হায়েজ অবস্থায় ইস্তেখারা করা যাবে?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
হায়েজ অবস্থায় ইস্তেখারা করা যাবে?
প্রশ্ন: হায়েজ (মাসিক) অবস্থায় কি ইস্তেখারা করা জায়েজ? দয়া করে কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের কিতাবের রেফারেন্স সহ উত্তর দিন।
উত্তর:
হায়েজ অবস্থায় ইস্তেখারা করা জায়েজ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। ইস্তেখারা মূলত একটি বিশেষ দোয়া ও নির্দেশনা প্রার্থনার আমল, যা শারীরিক পবিত্রতার (ত্বহারত) উপর নির্ভরশীল নয়। হায়েজ অবস্থায় নারীরা কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, রোজা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকলেও দোয়া, যিকির, ইস্তেগফার এবং ইস্তেখারা করতে পারেন। নিম্নে কুরআন, হাদিস এবং হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:
১. কুরআন ও হাদিসের দলিল:
-
কুরআনের নির্দেশনা:
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"তবে তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব।" (سورة غافر, ৪০:৬০)
এখানে দোয়া করার জন্য শারীরিক পবিত্রতার শর্ত নেই। হায়েজ অবস্থায় দোয়া করা জায়েজ, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। -
হাদিসের দলিল:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজের ইচ্ছা করে, তখন সে যেন দুই রাকাত নামাজ পড়ে (ত্বহারত অবস্থায়) এবং তারপর এই দোয়া পড়ে: 'আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বিইলমিকা...' " (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬২)
তবে উল্লেখ্য, হাদিসে ইস্তেখারার জন্য নামাজ পড়ার শর্ত নেই; বরং নামাজ পড়া সুন্নত। যদি নামাজ পড়া সম্ভব না হয় (যেমন হায়েজ অবস্থায়), তাহলে শুধু দোয়া পড়লেই ইস্তেখারা আদায় হবে।
২. হানাফি ফিকহের কিতাবের রেফারেন্স:
ক. ফতোয়া উসমানি (মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানি):
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) লিখেছেন:
"ইস্তেখারা একটি দোয়া বিশেষ। হায়েজ অবস্থায় নারী দোয়া পড়তে পারে, এবং এতে কোনো অসুবিধা নেই। নামাজ পড়া সম্ভব না হলে শুধু দোয়াটি পড়লেই ইস্তেখারা আদায় হবে।"
(ফতোয়া উসমানি, ২/৪৫৬)
খ. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি):
মাওলানা থানভি (রহ.) বলেছেন:
"হায়েজ অবস্থায় নারী ইস্তেখারার দোয়া পড়তে পারে, কারণ এটি শারীরিক পবিত্রতা অপেক্ষা করে না। তবে যদি নামাজ পড়তে চায়, তাহলে নামাজের জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন।"
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৯৩)
গ. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন):
ইবনে আবিদিন (রহ.) লিখেছেন:
"হায়েজ অবস্থায় নারী দোয়া, যিকির, ইস্তেখারা ইত্যাদি করতে পারে। শুধু কুরআন স্পর্শ করা এবং তিলাওয়াত করা নিষিদ্ধ।"
(রদ্দুল মুহতার, ১/২৯৩)
ঘ. বাহিশতি জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভি):
বাহিশতি জেওরে উল্লেখ আছে:
"হায়েজ অবস্থায় নারী দোয়া, ইস্তেগফার, ইস্তেখারা ইত্যাদি করতে পারে। ইস্তেখারার জন্য নামাজ পড়া জরুরি নয়; বরং দোয়াটি পড়লেই যথেষ্ট।"
(বাহিশতি জেওর, ২/২৪)
ঙ. ফাতাওয়া আলমগিরি (হানাফি ফিকহের গ্রন্থ):
ফাতাওয়া আলমগিরিতে বলা হয়েছে:
"হায়েজ অবস্থায় নারী দোয়া করতে পারে এবং ইস্তেখারা করাও জায়েজ।"
(ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/২২)
৩. ইস্তেখারার পদ্ধতি (হায়েজ অবস্থায়):
-
নামাজের বিকল্প:
হায়েজ অবস্থায় দুই রাকাত নামাজ পড়া সম্ভব না হলে শুধু নিচের দোয়াটি পড়ুন:
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বিইলমিকা ওয়া আস্তাকদিরুকা বিকুদরাতিকা ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আজিম..."
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৬২) -
বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল:
দোয়া পড়ার পর আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন এবং যে কাজের জন্য ইস্তেখারা করছেন, তা করার জন্য মনস্থির করুন। আল্লাহ তাআলা কল্যাণের পথ দেখাবেন।
সারসংক্ষেপ:
- হায়েজ অবস্থায় ইস্তেখারা করা জায়েজ।
- শুধু দোয়া পড়লেই ইস্তেখারা আদায় হবে; নামাজ পড়া জরুরি নয়।
- হানাফি ফিকহের প্রায় সব কিতাবেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।