বমি, ক্ষতের পানি, মল-মিশ্রিত পানি ও চর্বিযুক্ত পাত্র পবিত্রতার বিধান।

Taharah Purity · Hanafi

Questioner: Rasheda Akhter
Question Asked: 02 Jun 2026, 10:39 AM
Reviewed & Published: 02 Jun 2026, 11:02 AM
Views: 46
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

1. Vomi korar por sukna tissue diye thot muche felle erpr pani khawar somoi jodi pani thote lege borkah,bag aigula goriye pore tahole ki borka,bag napak hobe...thot to tissue diye already mucha hoyece...
2.ghorer prottek manush deendar na hole jemn deen palon kora kothin..temn pak napak maintain korao kothin... Karon unara ja use korbe apnak oi jinish gula use korte hobe...amr mayer herpis zoster hoyece... To gota gula theke pani ber hoi...molom laganor somoi to oi gota gulate hat diyei molom lagai...ekhn ami ki aivabe sudarona korbo j oi gula theke hoito goriye pora poriman pani ber hoi na...islam ki aivabe korte bole...? Karon gota dhore amr ma onk somoi aro onk jinish e dhore oi hat na duye...jodio probol somvobona j gota eksathe onk gula hoyece.. To goriye pora poriman pani ber hoya khub e somvob...kintu ami sudarona korte chacchi...
3.moilar jurite chikar mol felle oi jurite jodi aam o fela hoi... To moila bahire newar somoi jhurir polythene theke amer pani puro ghore pore...ekhn ami ki sudarona korbo j oi panite hoito mol meshe napak hoi ni? Bepar gula ki emn... Karon ami pani muchar agei ghorer manush oi pani para diye cholapera suru korece....
4.gorur chorbi lege ace puro patile amn patile jodi edurer mol lage...ami sudhu pani diye dui... To mol to chole jai.. Kintu chorbi patile e legei thake... Tahole patil to pak hoye jabe tai na....chorbi te to kono somossa nei?

Answer

উত্তর:
আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর হানাফি ফিকহের মূলনীতি ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের ভিত্তিতে দেওয়া হলো। প্রতিটি মাসআলার বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও দলিল নিচে উল্লেখ করা হলো।


১. বমি করার পর শুকনা টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে পানি খাওয়ার সময় যদি পানির ছিটা বোরকা/ব্যাগে লাগে, তাহলে কি তা নাপাক হবে?

উত্তর:
বমি নাজিস (অপবিত্র) এবং এটি নাজাসাতে গালিযা (শক্ত নাপাকি) হিসেবে গণ্য। টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে ফেললেও বমির অণুপরিমাণও যদি মুখে থেকে যায়, তাহলে তা নাপাক থাকবে। পানি খাওয়ার সময় সেই পানি যদি মুখের নাপাক অংশ স্পর্শ করে, তাহলে পানি নাপাক হয়ে যাবে এবং সেই পানি অন্য জিনিসে (বোরকা, ব্যাগ) লাগলে সেই জিনিসও নাপাক হবে।

হানাফি ফিকহের নিয়ম:

  • নাজাসাতে গালিযা (যেমন বমি, পেশাব, পায়খানা) দূর করতে পানি দিয়ে ধোয়া জরুরি। শুধু শুকনা টিস্যু দিয়ে মুছে ফেললে পবিত্রতা অর্জিত হয় না (বাহিশতী জেওর, পবিত্রতা অধ্যায়; রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩১)।
  • যদি মুখের নাপাক অংশ শুকনা থাকে, কিন্তু পানি খাওয়ার সময় সেই অংশ ভিজে যায়, তাহলে পানি নাপাক হবে এবং তা অন্য জিনিসে লাগলে নাপাকি ছড়িয়ে পড়বে।

ফলাফল:

  • বোরকা ও ব্যাগ নাপাক হবে। তবে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে মুখে কোনো বমির অংশ ছিল না (যেমন ধুয়ে ফেলা হয়েছিল), তাহলে নাপাক হবে না।
  • করণীয়: বমি করার পর নিয়মিত পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা।

