গোনাহকে গোনাহ ও নিষিদ্ধ জেনে করলে কি কুফরি হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
ক)গোনাহ করলে দোষ নেই" অর্থ হয় "আল্লাহর রহমতের কারণে শাস্তি হবে না" বা "ক্ষমা হয়ে যাবে"এটা প্রশ্নের অংশ
আর আমি মনে করি বা বিশ্বাস করি আল্লাহ পাক হয়তো শাস্তি দিবেন না হয় ক্ষমা রহম করবেন তবে রহম করার বিনা শাস্তিতে জান্নাতে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি তাহলে কি গোনাহ কে হালাল করার মনে করা দিকে যাবে।
২।কেউ যদি মনে করে যে "আমি গুনাহ করলেও আল্লাহ অবশ্যই আমাকে বিনা শাস্তিতে ক্ষমা করে দেবেন" – এটি কুফরি নয়, তবে এটি বড় পাপ (কবীরা গুনাহ) এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে নির্ভয়তা আমন মিন মাকরিল্লাহ। এটি ইমানকে দুর্বল করে এবং তওবা না করলে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।এ বেপারে ক আকারে নিচে প্রশ্ন
ক) আর আমি যদি মনে করে আমি গোনাহ করলে আল্লাহ পাক শাস্তি দিবেন বা ক্ষমা করবেন ক্ষমা রহম করার সম্ভাবনা বেশি। এই মনে করে গোনাহ করি তাহলে কি হবে?
Answer
উত্তর:
প্রশ্ন ১ (ক):
আপনার যদি এই বিশ্বাস থাকে যে, গুনাহ করার পর আল্লাহ অবশ্যই বিনা শাস্তিতে ক্ষমা করে দেবেন বা শাস্তি দেবেন না, তাহলে এটি কুফরি নয়, বরং এটি কবীরা গুনাহ। কারণ এটি আল্লাহর রহমতের অপব্যাখ্যা এবং তাঁর শাস্তি থেকে নির্ভয়তা (أمن من مكر الله) প্রকাশ করে। কুরআনে বলা হয়েছে:
أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
(সূরা আল-আ‘রাফ: ৯৯)
অর্থ: "তবে কি তারা আল্লাহর কৌশল থেকে নির্ভয় হয়েছে? বস্তুত আল্লাহর কৌশল থেকে শুধু সেই সম্প্রদায়ই নির্ভয় হয় যারা ক্ষতিগ্রস্ত।"
তবে যদি আপনি কেবল আল্লাহর রহমতের আশা রাখেন এবং গুনাহের সময় মনে করেন "আল্লাহ হয়তো ক্ষমা করবেন, তবে শাস্তিও হতে পারে" – তাহলেও এটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ গুনাহ করে রহমতের আশা করা শয়তানের ধোঁকা। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন:
المعصية مع الرجاء خير من الطاعة مع الإعجاب
(রদ্দুল মুহতার, ১/৫৪)
অর্থ: "আশা নিয়ে গুনাহ করা, অহংকার সহকারে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম নয়।"
তবে এটি ইমানকে দুর্বল করে এবং ধীরে ধীরে গুনাহকে হালাল মনে করার দিকে নিয়ে যেতে পারে। তাই তওবা করা ওয়াজিব।
প্রশ্ন ২ (ক):
আপনি যদি মনে করেন "আমি গুনাহ করলেও আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন, এবং ক্ষমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি", এবং এই মনে করে ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করতে থাকেন, তাহলে এটি কবীরা গুনাহ এবং গুনাহের উপর অটল থাকার মতো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। কারণ এটি নিম্নলিখিত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত:
- আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ মনে করা (أمن من مكر الله): যা কুফর না হলেও বড় পাপ।
- গুনাহকে হালাল মনে করার পূর্বাভাস: যদি দীর্ঘদিন এই ধারণা পোষণ করেন, তাহলে একসময় গুনাহকে হালাল মনে হতে পারে, যা কুফরি।
- তওবার অবহেলা: যিনি নিশ্চিত যে ক্ষমা হয়ে যাবে, তিনি তওবাকে গুরুত্ব দেন না।
ইমাম ইবন আবেদিন (রহ.) বলেন:
من أذنب وقال: سيعفو الله عني، فهذا ليس بكفر، لكنه إصرار على الذنب وهو كبيرة
(রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল ঈমান)
অর্থ: "যে ব্যক্তি গুনাহ করে বলে, 'আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দেবেন', এটি কুফর নয়, তবে এটি গুনাহের উপর অটল থাকা, যা কবীরা গুনাহ।"
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
- ক্ষমার নিশ্চয়তা নেই: আল্লাহর রহমতের আশা রাখা ভালো, কিন্তু গুনাহ করার জন্য এই আশাকে অজুহাত বানানো শয়তানের ধোঁকা। কুরআনে এসেছে:
وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
(সূরা আল-ইমরান: ১০২)
অর্থ: "তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।"
- তওবার শর্ত: ক্ষমা পাওয়ার জন্য শর্ত হলো গুনাহ থেকে বিরত থাকা, লজ্জিত হওয়া এবং ফিরে না আসার প্রতিজ্ঞা করা। ইচ্ছাকৃত গুনাহ করে ক্ষমার আশা করা মিথ্যা আশ্বাস।
করণীয়:
- তওবা করুন: গুনাহ থেকে বিরত থাকুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
- ভয় ও আশার সমন্বয়: আল্লাহকে ভয় করুন এবং তাঁর রহমতের আশা রাখুন, কিন্তু গুনাহকে হালকা মনে করবেন না।
- ইলম অর্জন: গুনাহের পরিণতি সম্পর্কে জানুন এবং দ্বীনের জ্ঞান বাড়ান।
وَالتَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
(সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)
অর্থ: "গুনাহ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি সেই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহ নেই।"
সারসংক্ষেপ:
আপনার বর্ণিত চিন্তা ও কর্ম কুফরি নয়, তবে এটি কবীরা গুনাহ এবং ইমানের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দ্রুত তওবা করুন এবং আল্লাহর রহমতের অপব্যাখ্যা থেকে বিরত থাকুন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। (আমীন)