পূর্বের ফাতাওয়ার উপর কি আমল করা যাবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: Nabila
Question Asked: 29 May 2026, 10:42 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 10:19 PM
Views: 42
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। ২৩ মার্চ ২০২৬ বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগেই আমার হাসবেন্ড কে বুঝিয়েছিলাম ১৮ নং কলাম কি। সে জেনেছিল, বুঝেছিল, আর আমাকে বলেছিল আমাকে এই অধিকার দিবে না। কিন্তু কাজি কিছু না বলেই ১৮ নং কলামে অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। আর কিছু শর্ত লিখেছে। এগুলা কাজি বিয়ে পড়িয়ে বাড়িতে যেয়ে লিখেছে। *কিন্তু আমাদের ইজাব কবুলের পরেই লিখেছিল* বিয়ের ৩ দিন পরে যখন কাবিন নামা হাতে পেলাম তখন দেখলাম। অনুমতি দেয়া। বিয়ের দিন আমাকে আর আমার হাসবেন্ড কে শুধু বলছে সাইন করতে। আমরা সাইন করেছি।
আমার হাসবেন্ড এর নিয়ত ছিল সে আমাকে কোনো অধিকার দিবে না, তাই সে কিছু না দেখেই সাইন করে দিয়েছে কাবিন নামা তে।

১) এখন আমি কি অধিকার পাবো? একজন মুফতি বলেছিলেন যে, হাসবেন্ড যদি আগে থেকে জানে, জেনে সাক্ষর করে তাহলে নাকি অধিকার পাবে। হুজুর আমার হাসবেন্ড তো জানে এই বিষয়ে, তাও বিয়ের দিন খেয়াল করে নাই কাজি কি লিখছে। কিন্তু আমার হাসবেন্ড এর বিয়ের আগে থেকেই নিয়ত আমাকে কোনো অধিকার দিবে না।

২) আমি তাকে বিয়ের ৪ দিন পরে জিজ্ঞেস করি যে, আচ্ছা তুমি তো আমাকে কোনো অধিকার দাও নাই। তাই না? তখন আমার হাসবেন্ড ম্যাসেজ এ বলছে যে, 'না দেই নাই তো'। ম্যাসেজ এ লিখলে হবে? নাকি মুখে উচ্চারণ করে বলতে হবে অধিকার না দেয়ার কথা?
৪) যখন সাইন করেছে তখন কিছু লিখা ছিল না। বিয়ে পড়ানোর পরে কাজি লিখেছে বাড়িতে যেয়ে। আমার জামাই না দেখেই সাইন করেছে কিন্তু আমি পরে কাজির থেকে সিউর হয়েছি উনি বিয়ে পড়িয়ে লিখেছিলেন এই ১৮ নং কলাম। এখন আমি কি অধিকার পাবো?


৪) এখন এই অধিকার না দেয়া কি বিয়ের দিন থেকে ধরা হবে? নাকি বিয়ের ৪ দিন পর থেকে ধরা হবে? যেহেতু বিয়ের ৪ দিন পরে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তার মনে বিয়ের আগে থেকেই নিয়ত ছিল আমাকে কোনো অধিকার দিবে না।


৫) আপনাদের সাইটে ১৮ নং কলাম নিয়ে প্রশ্ন খুজে পড়ার সময় মুখে উচ্চারণ করে অনেক কিছু পড়ে ফেলি। যেগুলো নরমালি বলা যায় না। এগুলো তে কি কোন সমস্যা হবে? আমি তো নিজে এগুলো বলতেছি না। শুধু আপনারা কি উত্তর দিয়েছেন সেটা জানার জন্য পড়ি।

নতুন বিয়ে। জীবন টা চাই শান্তির হোক। দয়া করে উত্তর দিবেন হুজুর।
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। বিয়ের কাবিননামার ১৮ নং কলাম বাংলাদেশের প্রচলিত বিয়ের নিবন্ধনে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদানের বিষয়টি নির্ধারণ করে। আমরা হানাফি মাজহাব অনুযায়ী আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন ১: আমি কি অধিকার পাবো? (স্বামী আগে থেকে জানত কিন্তু সাক্ষর করার সময় খেয়াল করেনি)
উত্তর:
হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, যদি স্বামী কাবিননামায় সাক্ষর করে এবং সে জানে যে এতে তালাকের অধিকার প্রদানের শর্ত আছে (১৮ নং কলাম), তাহলে তা বৈধ হবে এবং স্ত্রী সেই অধিকার পাবে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে: সাক্ষর অবশ্যই ইজাব-কবুলের পর এবং কাজি/নিকাহ রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হতে হবে।

আপনার বর্ণনা মতে, কাজি বিয়ে পড়ানোর পর বাড়িতে গিয়ে শর্ত লিখেছেন, কিন্তু সাক্ষর নিয়েছেন বিয়ের দিন। এই সাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না।

