কুরবানির জন্য কেনা গরু কোনো কারণে জবাই না করলে পরবর্তীতে পারিবারিক অনুষ্ঠানে জবাই করে ব্যবহার করা যাবে কি ?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Questioner: Sofikul Mallick
Question Asked: 31 May 2026, 10:28 AM
Reviewed & Published: 31 May 2026, 12:29 PM
Views: 44
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এক ব্যক্তি কুরবানির নিয়তে একটি গরু ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু সরকারি বিধি-নিষেধ বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সেই গরুটি কুরবানি দিতে পারেননি। পরে তিনি তার পরিবর্তে একটি ছাগল কুরবানি করেন। এখন ওই গরুটি তার মালিকানায় জীবিত আছে। পরবর্তীতে তার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবারের জন্য গরুটি জবাই করে এর গোশত ব্যবহার করা কি শরিয়তসম্মত হবে? নাকি কুরবানির নিয়তে কেনা হওয়ার কারণে গরুটির ব্যাপারে অন্য কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে? অনুগ্রহ করে ফিকহের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন।

Answer

প্রশ্নের উত্তর:
আপনার বর্ণিত ঘটনায় ব্যক্তিটি কুরবানির নিয়তে গরুটি ক্রয় করলেও পরবর্তীতে সরকারি বিধিনিষেধের কারণে তা কুরবানি করতে পারেননি এবং তার পরিবর্তে একটি ছাগল কুরবানি করেছেন। এখন এই গরুটি জীবিত আছে। তিনি কি তা তার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে জবাই করে গোশত ব্যবহার করতে পারবেন?

ফিকহী বিধান:

হানাফী ফিকহের আলোকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

১. কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করা এবং তার বিধান:

শুধুমাত্র কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করা তার কোনো নির্দিষ্ট হুকুম (যেমন: ওয়াজিব বা নফল) আরোপ করে না, যতক্ষণ না তা মৌখিকভাবে নির্ধারিত (যেমন: "এটি কুরবানির জন্য" বলা) বা কোনো শারঈ পদ্ধতিতে কুরবানির জন্য পৃথক করা হয়। ইমাম আবূ হানীফা (রহ.)-এর মতে, কুরবানির পশু নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট শব্দে ইজাব (ঘোষণা) বা নিয়তের সাথে কাজের সম্মিলন (যেমন: জবাই করার সময় "বিসমিল্লাহ" বলা) প্রয়োজন। শুধু অন্তরের নিয়তে তা ওয়াজিব বা নির্দিষ্ট হয় না। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৬; ফাতাওয়ায়ে উসমানী, ২/২৩৫)

২. কুরবানি আদায়ের পর গরুটির অবস্থা:

যেহেতু ব্যক্তি তার কুরবানির দায়িত্ব পালনের জন্য একটি ছাগল কুরবানি করেছেন, তাই তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার কারণে কোনো গুনাহ নেই। এখন গরুটি তার সাধারণ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। কারণ এটি কুরবানির জন্য নির্ধারিত হয়নি বা কোনো শারঈ হুকুম এর ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই তিনি ইচ্ছা করলে তা যেকোনো হালাল কাজে ব্যবহার করতে পারেন, যেমন: বিক্রি করা, নিজে খাওয়া, অথবা ছেলের বিয়ের মেহমানদের জন্য জবাই করে গোশত পরিবেশন করা। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৩৫; ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ, ১২/৪৩২)

৩. সতর্কতামূলক পরামর্শ:

যদিও শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি বৈধ, তবে উত্তম হবে যে ব্যক্তি গরুটি ক্রয়ের সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নিয়ত করেছিলেন, তাই এর গোশত ব্যবহারে কিছু সওয়াবের আশা থাকতে পারে। কিন্তু বিয়ে-শাদির অনুষ্ঠানগুলোতে সাধারণত খাদ্য হিসেবে এটি ব্যবহার করা জায়েয। তবে কোনো কোনো ফকীহ বলেন, যেহেতু এটি কুরবানির নিয়তে কেনা হয়েছিল, তাই এটি সাদাকাহর নিয়তে ব্যবহার করলে অধিক সওয়াব হবে। তবে এটি ওয়াজিব নয়। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩০০; কিতাবুল মাসাইল, ২/২৫০)

৪. বিশেষ ক্ষেত্র:

যদি ব্যক্তি মৌখিকভাবে বলে থাকেন, "এ গরুটি কুরবানির জন্য" বা "এটি আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করলাম" তাহলে এটি নির্ধারিত (تعيين) হয়ে যেত। তখন তা কুরবানির দিনে জবাই করা ওয়াজিব হতো অথবা জীবিত থাকলে তা সাদাকাহ করে দেওয়া জরুরি হতো। কিন্তু যেহেতু তিনি শুধু নিয়ত করেছিলেন, তাই এটি প্রযোজ্য নয়। (বাদায়েউস সানায়ে, ৪/২৪০; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৩৭)

সারকথা:

আপনার বর্ণিত ঘটনায় গরুটি কুরবানির জন্য নির্ধারিত না হওয়ায় এবং তার পরিবর্তে ছাগল কুরবানি দেওয়ায় মূল কুরবানি আদায় হয়ে গেছে। তাই অবশিষ্ট গরুটিকে ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে জবাই করে খাওয়ানো বা এর গোশত ব্যবহার করা শরীয়তসম্মত ও বৈধ। কোনো প্রকার গুনাহ বা কাফফারা নেই। তবে উত্তম হবে যদি গরুটিকে সাদাকাহ বা আল্লাহর রাস্তায় দান করা যায়, কিন্তু এটি আবশ্যক নয়।

আল্লাহই অধিক জ্ঞানী।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৬/৩২৬)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩৩৫)
  • ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ (১২/৪৩২)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৩০০)
  • কিতাবুল মাসাইল (২/২৫০)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.