সতর্কতা:
যদি সন্দেহ হয় যে পানি মুখের নাপাক অংশ স্পর্শ করেছে, তাহলে বোরকা/ব্যাগ ধুয়ে ফেলা উত্তম।


২. পরিবারের সদস্যরা দ্বীনদার না হলে পবিত্রতা বজায় রাখা কঠিন। বিশেষ করে মায়ের হার্পিস জোস্টার (দাদ/পানি বের হওয়া ফোস্কা) থেকে পানি ছড়ানোর সম্ভাবনা। আমি কি ধরে নিতে পারি যে ওই পানি পড়েনি?

উত্তর:
হার্পিস জোস্টারের ফোস্কা থেকে বের হওয়া তরল পানি হলেও তা নাপাক (নাজিস)। কারণ এটি শরীরের ক্ষতস্থান থেকে নির্গত হয় এবং এতে জীবাণু থাকে। হানাফি ফিকহে ক্ষতস্থানের পানি (সাদীদ) নাপাক গণ্য (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৫; ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৮০)।

তবে আপনি যদি ধরে নেন যে পানি পড়েনি, তবে তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি নয়। ইসলামের নিয়ম হলো: নিশ্চিত নাপাকি ছাড়া জিনিস পবিত্র গণ্য হবে (আল-ইয়াকীন লা ইয়াজুলু বিশ-শাক্ক)। সুতরাং যদি আপনি সন্দেহবশত মনে করেন পানি পড়েছে, কিন্তু নিশ্চিত না হন, তাহলে জিনিসগুলো পবিত্রই থাকবে।

যেসব ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে:

  • হানাফি ফিকহে নাজাসাতে গালিযার পরিমাণ যদি এক দিরহাম (প্রায় ৩-৪ সেমি ব্যাস) এর কম হয়, তাহলে তা মাফ (ক্ষমা) – বিশেষ করে কাপড় বা শরীরে (বাহিশতী জেওর, পবিত্রতা অধ্যায়; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৫০)।
  • মায়ের হাত যদি শুকনা থাকে এবং হাতে দৃশ্যমান পানি না থাকে, তাহলে তার স্পর্শে অন্য জিনিস নাপাক হবে না। কিন্তু যদি হাত ভেজা থাকে, তাহলে নাপাকি ছড়াবে।

করণীয়:

  • মা ওষুধ লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলবেন। না ধুলে এবং নাপাকির অস্তিত্ব নিশ্চিত না হলে, আপনি ধরে নিতে পারেন যে পবিত্রতা বজায় আছে।
  • বাড়িতে পবিত্রতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করুন।

সারসংক্ষেপ:
আপনি সুধারণা করতে পারেন যে পানি ছড়ায়নি, যতক্ষণ না নিশ্চিত হন। এটি ইসলামের সহজতা ও কঠোরতা এড়ানোর নীতির অংশ।


৩. ময়লার ঝুড়িতে চিকার (কাদা) সাথে মল (পায়খানা) থাকলে এবং সেই ঝুড়িতে আম থাকলে, ময়লা ফেলার সময় পলিথিন ছিঁড়ে আমের পানি মেঝেতে পড়লে, কি সেই পানি নাপাক হবে?

উত্তর:
এখানে মল (নাপাকি) ও আমের পানি (পবিত্র) একত্র থাকলেও, পানি নাপাক হবে যদি নিশ্চিতভাবে মলের সংস্পর্শে আসে। কিন্তু আপনার বর্ণনায় মল শুকনা কাদার সাথে মিশে থাকতে পারে এবং আম আলাদা থাকতে পারে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

  • কোনো জিনিস পবিত্র থাকা অবস্থায় যদি তাতে নাপাকি মিশে যায়, তাহলে তা নাপাক হয়। কিন্তু নিশ্চিতভাবে মেশা প্রমাণিত না হলে মূল পবিত্রতা অপরিবর্তিত থাকে (আল-হিদায়া, ১/২২; রদ্দুল মুহতার, ১/৩১৩)।
  • যেহেতু মল ও আমের পানি আলাদা থাকার সম্ভাবনা আছে এবং আপনি নিশ্চিত নন যে পানি মলের সংস্পর্শে এসেছে, তাই সেই পানি পবিত্র গণ্য হবে।

উদাহরণ:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, যদি কোনো পাত্রে পানি থাকে এবং তাতে নাপাকি পড়ার সম্ভাবনা থাকে কিন্তু নিশ্চিত না হওয়া যায়, তাহলে পানি পবিত্রই থাকে (শরহু মাআনিল আসার, ১/৪৪)।

ফলাফল:

  • মেঝেতে পড়া আমের পানি পবিত্র গণ্য হবে। পরিবারের সদস্যরা মেঝেতে পা দিয়ে চলাফেরা করলে তাদের পা নাপাক হবে না।
  • তবে সতর্কতা হিসেবে মেঝে ধুয়ে ফেলা উত্তম, বিশেষ করে যদি মল ভেজা অবস্থায় ছিল।

৪. গরুর চর্বি (যা পবিত্র) লাগানো পাত্রে যদি শুকনা মল (পায়খানা) লাগে এবং শুধু পানি দিয়ে ধুলে মল চলে যায় কিন্তু চর্বি লেগেই থাকে, তাহলে পাত্র কি পাক হবে?

উত্তর:
গরুর চর্বি পবিত্র (পাক)। কারণ গরু হালাল প্রাণী এবং এর কোনো অংশ নাপাক নয় (যকৃত, মস্তিষ্ক ইত্যাদি ব্যতীত, কিন্তু চর্বি পবিত্র – রদ্দুল মুহতার, ১/৩১৪)। মল নাপাক। পানি দিয়ে ধোয়ার পর মল সম্পূর্ণ সরে গেলে পাত্র পবিত্র হয়ে যাবে। চর্বি লেগে থাকলে কোনো সমস্যা নেই, কারণ চর্বি নিজে পাক।

শর্ত:

  • মল যদি শুকনা হয় এবং পানি দিয়ে ধোয়ার পর তার কোনো দৃশ্যমান অংশ না থাকে, তাহলে পাত্র পাক।
  • যদি মল ভেজা ছিল এবং চর্বির সাথে মিশে যায়, তাহলে চর্বি নাপাক হবে এবং পাত্র ধোয়ার সময় চর্বি অপসারণ করা জরুরি। কিন্তু আপনার বর্ণনায় "এদুরের মল" (শুকনা মল) বোঝানো হয়েছে, যা সহজেই সরে যায়।

ফতওয়া:
ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: "নাজাসাত সরানোর পর যদি পাত্রে পানি দিয়ে ধোয়া হয় এবং নাজাসাতের কোনো চিহ্ন না থাকে, তাহলে পাত্র পবিত্র গণ্য হবে, যদিও অন্য কোনো পবিত্র পদার্থ (যেমন চর্বি) লেগে থাকে" (রদ্দুল মুহতার, ১/৩১৯; ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৫)।

উত্তম পদ্ধতি:
মল অপসারণের পর ডিটারজেন্ট বা সাবান দিয়ে ধুয়ে নেওয়া, যাতে চর্বির আস্তরণ ভেঙে যায় এবং নাপাকি পুরোপুরি দূর হয়। তবে শুধু পানি দিয়েই পবিত্রতা অর্জিত হবে।


সারসংক্ষেপ:

১. বমি মুছে ফেললেও মুখ ধৌত করা জরুরি। পানি খাওয়ার সময় বোরকা/ব্যাগ নাপাক হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।
২. হার্পিস জোস্টারের পানি নাপাক হলেও নিশ্চিত না হলে পবিত্র ধরে নিন। ছোট পরিমাণ মাফ।
৩. মল আলাদা থাকলে আমের পানি পবিত্রই থাকবে।
৪. গরুর চর্বি পবিত্র, তাই মল ধুয়ে ফেললে পাত্র পাক হবে।

আল্লাহই তাওফিক দানকারী।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.