👉 আপনার ক্ষেত্রে:

স্বামী পূর্ব থেকেই যেহেতু অধিকার দেয়ার পক্ষে ছিলেন না, এবং সাক্ষর করার সময়ও স্বামীর নিয়তে তালাকের অধিকার প্রদানের কোনো চিন্তা ভাবনা ছিলনা, তাই স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না।
কাজি ইজাব-কবুলের পর শর্ত লিখেছে, তাই সাক্ষরটি নিকাহের অংশ হিসেবেই গণ্য হবে না।
সুতরাং, আপনি তালাকের অধিকার পাবেন না।
প্রশ্ন ২: স্বামী ম্যাসেজে বলেছে "না দেই নাই তো" – এটি কি শর্ত না দেওয়ার জন্য যথেষ্ট?
উত্তর:
স্বামী ম্যাসেজে বলেছে "না দেই নাই তো" এদ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবেনা।

প্রশ্ন ৩: স্বামী সাক্ষর করার সময় কিছু লেখা ছিল না, পরে কাজি বাড়িতে গিয়ে লিখেছেন – এতে কি অধিকার হবে?
উত্তর:
না, এতদ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবেনা।

প্রশ্ন ৪: অধিকার না দেওয়ার ঘোষণা কি বিয়ের দিন থেকে ধরা হবে নাকি ৪ দিন পর থেকে?
উত্তর:
অধিকার না দেওয়ার ঘোষণা বিয়ের দিন থেকে ধর্তব্য।

প্রশ্ন ৫: আপনার সাইটে ১৮ নং কলাম নিয়ে পড়ার সময় মুখে উচ্চারণ করে কিছু বলা – এতে কি গোনাহ হবে?
উত্তর:
না, এতে কোনো গোনাহ হবে না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
না, আপনি তালাকের অধিকার পাবেন না।
ম্যাসেজ যথেষ্ট, অধিকার অর্জন হবে না।।
সাক্ষরের সময় ফাঁকা থাকলে, আপনি অধিকার পাবেন না।
অধিকার বিয়ের দিন থেকেই কার্যকর।
ফতোয়া পড়তে গিয়ে মুখে উচ্চারণ করলে গোনাহ নেই, তবে সতর্ক থাকবেন।


১)))) আমার প্রশ্ন হলো আমি কি আপনার উত্তর এর উপর আমল করতে পারবো? যে আমি অধিকার পাই নাই। নাকি আমার আরো কারো কাছে যেয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে হবে?

Answer

উত্তরের সারসংক্ষেপ

আপনার প্রশ্নের উত্তর হলো: আপনি পূর্বের দেওয়া ফতোয়ার উপর নির্ভর করে আমল করতে পারেন। এটি হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে এবং তা নির্ভরযোগ্য। তবে, যদি আপনার মনে কোনো দ্বিধা থাকে বা আপনি আরও নিশ্চিত হতে চান, তাহলে সরাসরি কোনো স্থানীয় আলেম বা মুফতির কাছে গিয়ে পরামর্শ নেওয়াই উত্তম। নিচে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।


১. ফতোয়ার উপর আমল করা যাবে কি?

হ্যাঁ, আপনি পূর্বের উত্তর অনুযায়ী আমল করতে পারেন। কারণ:

  • ফতোয়াটি হানাফি মাজহাবের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও উসুল অনুসারে প্রণীত হয়েছে।
  • প্রশ্নের প্রতিটি দিক (স্বামীর নিয়ত, সাক্ষরের সময় ফাঁকা থাকা, কাজির লিখন প্রক্রিয়া ইত্যাদি) বিবেচনা করে উত্তর দেওয়া হয়েছে।

৪. আপনার জন্য চূড়ান্ত পরামর্শ

১. আপনি পূর্বের ফতোয়া অনুযায়ী আমল করতে পারেন, অর্থাৎ আপনি তালাকের অধিকার পাচ্ছেন না। তাই এই সম্পর্কে আপনার স্বামীর সাথে পুনরায় আলোচনা করা বা দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না করাই উত্তম। ২. যদি আপনার ভেতরে অস্বস্তি থাকে, তাহলে আপনার এলাকার কোনো মুফতি বা ইফতা বিভাগে সরাসরি যোগাযোগ করুন। সেখানে আপনার কাবিননামা ও কাজির লিখিত শর্ত দেখিয়ে পরামর্শ নিন। ৩. সবসময় মনে রাখবেন, ইসলাম শান্তি ও সমঝোতার পথকে উৎসাহিত করে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আপনার স্বামীর সাথে ঝগড়া বা অশান্তি না করাই ভালো। বরং, একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করুন।


আল্লাহ তাআলা আপনার সংসারে শান্তি ও বরকত দান করুন।
(والله أعلم بالصواب)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.