ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী সহবাসের সময় কোন কাজগুলো হারাম?

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: Al shariya shawon
Question Asked: 01 Jun 2026, 12:16 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 12:34 PM
Views: 48
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সহবাসের সময় কি কি কাজ করা হারাম যেহেতু উত্তেজনা ভসত অনেক কিছু হতে পারে তাই কুন কুন কাজ থেকে বাঁচা দরকার ।

Answer

সহবাসের সময় হারাম কাজসমূহ

উত্তর

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সময়ও কিছু কাজ হারাম বা নিষিদ্ধ। উত্তেজনার কারণে অনেক সময় মানুষ সীমা লঙ্ঘন করতে পারে, তাই নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা আবশ্যক:

সহবাসের সময় যে কাজগুলো হারাম

১. পায়ুপথে সহবাস করা: এটি সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, এটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। কুরআনে বলা হয়েছে: "তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র, সুতরাং তোমরা যেভাবে ইচ্ছা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে গমন কর" (সুরা বাকারা: ২২৩)। এখানে শস্যক্ষেত্র বলে স্ত্রীর সম্মুখস্থ যোনিপথকেই বোঝানো হয়েছে, পায়ুপথ নয়।

২. মাসিক ও নিফাস অবস্থায় সহবাস: কুরআনে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে: "তারা তোমাকে মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা কষ্টদায়ক। সুতরাং তোমরা মাসিককালে স্ত্রীদের থেকে দূরে থাক এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না" (সুরা বাকারা: ২২২)।

৩. রমজানের দিনে সিয়াম অবস্থায় সহবাস: সাওম অবস্থায় সহবাস করা হারাম এবং এর জন্য কাফফারা ওয়াজিব।

৪. ইহরাম অবস্থায় সহবাস: হজ বা ওমরার ইহরাম অবস্থায় সহবাস করা হারাম।

৫. মুখমণ্ডল দিয়ে সহবাস (Oral Sex): হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, স্ত্রীর যৌনাঙ্গ মুখে দেওয়া মাকরুহে তাহরিমি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এটি বৈধ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭১)

৬. গোপনাঙ্গে চুম্বন বা মুখ দেওয়া: স্ত্রী-স্বামী উভয়ের জন্যই এটি নিষিদ্ধ। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, স্ত্রীর লজ্জাস্থানে চুম্বন দেওয়া মাকরুহ। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩২৭)

৭. সহবাসের সময় অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলা: ইসলামী আদবের পরিপন্থী।

৮. জোরপূর্বক সহবাস: স্ত্রী অস্বীকার করলে বা অসুস্থ থাকলে জোর করে সহবাস করা হারাম।

৯. তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতিতে সহবাস: অন্য কারো সামনে সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম।

১০. সহবাসকালীন সময়ে নামায ওয়াজিব হলে তা বিলম্ব করা: নামাযের সময় হয়ে গেলে নামায আদায় করা আবশ্যক।

উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের উপায়

ইমাম গাযযালী (রহ.) ইহইয়া উলুমিদ্দীনে বলেছেন: "স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখা আবশ্যক। উত্তেজনার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন না করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য।"

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে দলিল

১. রদ্দুল মুহতার (৬/৩৭১): মুখমণ্ডল দিয়ে সহবাস সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

২. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩২৭): স্ত্রীর লজ্জাস্থানে চুম্বন দেওয়া মাকরুহে তাহরিমি।

৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৪৫): পায়ুপথে সহবাস হারাম।

৪. মাআরিফুল কুরআন (সুরা বাকারা: ২২২-২২৩-এর তাফসির): মাসিক ও সহবাস সম্পর্কিত বিধান।

৫. আল-হিদায়া (১/২২): মাসিক অবস্থায় সহবাসের নিষেধাজ্ঞা।

৬. বেহেশতী জেওর (২/৪২): সহবাসের সময় করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াবলি।

সারসংক্ষেপ

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস বৈধ হলেও কিছু সীমারেখা রয়েছে। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে শুধুমাত্র বৈধ ও স্বাভাবিক পন্থায় সহবাস করা জরুরি। উত্তেজনার সময় আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন না করার জন্য দৃঢ় সংকল্প ও তাকওয়া অর্জন করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে হারাম কাজ থেকে বাঁচার তাওফিক দান করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.