সালাতুত তাসবীহ নামাজ কি সহীহ
Faith and Belief · Default · Questioner: Super Admin · 09 May 2026 · 3 views
Question
Answer
সালাতুত তাসবীহ নামাজ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য দলিল ও উলামায়ে কেরামের মতামতের ভিত্তিতে নিম্নোক্ত তথ্য প্রদান করা হলো:
হাদীসের সনদ ও গ্রহণযোগ্যতা: সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কিত প্রধান হাদীসটি হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, মিশকাত প্রভৃতি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এই হাদীসের সনদে কিছু বিতর্ক রয়েছে। মুহাদ্দিসগণের মধ্যে অধিকাংশই একে জয়ীফ (দুর্বল) বলে আখ্যায়িত করেছেন, যেমন ইমাম বুখারী, ইমাম আহমদ, ইমাম দারাকুতনী, হাফিজ ইবনে হাজার, আলবানী প্রভৃতি। তবে কিছু মুহাদ্দিস, যেমন ইমাম তিরমিযী, ইমাম আবু দাউদ, ইমাম বায়হাকী প্রভৃতি এ হাদীসকে হাসান বা গ্রহণযোগ্য বলেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, “এ হাদীসটি গরীব, কিন্তু আমরা এটিকে ফাযায়েলের কাজে ব্যবহার করি।”
মাযহাবের মতামত (প্রধান চার মাযহাবের জমহুর অভিমত):
- হানাফী মাযহাব: সালাতুত তাসবীহকে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) বা জায়েয মনে করা হয়। ফকীহরা বলেন, এই নামাজ পড়া জায়েয, তবে একে ওয়াজিব বা সুন্নতে মুআক্কাদা মনে করা উচিত নয়।
- শাফেয়ী মাযহাব: সাধারণত মুস্তাহাব হিসেবে গণ্য। ইমাম নববী সহ অনেক শাফেয়ী আলিম একে উৎসাহিত করেছেন।
- হাম্বলী মাযহাব: ইমাম আহমদের থেকে দুইটি বর্ণনা আছে। অধিকাংশ হাম্বলী ফকীহ একে জায়েয মনে করলেও কেউ কেউ দুর্বলতার কারণে অপছন্দ করেছেন। তবে ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও ইমাম ইবনে কুদামা (রহ.) একে অনুমোদন দিয়েছেন।
- মালেকী মাযহাব: অধিকাংশ মালেকী আলিম একে বিদ‘আত বা অপছন্দনীয় বলেছেন, কারণ তাঁদের মতে হাদীসটি দুর্বল এবং এটি নির্দিষ্ট নিয়মে কোনো নামাজ সাহাবা বা তাবেঈন থেকে প্রমাণিত নয়। তবে কিছু মালেকী আলিম অনুমতি দিয়েছেন।
সালাফি/আহলে হাদীস দৃষ্টিভঙ্গি: শায়খ আলবানী (রহ.) সহ অনেক মুহাদ্দিস হাদীসটিকে জয়ীফ ঘোষণা করে তা পড়াকে বিদ‘আত বলেছেন। তবে অনেক সালাফী আলিম (যেমন ইবনে বায, ইবনে উসাইমীন) বলেছেন, হাদীসটি দুর্বল হলেও কিছু সনদের সমর্থনে এটি ফাযায়েলের জন্য আমল করা যায়, তবে একে সুন্নত মনে না করে মাঝে মাঝে পড়া যেতে পারে।
সারসংক্ষেপ ও উত্তর: সালাতুত তাসবীহ সম্পর্কিত হাদীসটি সহীহ (শক্তিশালী) নয়; বরং অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে এটি দুর্বল (জয়ীফ) । তবে দুর্বল হলেও এটি মিথ্যা বা জাল নয় (মাউযূ নয়)। অনেক ইমাম ও ফকীহ ফাযায়েলের আমল হিসেবে এবং নামাজের মূল কাঠামো কুরআন-সুন্নাহর বিপরীত না হওয়ায় এ নামাজ পড়াকে জায়েয বলেছেন। অন্যদিকে কঠিন সনদগত মানদণ্ডের কারণে কেউ কেউ একে বিদ‘আত বলেও প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সুসংগত ও ভারসাম্যপূর্ণ উত্তর: সালাতুত তাসবীহ নামাজ সহীহ বা বাধ্যতামূলক সুন্নত নয়, বরং এটি জায়েয (অনুমোদিত) । যদি কেউ একে নফল নামাজ হিসেবে, হাদীসের দুর্বলতা জেনেও ফযীলতের আশায় সালাম ও বিবর্ণ ধারণার ভিত্তিতে পড়ে, তাহলে তা জায়েয হবে, তবে একে সুন্নতে মুআক্কাদা বা ওয়াজিব মনে করা যাবে না। যারা একে দুর্বল হাদীসের কারণে সম্পূর্ণ বিদ‘আত মনে করেন, তাদের মতামতকেও সম্মান করতে হবে। তাই বলতে পারি: এটি সহীহ হাদীসের সুন্নত নয়, তবে অধিকাংশ হানাফী-শাফেয়ী আলিমের মতে জায়েয ও পছন্দনীয়। নিজ মাযহাবের ওলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমল করাই উত্তম।