং সেটিকে হারাম বা অবৈধ মনে করে, কারণ সে একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রীয় বয়স (যেমন ১৮ বছর) বিয়ের জন্য বাধ্যতামূলক মনে করে, তাহলে এটি সুস্পষ্ট হালাল (বিয়ের অনুমতি)কে হারাম করা বা ইসলামি বিধানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নামান্তর। এমনটি করলে ব্যক্তি যদি জেনে-বুঝে শরিয়তের এই বিধানকে অবজ্ঞা করে, তাহলে তার ঈমান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫৪২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৪৪৬)। তবে যদি শুধু ব্যক্তিগত মতামত বা যুগ-সমাজের প্রেক্ষাপটে বালেগ হলেও বিয়ে স্থগিত রাখাকে উত্তম মনে করে, কিন্তু ইসলামি বিধানকে মিথ্যা না ভাবে, তাহলে তা গুনাহের কারণ হতে পারে, কিন্তু ঈমান হারা হবে না। (আল্লাহই ভালো জানেন।)


২/ একাধিক বিয়ে সংক্রান্ত প্রশ্ন

ইসলামে ইনসাফের শর্তে চারটি পর্যন্ত বিয়ে বৈধ (সূরা নিসা: ৩)। যদি কেউ এই বৈধতাকে আমভাবে অস্বীকার করে এবং মনে করে যে পুরুষের একাধিক বিয়ে করা হারাম বা অনুচিত, তাহলে সে হালালকে হারাম সাব্যস্ত করছে, যা কুফরি হতে পারে (ফাতাওয়া আলমগীরী, ২/২৩৭; রদ্দুল মুহতার, ৪/৫০)। কিন্তু যদি কেউ মনে করে যে একাধিক বিয়ে কেবল তার ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে ভালো নয় (অর্থাৎ এটি হারাম মনে না করে) কিন্তু শরিয়তে জায়েজ আছে জানার পরেও তা অপছন্দ করে, তাহলে এটি কুফর নয়; তবে অপছন্দ করার কারণে তাকে গুনাহগার হতে পারে যদি তা সুস্পষ্ট শরিয়তের বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ হয় (ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫৪৩)


৩/ নারীদের জন্য ঘর উত্তম vs. বাইরে কাজ

আল্লাহ তাআলা নারীদের জন্য ঘরকে উত্তম জানিয়েছেন (سورة الأحزاب: 33:33)। তবে প্রয়োজনবোধে নারীদের ঘর থেকে বের হওয়া ও বৈধ পেশায় কাজ করার অনুমতি আছে, বিশেষ করে যখন সে একা থাকে বা অভাব থাকে। যদি কেউ ইসলামি ফয়সালাকে অস্বীকার না করে শুধু নিজের ধারণায় মনে করে যে নারীদের জন্য বাইরের কর্মজীবনই বেশি উত্তম, তাহলে এটি ভুল ধারণা ও গুনাহের কারণ হতে পারে, কিন্তু ঈমান হারা হবে না। তবে যদি কেউ ঘরকে উত্তম বলার আল্লাহর হুকুমকে মিথ্যা বা অবজ্ঞা করে এবং নিজের মতকে উত্তম মনে করে, তাহলে তা কুফরি পর্যায়ে পৌঁছতে পারে (মাআরিফুল কুরআন, ৭/২৭৯; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৫৪৪)। সাধারণত সাধারণ মুসলমান এ নিয়ে ভুল করলে তাকে দাওয়াত দিতে হবে, কুফরের ফতোয়া দেয়া যাবে না যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে শরিয়তের বিধানকে অস্বীকার করছেন।


৪/ কুফরি আদর্শের রাজনৈতিক দল সমর্থন

কোনো রাজনৈতিক দল যদি স্পষ্ট কুফরি আদর্শ (যেমন ধর্মনিরপেক্ষতা মানা, শরিয়ত আইন অস্বীকার করা, আল্লাহর বিধানকে বাতিল বলা) পোষণ করে, তাহলে যুক্ত দলের আদর্শে বিশ্বাসী হওয়া বা সেই আদর্শকে সঠিক মনে করে সমর্থন করা ঈমান খারিজের কারণ (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৪৪২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৫১০)। যদি কেউ সেই দলের আদর্শ না জেনে বা না মেনে শুধু দুনিয়াবি স্বার্থে বা অন্য কারণে সমর্থন করে (যেমন চাকরি, সুবিধা), তাহলে সে গুনাহগার হবে, কিন্তু ঈমান হারা হবে না—যদি না তার অন্তরে কুফরি বিশ্বাস স্থান পায় (ফাতাওয়া উসমানী, ১/৪৪৩; রদ্দুল মুহতার, ৩/৪৪৬)। তবে মুসলিমের জন্য এমন দলকে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক, যাতে শিরক-কুফরকে সহায়তা না হয়।


উপসংহার:

  • যেকোনো ইসলামি বিধানকে জেনে-শুনে, সুস্পষ্টভাবে অস্বীকার করা বা হালালকে হারাম, হারামকে হালাল বলা ঈমান নষ্ট করে।
  • ব্যক্তিগত মতামত, অপছন্দ বা যুক্তিসম্মত আপত্তি (যা শরিয়তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে মিথ্যা না করে) সাধারণত কুফর নয়; তবে ভুল ধারণা ও পাপ থেকে নিজেকে বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ।

(والله أعلم بالصواب)



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.