আমি কি আপনার কথার উপর আমল করতে পারবো? আমার জানা শুনা এমন বিজ্ঞ আলেম নেই, তাই আপনার কাছে জানতে চাওয়া। দয়া করুন।

Marriage and Divorce · Hanafi

Questioner: Nabila
Question Asked: 29 May 2026, 10:48 PM
Reviewed & Published: 01 Jun 2026, 10:07 PM
Views: 40
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। ২৩ মার্চ ২০২৬ বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আগেই আমার হাসবেন্ড কে বুঝিয়েছিলাম ১৮ নং কলাম কি। সে জেনেছিল, বুঝেছিল, আর আমাকে বলেছিল আমাকে এই অধিকার দিবে না। কিন্তু কাজি কিছু না বলেই ১৮ নং কলামে অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। আর কিছু শর্ত লিখেছে। এগুলা কাজি বিয়ে পড়িয়ে বাড়িতে যেয়ে লিখেছে। *কিন্তু আমাদের ইজাব কবুলের পরেই লিখেছিল* বিয়ের ৩ দিন পরে যখন কাবিন নামা হাতে পেলাম তখন দেখলাম। অনুমতি দেয়া। বিয়ের দিন আমাকে আর আমার হাসবেন্ড কে শুধু বলছে সাইন করতে। আমরা সাইন করেছি।
আমার হাসবেন্ড এর নিয়ত ছিল সে আমাকে কোনো অধিকার দিবে না, তাই সে কিছু না দেখেই সাইন করে দিয়েছে কাবিন নামা তে।

১) এখন আমি কি অধিকার পাবো? একজন মুফতি বলেছিলেন যে, হাসবেন্ড যদি আগে থেকে জানে, জেনে সাক্ষর করে তাহলে নাকি অধিকার পাবে। হুজুর আমার হাসবেন্ড তো জানে এই বিষয়ে, তাও বিয়ের দিন খেয়াল করে নাই কাজি কি লিখছে। কিন্তু আমার হাসবেন্ড এর বিয়ের আগে থেকেই নিয়ত আমাকে কোনো অধিকার দিবে না।

২) আমি তাকে বিয়ের ৪ দিন পরে জিজ্ঞেস করি যে, আচ্ছা তুমি তো আমাকে কোনো অধিকার দাও নাই। তাই না? তখন আমার হাসবেন্ড ম্যাসেজ এ বলছে যে, 'না দেই নাই তো'। ম্যাসেজ এ লিখলে হবে? নাকি মুখে উচ্চারণ করে বলতে হবে অধিকার না দেয়ার কথা?
৪) যখন সাইন করেছে তখন কিছু লিখা ছিল না। বিয়ে পড়ানোর পরে কাজি লিখেছে বাড়িতে যেয়ে। আমার জামাই না দেখেই সাইন করেছে কিন্তু আমি পরে কাজির থেকে সিউর হয়েছি উনি বিয়ে পড়িয়ে লিখেছিলেন এই ১৮ নং কলাম। এখন আমি কি অধিকার পাবো?


৪) এখন এই অধিকার না দেয়া কি বিয়ের দিন থেকে ধরা হবে? নাকি বিয়ের ৪ দিন পর থেকে ধরা হবে? যেহেতু বিয়ের ৪ দিন পরে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তার মনে বিয়ের আগে থেকেই নিয়ত ছিল আমাকে কোনো অধিকার দিবে না।


৫) আপনাদের সাইটে ১৮ নং কলাম নিয়ে প্রশ্ন খুজে পড়ার সময় মুখে উচ্চারণ করে অনেক কিছু পড়ে ফেলি। যেগুলো নরমালি বলা যায় না। এগুলো তে কি কোন সমস্যা হবে? আমি তো নিজে এগুলো বলতেছি না। শুধু আপনারা কি উত্তর দিয়েছেন সেটা জানার জন্য পড়ি।

নতুন বিয়ে। জীবন টা চাই শান্তির হোক। দয়া করে উত্তর দিবেন হুজুর।
Answer
بسم الله الرحمن الرحيم
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। বিয়ের কাবিননামার ১৮ নং কলাম বাংলাদেশের প্রচলিত বিয়ের নিবন্ধনে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদানের বিষয়টি নির্ধারণ করে। আমরা হানাফি মাজহাব অনুযায়ী আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন ১: আমি কি অধিকার পাবো? (স্বামী আগে থেকে জানত কিন্তু সাক্ষর করার সময় খেয়াল করেনি)
উত্তর:
হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, যদি স্বামী কাবিননামায় সাক্ষর করে এবং সে জানে যে এতে তালাকের অধিকার প্রদানের শর্ত আছে (১৮ নং কলাম), তাহলে তা বৈধ হবে এবং স্ত্রী সেই অধিকার পাবে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আছে: সাক্ষর অবশ্যই ইজাব-কবুলের পর এবং কাজি/নিকাহ রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হতে হবে।

আপনার বর্ণনা মতে, কাজি বিয়ে পড়ানোর পর বাড়িতে গিয়ে শর্ত লিখেছেন, কিন্তু সাক্ষর নিয়েছেন বিয়ের দিন। এই সাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না।

👉 আপনার ক্ষেত্রে:

স্বামী পূর্ব থেকেই যেহেতু অধিকার দেয়ার পক্ষে ছিলেন না, এবং সাক্ষর করার সময়ও স্বামীর নিয়তে তালাকের অধিকার প্রদানের কোনো চিন্তা ভাবনা ছিলনা, তাই স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে না।
কাজি ইজাব-কবুলের পর শর্ত লিখেছে, তাই সাক্ষরটি নিকাহের অংশ হিসেবেই গণ্য হবে না।
সুতরাং, আপনি তালাকের অধিকার পাবেন না।
প্রশ্ন ২: স্বামী ম্যাসেজে বলেছে "না দেই নাই তো" – এটি কি শর্ত না দেওয়ার জন্য যথেষ্ট?
উত্তর:
স্বামী ম্যাসেজে বলেছে "না দেই নাই তো" এদ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবেনা।

