Islam & oral sex during marriage: Is it allowed in Hanafi fiqh?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রশ্নের উত্তর: ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্ক একটি বৈধ ও পবিত্র সম্পর্ক। তবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও সীমারেখা ইসলাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত দুটি বিষয় সম্পর্কে হানাফি মাযহাবের ফতোয়া হলো:
১. স্ত্রীর যৌনাঙ্গে মুখ দেওয়া বা জিহ্বা লাগানো: ইসলামী শরীয়তে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরের শরীর চুম্বন করা বা মুখ দেওয়া সাধারণভাবে বৈধ। তবে স্ত্রীর যৌনাঙ্গে (লজ্জাস্থানে) মুখ দেওয়া বা জিহ্বা লাগানো সম্পর্কে হানাফি ফুকাহায়ে কেরামের মতামত হলো, এটি মাকরুহে তাহরিমি (অত্যন্ত অপছন্দনীয় ও হারামের কাছাকাছি)। কারণ এটি ঘৃণ্য ও অপবিত্র কাজ এবং শরীয়তের শিষ্টাচার ও পবিত্রতা বিরোধী। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কারো জন্য তার স্ত্রীর লজ্জাস্থানে চুমু খাওয়া হারাম নয়।" (আবু দাউদ) কিন্তু অধিকাংশ ইসলামী পণ্ডিত এর অপছন্দনীয়তা বর্ণনা করেছেন, কারণ এটি নাপাকির স্থান ও মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫০)
২. পুরুষের যৌনাঙ্গ স্ত্রীর মুখে দেওয়া: এটি হারাম ও সম্পূর্ণ নাজায়েজ। কারণ এটি মুখকে অপবিত্র করে এবং এটি যৌনতার বৈধ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। ইসলাম কেবলমাত্র স্ত্রীর যোনিপথে সহবাসকে বৈধ করেছে। কুরআনে আল্লাহ বলেন, "তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র। সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।" (সূরা বাকারা, ২২৩) এখানে শস্যক্ষেত্র দ্বারা স্ত্রীর যোনিপথ বুঝানো হয়েছে। অন্যান্য পথে যৌনতা সম্পূর্ণ হারাম। ইবনে আবেদীন (রহ.) লিখেছেন, "মুখমৈথুন বা পুরুষাঙ্গ মুখে দেওয়া নাজায়েজ ও হারাম।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০) এটি যৌনবিকৃতির অন্তর্ভুক্ত এবং ইসলামী আদর্শের পরিপন্থী। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৩৬৫)
সারসংক্ষেপ:
- স্ত্রীর যৌনাঙ্গে মুখ দেওয়া: মাকরুহে তাহরিমি (অত্যন্ত অপছন্দনীয়, তবে হারাম নয়)।
- পুরুষের যৌনাঙ্গ স্ত্রীর মুখে দেওয়া: হারাম ও নাজায়েজ।
লজ্জাস্থানের সীমা: শরীয়তে স্বামী-স্ত্রীর জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত পরস্পরের জন্য লজ্জাস্থান হিসেবে গণ্য (সতরের অংশ)। তবে মুখ দেওয়া বা চুম্বনের ক্ষেত্রে উপরের নিয়ম প্রযোজ্য।
সতর্কীকরণ: যেহেতু এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়, তাই দয়া করে নিজে থেকে ইজতিহাদ না করে কোনো বিশ্বস্ত আলেমের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করুন। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।