ব্যবহৃত সোনার ক্ষেত্রে যাকাত, কুরবানী ও হজের হুকুম কি?

Hajj and Umrah · Hanafi

Questioner: MAISHA JANNATI
Question Asked: 04 Jun 2026, 08:37 PM
Reviewed & Published: 04 Jun 2026, 09:30 PM
Views: 23
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

https://islamqapro.com/q/hjw-smprkit-prsn-LTlx6x

উপরের উত্তর অনুযায়ী :
প্র১: কোনো মহিলার কাছে কিছু ব্যাবহৃত গোল্ড + ( অতিরিক্ত ১/২ টাকা) মিলের রুপার নিসাবে তো যাকাত ফরজ হবে বলেছিলেন (১বছর স্থায়ী)
এবং নগদ টাকা না থাকলে গোল্ড বিক্রি করে হলেও যাকাত আদায়ের ফাতোয়া বলেছিলেন।

এবং কুরবানির ক্ষেত্রেও ঈদের ৩দিন এই সম্পদ থাকলে তারউপর কুরবানী ওয়াজিব এবং গোল্ড বিক্রি করে হলেও আদায় করার কথা বলেছিলেন।

প্র২ : আমার প্রশ্ন হলো তাহলে হজ্বের ক্ষেত্রে ব্যাবহৃত গোল্ড তাহলে কেন বিক্রি করা যাবে না?
এবং হজ্জে পথখরচের মতন সম্পদ হিসেবে কেন ধরা হবে না?
যাকাত + কুরবানির ক্ষেত্রে তো হয়েছিল তাহলে হজ্বের ক্ষেত্রে কেন হবে না?

২.আবার যাকাতের ক্ষেত্রে সাড়ে ৭ভড়ি গোল্ড একবছর পূর্ণ হলেই তো রুপার নিসাবে না এসেও যাকাত ফরজ বলেছিলেন । সেই হিসেবে ১৩/১৪ ভড়ি গোল্ড থাকার পরও কেন হজ্ব ফরজ হবে না? (কারন ১৩/১৪ ভড়ি গোল্ডের বর্তমান বিক্রয়মূল্য তো হজ্বের পথ খরচের থেকেও অনেক বেশি)

৩. ব্যাবহৃত গোল্ড আর অব্যাবহৃত গোল্ড বলতে কি বোঝায়?

অনুগ্রহ করে বিষয় গুলো ক্লিয়ার করে জানাবেন।

Answer

উত্তর:
প্রিয় প্রশ্নকারী, আপনার প্রশ্নের তিনটি দিক—যাকাত, কুরবানী ও হজ—এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সোনা (গহনা) ভিন্ন ভিন্ন হুকুমের অধীন। নিচে কিতাবের রেফারেন্সসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


১. যাকাতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সোনা

হানাফি মতে, মহিলাদের ব্যবহৃত সোনার গহনাও যাকাতযোগ্য সম্পদ। যদি তা নিসাব পরিমাণ হয় (সোনার নিসাব: ৭.৫ ভরি = ৮৭.৪৮ গ্রাম) অথবা নগদ টাকা/রুপার সাথে মিলিত হয়ে রুপার নিসাব (৫২.৫ তোলা = ৬১২.৩৬ গ্রাম) পূর্ণ করে, তাহলে এক বছর পূর্ণ হলে যাকাত ফরজ। নগদ টাকা না থাকলে সোনা রূপা বিক্রি করে যাকাত আদায় করা ওয়াজিব।
দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (২/২৯৬): «ويجب الزكاة في الحلي وإن كان مستعملاً» (ব্যবহৃত গহনারও যাকাত ওয়াজিব)।
  • ফতোয়া উসমানী (৮/২৪৫): সোনা-রুপার গহনা যাকাতযোগ্য, প্রয়োজনে বিক্রি করে যাকাত দিতে হবে।

২. কুরবানীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সোনা

হানাফি ফিকহের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হলো নেসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া। চায় মালে নামী হোক বা গায়রে নামী। স্বর্ণ, রূপা, নগদ টাকা বা ব্যবসার মাল। এছাড়া প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ যেমন স্থাবর সম্পদ,ঘরের আসবাবপত্র, গাড়ী,বাড়ী যদি নেসাব পরিমাণ তথা ৫২.৫ভড়ি রূপার সমপরিমাণ হয় তাহলে কুরবানি ওয়াজিব।


৩. হজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সোনা

হজ ফরজ হওয়ার জন্য সামর্থ্য (ইস্তিতাআত) শর্ত। এর অর্থ হলো: নিজের ও পরিবারের ভরণপোষণ, ঋণ পরিশোধ ইত্যাদির পর হজের ভাড়া ও খরচের জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বা সহজে নগদযোগ্য সম্পদ থাকা। ব্যবহৃত সোনা (গহনা) ও হজ্জের নেসাবের অন্তর্ভূক্ত। সুতরাং কোনো মহিলার নিকট এই পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, যে, স্বর্ণ বিক্রি করলে হজ্জ করা যাবে। তাহলে ঐ মহিলার উপর হজ্জ করা ফরজ।


৪. ১৩/১৪ ভরি সোনা থাকলে যদি এই সব স্বর্ণ বিক্রি করলে মাহরাম সহ হজ্জ করা যায়, তাহলে হজ্জ করা ফরজ।



সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
  • ফতোয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী)
  • বেহেশতি জেওর (আশরাফ আলী থানবী)
  • ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানবী)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.