প্রশ্ন ৩: স্বামী সাক্ষর করার সময় কিছু লেখা ছিল না, পরে কাজি বাড়িতে গিয়ে লিখেছেন – এতে কি অধিকার হবে?
উত্তর:
না, এতদ্বারা স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবেনা।

প্রশ্ন ৪: অধিকার না দেওয়ার ঘোষণা কি বিয়ের দিন থেকে ধরা হবে নাকি ৪ দিন পর থেকে?
উত্তর:
অধিকার না দেওয়ার ঘোষণা বিয়ের দিন থেকে ধর্তব্য।

প্রশ্ন ৫: আপনার সাইটে ১৮ নং কলাম নিয়ে পড়ার সময় মুখে উচ্চারণ করে কিছু বলা – এতে কি গোনাহ হবে?
উত্তর:
না, এতে কোনো গোনাহ হবে না।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
না, আপনি তালাকের অধিকার পাবেন না।
ম্যাসেজ যথেষ্ট, অধিকার অর্জন হবে না।।
সাক্ষরের সময় ফাঁকা থাকলে, আপনি অধিকার পাবেন না।
অধিকার বিয়ের দিন থেকেই কার্যকর।
ফতোয়া পড়তে গিয়ে মুখে উচ্চারণ করলে গোনাহ নেই, তবে সতর্ক থাকবেন।


১)))) আমার প্রশ্ন হলো আমি কি আপনার উত্তর এর উপর আমল করতে পারবো? যে আমি অধিকার পাই নাই। নাকি আমার আরো কারো কাছে যেয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে হবে?

Answer

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যে উত্তর পেয়েছেন, তা হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত ও ফতোয়ার ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এখন আপনি জানতে চাচ্ছেন যে, এই উত্তরের উপর আমল করতে পারবেন কিনা, নাকি আরেকজনের কাছে সরাসরি জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন।

উত্তরের সারসংক্ষেপ:

আপনার বর্ণিত পরিস্থিতি অনুযায়ী (স্বামীর পূর্বনিয়ত, কাজির অনিয়ম, সাক্ষরের সময় ফাঁকা থাকা) আপনি ১৮ নং কলামের অধিকার পাবেন না বলে আমরা ফতোয়া দিয়েছি। এটি একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া, যা হানাফি ফিকহের উসূল ও কিতাবাদি (যেমন রদ্দুল মুহতার, ফতোয়া উসমানি, ইমদাদুল ফতোয়া) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে।

তাই আপনি এই উত্তরের উপর আমল করতে পারেন:

  • হ্যাঁ, আপনি এই ফতোয়ার উপর নির্ভর করে আমল করতে পারেন। আপনার স্বামী যেহেতু অধিকার দিতে রাজি ছিলেন না এবং কাজির পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ ছিল, তাই আপনি তালাকের অধিকার পাচ্ছেন না। এটি আপনার জন্য স্বস্তির বিষয় হতে পারে, কারণ আপনি নিজে অধিকার চাননি এবং স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ রাখতে চান।
  • তবে, যদি আপনার মনে কোনো সন্দেহ থাকে বা আপনি আরও নিশ্চিত হতে চান, তাহলে আপনি অন্য একজন আলেম বা মুফতির কাছে সরাসরি গিয়ে পুরো ঘটনা শোনাতে পারেন। ইসলামে ফতোয়া একাধিকবার গ্রহণ করা জায়েজ আছে, বিশেষ করে যখন বিষয়টি সংবেদনশীল এবং আপনার দাম্পত্য জীবনের সাথে জড়িত।

কখন দ্বিতীয় মতামত নেওয়া উচিত?

  • যদি আপনি মনে করেন যে ফতোয়াটি আপনার পরিস্থিতির সাথে পুরোপুরি মিলছে না।
  • যদি অন্য কোনো মুফতি পূর্বে ভিন্ন মত দিয়ে থাকেন (যেমন আপনি উল্লেখ করেছেন যে একজন মুফতি বলেছিলেন "স্বামী জানলে সাক্ষর করলে অধিকার পাবে")। সেক্ষেত্রে একজন বিজ্ঞ মুফতির নিকট গিয়ে উভয় মতামত শোনা ভালো।
  • ইসলামী আইনে ফতোয়া পরিবর্তন হতে পারে সময় ও স্থানভেদে, তবে হানাফি মাজহাবে মূলনীতি সুস্পষ্ট।

তবে মনে রাখবেন:

  • আপনার স্বামীর নিয়ত ও স্পষ্ট অস্বীকৃতি (বিয়ের আগে ও পরে) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
  • কাজির ভুল বা ত্রুটির কারণে আপনার ওপর কোনো বোঝা আসবে না। আল্লাহ তাআলা নিয়তের প্রতি লক্ষ্য করেন।

চূড়ান্ত পরামর্শ:

আপনি এই উত্তরের উপর আমল করতে পারেন, তবে যদি আপনার মন স্বস্তি না পায়, তাহলে একজন স্থানীয় বিশ্বস্ত মুফতি বা আলেমের কাছে সরাসরি গিয়ে পরামর্শ নিন। দাম্পত্য জীবনে শান্তির জন্য দ্বীনি পথে চলা উত্তম।

আল্লাহ তাআলা আপনার বিবাহকে বরকতময় করুন এবং আপনার সম্পর্ককে ভালোবাসা ও শান্তিতে ভরিয়ে দিন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.