নফল নামাজে হাই তোলার সময় মনে মনে খারাপ চিন্তা আসা এবং মুখ হা করে জিহবা নাড়িয়ে তা চেক করার বিধান,

Faith and Belief · Hanafi

Questioner: Riha Moni
Question Asked: 28 May 2026, 02:55 PM
Reviewed & Published: 28 May 2026, 03:16 PM
Views: 46
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
হুজুর আমি রাতে এমনি নফল নামাজ পড়তেছিলাম। পড়ে আমার নামাজে হাই ঊঠছে, আমি মুখ হা করে হাই তুলতেছি নামাজেই। যখনই মুখ হা করলাম তখন ই আমার মনে মনে আল্লাহ কে নিয়ে বাজে কথা আসলো। আস্তাগফিরুল্লাহ। এখন আমার মনে হইতেছে মুখেই বলে ফেললাম কিনা। অনেক কষ্ট করে মন কে বুঝাইলাম মুখে কিছু বলি নাই।

তাও মন মানে না। পরে নামাজ শেষ করে আবার কয়েকবার মুখ হা করে জিহবা নাড়িয়ে বাজে কথা গুলা বলেছি মনে মনে। দেখতে সাউন্ড হয় কিনা। খেয়াল করলাম জাস্ট জিহবা নড়ে, অন্য কোনো সাউন্ড হয় নাই। এভাবে কয়েকবার ইসলাম নিয়ে বাজে কথা গুলা বললাম জিহবা নাড়ায়ে। শুধু চেক করার জন্য সাউন্ড হয় কিনা। আমার অনেক খারাপ লাগতেছে হুজুর।

♦️এই প্রশ্নের উত্তরে সম্মানিত মুফতি সাহেব বলেছেন যে, " মুখ না খুলে শুধু জিহবা নাড়ালে সেটাকে কথা ধরা হবে না"। কিন্তু হুজুর আমি যখন চেক করতাম তখন তো মুখ খুলেই মানে হা করে জিহবা নাড়িয়ে বাজে কথা গুলা বলে চেক করেছি। জোরে জোরে নিশাস নিতাম। শুধু নিশাসের শব্দ শুনা যেত। আর কোনো সাউন্ড হয়নি। ♦️

১) এভাবে হা করে জিহবা নাড়িয়ে, নিশাসের সাথে মনে মনে বাজে কথা গুলা বলে চেক করার কারনে এগুলা কি কথা ধরা হবে?

২)বার বার চেক করার কারনে কি আমার ঈমানে কোনো সমস্যা হবে?
৩) আমার ঈমান আর বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে?

Answer

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় ভাই/বোন, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে কষ্টদায়ক এবং শয়তানের পক্ষ থেকে একটি কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা)। দয়া করে নিচের উত্তরগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ুন এবং আশা করি আপনার মন শান্তি পাবে।

প্রথম প্রশ্নের উত্তর: হা করে জিহবা নাড়িয়ে, নিশাসের সাথে মনে মনে বাজে কথা বলার কারণে সেটা কথা হিসেবে গণ্য হবে কিনা?

ইসলামী ফিকহের মূলনীতি অনুসারে, কেবলমাত্র জিহবা নাড়ালে এবং নিঃশ্বাসের শব্দ ছাড়া অন্য কোনো স্পষ্ট শব্দ বা উচ্চারণ (যেমন: অক্ষর বা শব্দের ধ্বনি) না বের হলে, সেটাকে কথা বলা গণ্য করা হবে না। নামাজের ভেতরে বা বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই এই হুকুম প্রযোজ্য। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ শুনেছেন, কোনো অক্ষর বা শব্দের স্পষ্ট ধ্বনি না হওয়ায় সেটা কথা হিসেবে গণ্য হবে না। তাই এজন্য আপনার নামাজ নষ্ট হয়নি, এবং আপনার কোনো গুনাহও হবে না। (দ্রষ্টব্য: আল-হিদায়াহ, রদ্দুল মুহতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া - কিতাবুস সালাত, অধ্যায়: নামাজ ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ)

দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর: বার বার চেক করার কারণে কি ঈমানের কোনো সমস্যা হবে? এবং আমার ঈমান ও বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে?

আপনি এখানে যে কাজ করেছেন (মনে মনে বাজে কথা চেক করা) সেটা শয়তানের প্ররোচনা (ওয়াসওয়াসা) মাত্র। শরিয়তে কেবল মনে মনে কোনো খারাপ চিন্তা আসা বা জিহবা নাড়ানোকে (যা কথা হিসেবে গণ্য নয়) গুনাহ বা ঈমান নষ্টের কারণ ধরা হয় না। হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের অন্তরে যেসব কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) আসে, সেগুলো ক্ষমা করে দেন, যতক্ষণ না সে সেগুলো মুখে বলে বা কাজে পরিণত করে।" (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)

সুতরাং:

  1. বার বার চেক করার কারণে আপনার ঈমানের কোনো সমস্যা হবে না। এটি শুধু শয়তানের একটি ফাঁদ, যা আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিতে চায়।
  2. আপনার ঈমান ও বিবাহিত জীবন সম্পূর্ণ ঠিক আছে। কোনোভাবেই এসব ওয়াসওয়াসার কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আপনি যদি সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বারবার চেক করতে থাকেন, তবে তা শুধু আপনার জন্য কষ্টদায়ক হবে, বাস্তবে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না।

শেষ কথা ও পরামর্শ: আপনার উচিত এই বিষয়গুলো নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করা। যখনই এরকম চিন্তা আসবে, তখন 'আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম' পড়ুন এবং অন্য কোনো ভালো কাজে মনোযোগ দিন। নিশ্চিত থাকুন, আপনি যদি মুখে বা কাজে তা প্রকাশ না করেন, তবে আল্লাহ আপনার অন্তরের দুর্বলতাকে ক্ষমা করে দেবেন। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে বারবার তওবা করতে থাকুন। আপনার ঈমান আগের মতোই অটুট আছে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.