হারাম উপার্জনের টাকা হাদিয়া পেলে তা নিজে ভোগ না করে সদকা করে দেওয়ার বিধান।
Business and Job · Hanafi
Question
Answer
শরয়ী উত্তর:
আপনার প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, যে ব্যক্তির আয় সম্পূর্ণরূপে হারাম (যেমন: সুদ, ঘুষ, চুরি ইত্যাদি) এবং তিনি আপনাকে তা হাদিয়া দিলে, সেই টাকা গ্রহণ করা জায়েয নেই। তবে যদি আপনি জানেন যে তার আয় হারাম, এবং তিনি যদি তা হাদিয়া দেন, তাহলে সেই টাকা আপনি নিজে খরচ করতে পারবেন না। বরং সেই টাকা গরীব-মিসকিনকে সদকা করে দিতে হবে অথবা জনসাধারণের কল্যাণে (যেমন: মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি) দান করে দিতে হবে। তবে স্মরণ রাখতে হবে, এই সদকার মাধ্যমে আপনি কোনো সওয়াবের নিয়ত করবেন না, বরং শুধু হারাম টাকা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য এটি করবেন।
প্রাসঙ্গিক ফতওয়া ও দলিল:
১. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী) - ৫/৩৫৩: "যদি কেউ হারাম মাল থেকে কিছু হাদিয়া দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয নয়; বরং তা গরীবকে দান করে দিতে হবে।"
২. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) - ৬/৩৮৫: "হারাম মালের হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয নয়; যদি গ্রহণ করে ফেলে, তাহলে তা সদকা করে দিতে হবে।"
৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া - ৪/২৭২: "যে ব্যক্তির আয় হারাম, তার কাছ থেকে হাদিয়া নেওয়া মাকরূহ; তবে নিলে তা নিজে ভোগ না করে গরীবকে দান করে দিতে হবে।"
৪. কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
- আল্লাহ তাআলা বলেন: "একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না" (সূরা বাকারা: ১৮৮)।
- রাসূল (সাঃ) বলেন: "যে ব্যক্তি হারাম উপার্জন করে এবং তা সদকা করে, তার জন্য কোনো সওয়াব নেই, বরং তার গুনাহ রয়ে যায়।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০১৫)
আপনার প্রশ্নের সরাসরি জবাব:
আপনি যদি নিশ্চিত হন যে ব্যক্তির টাকা হারাম, তাহলে সেই টাকা গ্রহণ না করাই উত্তম। কিন্তু যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে ফেরত দিলে বিশৃঙ্খলা বা সম্পর্ক নষ্ট হবে, তাহলে আপনি সেই টাকা গ্রহণ করে সরাসরি কোনো গরীব-মিসকিনকে সদকা করে দিন, অথবা কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে (যেমন: মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা) দান করুন। এক্ষেত্রে আপনি কোনো সওয়াবের নিয়ত করবেন না। আর দাতাকে জানানোর প্রয়োজন নেই, কারণ জানালে তার মনে কষ্ট হতে পারে; বরং আপনি নিজে নীরবে এই কাজ করুন।
মোটকথা: হারাম টাকা নিজে ভোগ করবেন না, বরং তা সদকা করে দিন। এতে আপনার দ্বীনি দায়িত্ব পালন হবে এবং সম্পর্কও বজায় থাকবে।
আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। (والله أعلم بالصواب)