বাড়ী ওয়ালার সাথে কথা না বলে চলে গেলে কি গোনাহ হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Questioner: Tauhida Tina
Question Asked: 01 Jun 2026, 12:45 AM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 01:19 AM
Views: 40
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাদের বাড়িওয়ালাদের সাথে আমাদের অনেক ঝামেলা হইছে।এরপর যত বার ই কথা হইছে ওই ঝামেলাকে কেন্দ্র করেই।এখন আমরা আগামীকাল বাসা ছেড়ে দিয়ে চলে যাচ্ছি।এখন কি আমার উনার সাথে কথা না বলার কারনে গুনাহ হবে?আসলে উনি আমার মায়ের সাথে ঝগড়া করছে তাই কথা বলার রুচি নাই।আর আগে যেহেতু ঝামেলা হইছে কথা বললেও হয়ত উনি ভালো ভাবে বলবেন না

Answer

উত্তর:
আপনার বাড়িওয়ালার সাথে ঝামেলা ও মায়ের সাথে তার ঝগড়ার কারণে যদি আপনি তার সাথে কথা না বলেন, তবে এতে সরাসরি কোনো গুনাহ হবে না, যতক্ষণ না আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেন বা দীর্ঘস্থায়ীভাবে কথা না বলা ও সালাম না দেওয়ার নিয়ত করেন। ইসলামে তিন দিনের বেশি সালাম বন্ধ রাখা বা সম্পর্ক ছিন্ন করা নিষেধ (বুখারি: ৬০৭৭; মুসলিম: ২৫৬০)। তবে আপনার ক্ষেত্রে ঝামেলা ও মায়ের সাথে ঝগড়ার কারণে কিছুদিন কথা না বললে তা জায়েয হতে পারে, যদি তা স্থায়ী না হয়।

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন:

"যদি কোনো ব্যক্তি অপর মুসলিমের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তবে তা ফাস্ক (গুনাহ), তবে যদি কোনো দ্বীনি বা দুনিয়াবি প্রয়োজন থাকে, যেমন জুলুম প্রতিরোধ বা নিজেকে রক্ষা, তাহলে ছিন্ন করা জায়েয।"
(রদ্দুল মুহতার: ৬/৪১৩)

সুতরাং আপনি যদি স্থায়ীভাবে কথা না বলার ইচ্ছা না রাখেন, বরং বর্তমান পরিস্থিতি ও মায়ের প্রতি অসম্মানের কারণে সাময়িকভাবে বিরত থাকেন, তাহলে তা গুনাহ হবে না। তবে উত্তম হচ্ছে, অন্তত সালাম ও জরুরি কথাবার্তা আদান-প্রদান করা।

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন:

"ঝগড়া-ঝাটি ও মনোমালিন্যের পরেও সালাম দেওয়া ও কথা বলা মুসলিমের কর্তব্য। তবে যদি সালাম দেওয়ায় ফিতনা বা অশান্তি বাড়ে, তাহলে সাময়িক বিরতি জায়েয।"
(মা’আরিফুল কুরআন: ২/৭৪)

সিদ্ধান্ত:
আপনার বাড়িওয়ালার সাথে কথা না বললে গুনাহ হবে না, যদি আপনি স্থায়ীভাবে সম্পর্ক ছিন্ন না করেন। তবে শান্তিপূর্ণভাবে বিদায় নেওয়া এবং শেষবারের মতো প্রয়োজনীয় কথা বলে চলে আসা উত্তম। যদি তিনি অমার্জিত আচরণ করেন, তাহলে আপনি সালাম দিয়ে চুপ থাকতে পারেন। মনে রাখবেন, ইসলাম ধৈর্য ও ক্ষমাকে উৎসাহিত করে (সূরা শুরা: ৪০-৪৩)।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.