হায়েজ অবস্থায় একাধিক পাত্রের জন্য কিভাবে ইস্তিখারা করবো? বিয়ে তো আল্লাহর হুকুম ছাড়া হবে না তাহলে কতদিন করব ?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্ন:
হায়েজ অবস্থায় একাধিক পাত্রের জন্য কিভাবে ইস্তিখারা করব? বিয়ে তো আল্লাহর হুকুম ছাড়া হবে না, তাহলে কতদিন ইস্তিখারা করব?
উত্তর:
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين
ইস্তিখারা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা হয়। হায়েজ অবস্থায় নারীর জন্য নামাজ পড়া জায়েজ নয়, তাই ইস্তিখারার দুই রাকাত নামাজ পড়া সম্ভব নয়। তবে হায়েজ অবস্থায় ইস্তিখারা করার বৈধ পদ্ধতি হলো শুধু দুআ পড়া বা অন্তর থেকে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. হায়েজ অবস্থায় ইস্তিখারা করার পদ্ধতি:
হায়েজ অবস্থায় নামাজ না পড়ে শুধু ইস্তিখারার দুআ পড়া যাবে। দুআটি মুখস্থ না থাকলে বাংলায়ও প্রার্থনা করা যায়।
ইস্তিখারার দুআ (উচ্চারণ ও অর্থ):
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ. اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ.
অর্থ:
"হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের মাধ্যমে তোমার কাছে কল্যাণ চাই, তোমার ক্ষমতার মাধ্যমে সাহায্য চাই এবং তোমার মহা অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। তুমি সবকিছু করতে সক্ষম, আমি নই; তুমি জান, আমি জানি না; আর তুমি অদৃশ্যের জ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি তুমি জানো যে এই কাজটি (বিয়ের পাত্র) আমার দীন, আমার জীবন ও আমার পরিণতির জন্য কল্যাণকর, তাহলে তা আমার জন্য নির্ধারণ করো, সহজ করো এবং তাতে বরকত দাও। আর যদি তুমি জানো যে এটি আমার জন্য অকল্যাণকর, তাহলে তা আমার থেকে সরিয়ে দাও এবং আমাকে তা থেকে দূরে রাখো এবং যেখানেই কল্যাণ থাকে তা আমার জন্য নির্ধারণ করো, তারপর আমাকে তাতে সন্তুষ্ট করো।"
পদ্ধতি:
- পবিত্র অবস্থা না থাকলেও এই দুআ পড়া যাবে (কুরআনের আয়াত স্পর্শ না করে শুধু দুআ পড়া জায়েজ)।
- প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে বা যে কোনো সময় দুআটি পড়ে আল্লাহর কাছে মন থেকে সাহায্য চাইবেন।
- অন্তর থেকে অনুভব করুন যে আল্লাহই সিদ্ধান্ত দেবেন।
২. একাধিক পাত্রের জন্য ইস্তিখারা:
- প্রতিটি পাত্রের জন্য আলাদাভাবে ইস্তিখারা করতে পারেন। যেমন: প্রথম পাত্রের নাম মনে নিয়ে দুআ পড়ুন, তারপর দ্বিতীয় পাত্রের জন্য, ইত্যাদি।
- অথবা সাধারণভাবে বলুন: "হে আল্লাহ! আমার জন্য যে পাত্রটি উত্তম, তাকে আমার ভাগ্যে লিখে দিন।"
- উত্তম পদ্ধতি: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট নিয়মে প্রতিটি পাত্রের জন্য আলাদা দুআ করা।
হানাফি ফিকহের নির্দেশনা:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত, ইস্তিখারার জন্য নামাজ পড়া সুন্নত, তবে অক্ষমতা থাকলে শুধু দুআ করাই যথেষ্ট।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ২/৪৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১৬৮; বেহেশতী জেওর, ২/২২১)
৩. কতদিন ইস্তিখারা করবেন?
ইস্তিখারার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। সাধারণত ৭ দিন পর্যন্ত করা উত্তম, তবে প্রয়োজন মনে করলে আরও বেশি দিন করা যায়।
- ইস্তিখারা চলতে থাকে যতক্ষণ না আপনার মনে একটি স্বস্তি বা স্পষ্ট ইঙ্গিত আসে। যেমন: কোনো পাত্রের প্রতি মন টানা, বা স্বপ্নে ইঙ্গিত পাওয়া, বা অন্তর একদম শান্ত হয়ে যাওয়া।
- যদি এক সপ্তাহ পরও কোনো ইঙ্গিত না পান, তবে আপনি পরামর্শ ও বিবেকবুদ্ধি ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ইস্তিখারা মানেই স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়; অন্তরের প্রশান্তিও একটি লক্ষণ।
- বিয়ে আল্লাহর হুকুমেই হবে, তবে ইস্তিখারা করার মাধ্যমে আপনি আল্লাহর কাছে সঠিক পথ চেয়ে নিচ্ছেন। তাই তাড়াহুড়ো না করে ধৈর্য ধরে ইস্তিখারা করতে থাকুন।
হানাফি আলেমদের মত:
মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন, "ইস্তিখারা করার পর অন্তরে যে দিকের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়, সেটাই গ্রহণ করা উচিত। তবে কোনো ঝোঁক না আসলে সাত দিন পর্যন্ত করতে থাকবে।"
(সূত্র: মা'আরিফুল কুরআন, সূরা ইউসুফের তাফসির; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫২)
সংক্ষিপ্ত নির্দেশনা:
- হায়েজ অবস্থায়: শুধু ইস্তিখারার দুআ পড়ুন, নামাজ পড়বেন না।
- প্রতিটি পাত্রের জন্য আলাদাভাবে বা সাধারণভাবে দুআ পড়ুন।
- অন্তত ৭ দিন করুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
- সিদ্ধান্তের সময়: অন্তরের প্রশান্তি, পরিবারের পরামর্শ ও শরিয়তের মানদণ্ড মাথায় রাখুন।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম পাত্র দান করুন এবং এ সিদ্ধান্তে কল্যাণ দিন। আমিন।
উত্তর প্রদানে সহায়ক:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদিন)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরি)
- বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী)
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী)
- মা'আরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি)