অযু ভাঙ্গার কারন
Purity · Ahle Hadith / Salafi · Questioner: Super Admin · 08 May 2026 · 8 views
Question
Answer
অযু ভাঙ্গার কারণ সম্পর্কে ইসলামী শরিয়তে নির্ধারিত কিছু বিষয় রয়েছে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:
অযু ভাঙ্গার কারণসমূহ:
১. পায়খানা, পেশাব ও বায়ু নির্গমন:
প্রাকৃতিকভাবে মল, মূত্র বা বায়ু (পাদ) নির্গত হলে অযু ভেঙ্গে যায়। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৬২)
২. গভীর ঘুম:
এমন ঘুম যা আসন শিথিল করে দেয়, যেমন শুয়ে বা হেলান দিয়ে ঘুমানো, যাতে পায়ুপথে বায়ু বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে হালকা ঘুম (যেমন দাঁড়িয়ে বা বসে তন্দ্রা) অযু ভাঙ্গে না। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৭২)
৩. বেহুঁশ হওয়া বা জ্ঞান হারানো:
মূর্ছা, পাগলামি, মাতাল হওয়া বা কোনো রোগের কারণে জ্ঞান লোপ পেলে অযু ভেঙ্গে যায়। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৩৮)
৪. অপবিত্রতা স্পর্শ করা (স্ত্রী-পুরুষের মিলন):
অশ্লীলতাবশত নারী-পুরুষের স্পর্শ বা মিলনের ফলে বীর্যপাত না হলেও অযু ভাঙ্গে না, তবে মযী (উত্তেজনার পানি) বের হলে অযু ভেঙ্গে যায়। বীর্যপাত হলে গোসল ফরজ হয়। (সহীহ বুখারী, হাদিস: ১৩০; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৩০৩)
৫. রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া (প্রাচীন মত):
কিছু সালাফি আলিমের মতে, শরীর থেকে বেশি পরিমাণে রক্ত, পুঁজ বা বমি বের হলে অযু ভেঙ্গে যায়। তবে সহীহ হাদীসে সরাসরি এ বিষয়ে স্পষ্ট দলিল নেই। অধিকাংশ আধুনিক সালাফি স্কলারের মতে, রক্ত বা পুঁজ বের হলে তা অযু ভাঙ্গার কারণ নয়, বরং শুধু নাপাক জায়গা ধুয়ে নেওয়া যথেষ্ট। (আল-মুগনী, ইবনে কুদামা)
মনে রাখবেন:
- নখ কাটা, চুল কাটা, মৃত পশু স্পর্শ করা, গোসল করানো বা জানাজা পড়া ইত্যাদি কারণে অযু ভাঙে না।
- সালাফি মতে, কেবল উল্লিখিত কারণগুলোই অযু ভাঙ্গে; অন্যসব কারণ (যেমন নারী স্পর্শ, মাংস খাওয়া) অযু ভাঙ্গে না যদি না বীর্যপাত বা অপবিত্রতা নির্গত হয়।
কুরআন ও হাদীসের আলোকে:
“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাযে দাঁড়াতে চাও, তখন তোমরা তোমাদের চেহারা ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো ও পা-গুলো গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করো। যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে গোসল করো…” (সূরা মায়িদা: ৬)। এখানে অযু ভাঙ্গার কারণ বোঝাতে বলা হয়েছে যে, পেশাব-পায়খানা, বায়ু ইত্যাদি থেকে ফারেগ হওয়ার পর অযু করতে হবে।
উপসংহার:
অযু ভাঙ্গার প্রধান কারণগুলো হলো: পেশাব-পায়খানা ও বায়ু নির্গমন, গভীর ঘুম, বেহুঁশ হওয়া, এবং বীর্যপাত বা মযী নির্গমন। অন্যান্য বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সালাফি মতে ওপরের বিষয়গুলোই অযু ভাঙ্গার জন্য যথেষ্ট।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।