হাতের ইশারায় তালাক দেওয়ার বিধান" এবং "তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাকের বিধান" সম্পর্কে জানতে চাই।

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: Romana Akter
Question Asked: 01 Jun 2026, 04:34 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 04:38 PM
Views: 10
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম। আমি আমার জামাইকে আমাদের এলাকার এক মেয়ের বিয়ের কথা বলছিলাম। তখন জামাইকে বললাম আমাদের এলাকায় হলে বিয়ে ক্যান্সেল হয়ে যেতো।তখন জামাই ও বললো আমি হলে কাজীকে বলতাম কাজী বাকি কাজ কমপ্লিট করেন।হাতের ইশারায় তিনি তালাক দিয়েছেন। এখানে তালাক হয়েছে কি

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, এটি ছিল একটি কথোপকথনমূলক উদাহরণ, বাস্তবে তালাক দেওয়ার কোনো নিয়ত বা ইচ্ছা প্রকাশ পায়নি। এখানে "হাতের ইশারায় তালাক দেওয়া" বলতে যা বোঝানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণরূপে একটি অনুমানমূলক বক্তব্য, যা বাস্তবে ঘটেনি। তাই উক্ত কথোপকথনের মাধ্যমে কোনো তালাক সংঘটিত হয়নি।

কারণ:

  1. তালাকের নিয়ত বা ইচ্ছা না থাকা: হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী তালাক দেওয়ার জন্য স্পষ্ট শব্দ বা ইশারার সাথে সাথে তালাক দেওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ত (ইরাদা) জরুরি। এখানে শুধু একটি কল্পনাপ্রসূত আলোচনা হয়েছে, তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছা বা সংকল্প ছিল না।

    • (রদ্দুল মুহতার, ৩/২৪৩; ফতোয়া হিন্দিয়া, ১/৩৫০)
  2. শুধু ইশারা দ্বারা তালাকের শর্ত: হানাফি মাজহাবে ইশারা দ্বারা তালাক কার্যকর হয় যদি ইশারা স্পষ্ট হয় এবং তা তালাকের নিয়তে করা হয়। কিন্তু এখানে ইশারার মাধ্যমে তালাক দেওয়ার কোনো বাস্তব ঘটনা ঘটেনি; বরং এটি ছিল একটি উদাহরণরূপে বর্ণনা মাত্র।

    • (শরহু মাআনিল আসার, ২/২৪; বাদায়েউস সানায়ে, ৩/১০৩)
  3. কথোপকথনের প্রেক্ষাপট: বক্তার বক্তব্য "আমি হলে কাজীকে বলতাম..." থেকে স্পষ্ট যে তিনি একটি অনুমানমূলক পরিস্থিতি বর্ণনা করছেন, বাস্তবে তালাক দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটাননি। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধরণের কথোপকথন তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।

    • (ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৪; ফতোয়া উসমানি, ২/২৯১)

উপসংহার:
প্রশ্নোক্ত ঘটনায় কোনো তালাক হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তালাকের শব্দ বা ইশারা ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকা উচিত, কারণ অপ্রয়োজনীয় কথায় তালাকের বিষয়টি গুরুতর ফিতনার কারণ হতে পারে।

আল্লাহু তায়ালা অধিক জ্ঞানী।


রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৩/২৪৩)
  • ফতোয়া হিন্দিয়া (১/৩৫০)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (৪/২৪)
  • ফতোয়া উসমানি (২/২৯১)
  • শরহু মাআনিল আসার (২/২৪)
  • বাদায়েউস সানায়ে (৩/১০৩)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.