বিয়ের ইস্তেখারা কিভাবে করবো
Salah-Prayer · Hanafi
Question
কিভাবে ইস্তেখারা করব
ভালো বা মন্দ জানার জন্য
Answer
উত্তর:
একাধিক উপযুক্ত পাত্র (বিবাহের জন্য) থাকলে ইস্তিখারা করার পদ্ধতি হানাফি মতে নিম্নরূপ:
১. ইস্তিখারার মূলনীতি
ইস্তিখারা হলো আল্লাহর কাছে কোনো কাজের কল্যাণ ও অকল্যাণ প্রার্থনা করা। হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, ইস্তিখারা নফল সালাতের মাধ্যমে করা হয়।
(সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ২/৪৬৯; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৫৩১)
২. সাধারণ ইস্তিখারার পদ্ধতি
- দুই রাকাত নফল সালাত পড়ুন (যেকোনো সময়, তবে শেষ রাত বা সূর্য ঢলে পড়ার পর উত্তম)।
- সূরা ফাতিহার পর প্রথম রাকাতে সূরা কাফিরুন (قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ) এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) পড়া মুস্তাহাব।
- সালাম ফিরানোর পর নিম্নোক্ত দোয়া পড়ুন:
দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَا أَقْدِرُ، وَتَعْلَمُ وَلَا أَعْلَمُ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ (এখানে কাজটির নাম বলবেন) خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي، فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ، وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ، ثُمَّ أَرْضِنِي بِهِ
(বুখারি, ১/২৫৪; তিরমিজি, ২/১৭৫)
বাংলা উচ্চারণ:
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাখিরুকা বি’ইলমিকা, ওয়া আসতাক্বদিরুকা বি ক্বুদরাতিকা, ওয়া আস্আলুকা মিন ফাদলিকাল ‘আযিম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়ালা আ’লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা’লামু আন্না হাজাল আমরা (এখানে কাজটির নাম বলবেন) খাইরুন লি ফি দ্বীনি ওয়া মা’আশি ওয়া ‘আক্বিবাতি আমরি, ফাক্বদুরহু লি ওয়া ইয়াসসিরহু লি, সুম্মা বারিক লি ফিহি। ওয়া ইন কুনতা তা’লামু আন্না হাজাল আমরা শাররুন লি ফি দ্বীনি ওয়া মা’আশি ওয়া ‘আক্বিবাতি আমরি, ফাস্রিফহু ‘আন্নি ওয়াস্রিফনি ‘আনহু, ওয়াক্বদুর লিল খাইরা হাইসু কানা, সুম্মা আরদিনি বিহি।”
(মা‘আরিফুল কুরআন, ২/৪৫; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৫৩২)
৩. একাধিক পাত্রের ক্ষেত্রে ইস্তিখারার পদ্ধতি
পদ্ধতি ১: প্রত্যেক পাত্রের জন্য পৃথক ইস্তিখারা
- প্রত্যেক পাত্রের নাম ও পরিচয় মনে রেখে পৃথক পৃথক সালাত ও দোয়া করুন।
- প্রতিটি ইস্তিখারা কমপক্ষে ৩ বার পুনরাবৃত্তি করুন।
- দোয়ায় “হাজাল আমর” (এই কাজ) জায়গায় পাত্রটির নাম ও বিয়ের ইচ্ছাটি উল্লেখ করুন। যেমন: “আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদু আন আতাজাওয়াজা ফুলানাহ...।”
(সূত্র: ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/৩৪৫; বাহিশতি জেওর, ২/৪২)
পদ্ধতি ২: একসঙ্গে সবার জন্য ইস্তিখারা
- একটি সালাতের পর দোয়ায় সব পাত্রের কথা উল্লেখ করে বলুন: “হে আল্লাহ! তুমি জানো কোন পাত্রটি আমার জন্য দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণকর। সেই ব্যক্তির প্রতি আমার মনোযোগ ও পছন্দ দাও এবং অন্যদের থেকে দূরে সরিয়ে দাও।”
(সূত্র: ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/১৫৩; রদ্দুল মুহতার, ২/৪৭০)
৪. ইস্তিখারার ফলাফল নির্ণয়
ইস্তিখারার “ভালো বা মন্দ” বোঝার জন্য হানাফি মতে মূল কথা হলো মনের সন্তুষ্টি ও সহজতা (সাখাবত)। অর্থাৎ:
- কোনো পাত্রের প্রতি মনে প্রবল ঝোঁক ও মানসিক শান্তি বোধ করলে তা কল্যাণের লক্ষণ।
- মনে অস্থিরতা, বিরক্তি বা বাধাবিঘ্ন দেখা দিলে তা অকল্যাণের ইঙ্গিত।
- স্বপ্ন দেখা জরুরি নয়; বরং ইস্তিখারা করে কাজে অগ্রসর হওয়া সুন্নত।
(সূত্র: উসুলুশ শাশি, ১/১২; তাফসিরে মা‘আরিফুল কুরআন, ২/৪৬)
৫. গুরুত্বপূর্ণ হানাফি রেফারেন্স
- রদ্দুল মুহতার (২/৪৬৯-৪৭১) – ইস্তিখারা ও তার পদ্ধতি।
- ফাতাওয়া উসমানি (২/৫৩১-৫৩৩) – একাধিক পাত্রের ক্ষেত্রে ইস্তিখারা।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/৩৪৫-৩৪৭) – বিবাহের ইস্তিখারার বিস্তারিত।
- বাহিশতি জেওর (২/৪২-৪৫) – সাধারণ মানুষের জন্য সহজ পদ্ধতি।
৬. উপসংহার
একাধিক পাত্র থাকলে প্রত্যেকের জন্য পৃথক ইস্তিখারা করা উত্তম। তবে সময় ও সুবিধানুযায়ী একসঙ্গে সবার জন্যও দোয়া করা জায়েজ। ইস্তিখারার পর নিজের মন ও অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রাখা, এবং কোনো পাত্রের প্রতি স্বাভাবিকভাবে পছন্দ ও মানসিক প্রশান্তি বোধ হলে সেটিকেই আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণের ইঙ্গিত মনে করে কাজ শুরু করা। আল্লাহ তাআলা সঠিক সিদ্ধান্ত দান করুন।