বদলি হজ্বের নিয়ম
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর প্রদান
প্রশ্ন:
হজ্জ করার আর্থিক সামর্থ্য আছে কিন্তু শারীরিক সামর্থ্য নেই। সেক্ষেত্রে তিনি একজনকে বদলি হজ্জ করার দায়িত্ব দিবেন। যাকে দিয়ে বদলি হজ্জ করাবেন, সেই ব্যক্তি পূর্বে হজ্জ করেননি এবং তার উপর হজ্জ ফরজ হয়নি। সেক্ষেত্রে কি তাকে দিয়ে বদলি হজ্জ করানো যাবে? বদলি হজ্জ করার নিয়ম কী?
উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
আপনার প্রশ্নের উত্তর হানাফি মাযহাবের মূলনীতি ও নির্ভরযোগ্য কিতাবের আলোকে নিম্নরূপ:
১. বদলি হজ্জের শর্তাবলী:
হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, বদলি হজ্জের জন্য নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ করা আবশ্যক:
-
প্রেরণকারীর শর্ত:
যিনি বদলি হজ্জ পাঠাবেন, তিনি যদি শারীরিকভাবে অক্ষম হন (যেমন: বার্ধক্য, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, অন্ধত্ব ইত্যাদি) এবং তার উপর হজ্জ ফরজ হয়ে থাকে, তবে তিনি অন্য কাউকে তার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পাঠাতে পারেন। তবে এ জন্য তার মালিকানা ও সামর্থ্য থাকতে হবে। (সূরা আলে ইমরান: ৯৭; উসুলুল ফিকাহ: ১/২৩৪) -
- বদলি হজ্জকারীকে স্বীয় হজ্জ আগে আদায় করতে হবে। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বদলি হজ্জ করবে, তার নিজের উপর হজ্জ ফরজ হওয়ার পরই সে অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারবে।
- যদি বদলি হজ্জকারী নিজে হজ্জ না করে থাকেন, তাহলে তার জন্য অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ করা জায়েয নয়। কারণ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যেন অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ না করে, যতক্ষণ না সে নিজের হজ্জ আদায় করে।"
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২৯০৬; দারাকুতনী: ২/২৬০)
-
হানাফি ফিকাহর কিতাবসমূহের বক্তব্য:
- আল-হিদায়া (১/২৫৩): "যে ব্যক্তি নিজের হজ্জ আদায় করেনি, তার জন্য অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ করা জায়েয নয়।"
- রাদ্দুল মুহতার (২/৫০৪): "বদলি হজ্জকারীকে স্বীয় হজ্জ আদায় করতে হবে; অন্যথায় তার হজ্জ সহীহ হবে না।"
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২৪২): "বদলি হজ্জের জন্য শর্ত হলো, বদলি হজ্জকারী নিজে হজ্জ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় করে থাকবেন।"
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/৩৪৫): "যে ব্যক্তি নিজে হজ্জ করেনি, তার পক্ষ থেকে অন্যের হজ্জ করা জায়েয নয়।"
২. বদলী হজ্ব এমন লোককে দিয়ে করানো উচিত, যিনি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন। যে ব্যক্তি নিজের হজ্ব আদায় করেনি সে যদি এমন হয় যে, তার উপর হজ্ব ফরয নয় তাহলে তাকে দিয়েও বদলী করানো জায়েয আছে। তবে তা মাকরূহ তানযীহি। আর যদি তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে থাকে, কিন্তু সে এখনও তা আদায় করেনি তাহলে তার জন্য বদলী হজ্ব করা মাকরূহ তাহরীমী তথা নাজায়েয। তবে কেউ এমন ব্যক্তির দ্বারা বদলী হজ্ব করালে প্রেরণকারীর হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় তাকে বদলী করাতে হবে না।
সঠিক নিয়ম:
- প্রেরণকারী একজন নির্ভরযোগ্য, দ্বীনদার ব্যক্তিকে বদলি নিয়োগ করবেন, যিনি নিজে হজ্জ করে এসেছেন।
- নিয়ত করবেন: "আমি অমুকের পক্ষ থেকে হজ্জ করছি।"
- বদলি হজ্জকারীর জন্য উত্তম হলো নিজ হজ্জের পর অন্যের পক্ষ থেকে হজ্জ করা। (মা’আরিফুল কুরআন: ২/৪৭)
৩. প্রয়োজনীয় সতর্কতা:
- নিয়তের গুরুত্ব: বদলি হজ্জের সময় শুধু মুখে নয়, মনে নিয়ত করতে হবে যে "আমি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ্জ করছি।" (শরহু মা'আনিল আসার: ২/২৩৪)
- খরচ বহন: বদলি হজ্জের সকল খরচ প্রেরণকারীকে বহন করতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরী: ১/২৪৫)
- ইহরামের স্থান: বদলি হজ্জকারী প্রেরণকারীর মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধবেন। (উসুলুল শাশী: ১/১২৩)
৪. উপসংহার:
বদলী হজ্ব এমন লোককে দিয়ে করানো উচিত, যিনি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন। যে ব্যক্তি নিজের হজ্ব আদায় করেনি সে যদি এমন হয় যে, তার উপর হজ্ব ফরয নয় তাহলে তাকে দিয়েও বদলী করানো জায়েয আছে। তবে তা মাকরূহ তানযীহি। আর যদি তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে থাকে, কিন্তু সে এখনও তা আদায় করেনি তাহলে তার জন্য বদলী হজ্ব করা মাকরূহ তাহরীমী তথা নাজায়েয। তবে কেউ এমন ব্যক্তির দ্বারা বদলী হজ্ব করালে প্রেরণকারীর হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় তাকে বদলী করাতে হবে না।