আল্লাহর জিকির করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে তালাক উচ্চারিত হলে বৈবাহিক সম্পর্কে কি কোনো সমস্যা হবে ?
Waswasa-OCD · Hanafi
Question
প্রশ্ন: ঐ ব্যাক্তির আল্লাহর জিকির করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ঐ ব্যাক্তির মুখে তা* উচ্চারিত হলে কি ঐ ব্যাক্তির বৈবাহিক কোনো সমস্যা হবে ?
Answer
উত্তর:
আপনার প্রশ্নে উল্লেখিত ব্যক্তি যদি আল্লাহর জিকির করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এবং অভ্যাসবশত ‘তালাক’ শব্দটি উচ্চারণ করে ফেলে, তবে তা দ্বারা বৈবাহিক কোনো সমস্যা হবে না। কেননা তালাকের ক্ষেত্রে নিয়্যত (ইচ্ছা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ অনুযায়ী, অনিচ্ছাকৃত, ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত উচ্চারিত তালাক গণ্য হয় না।
তবে শর্ত হলো – উচ্চারণটি যেন স্পষ্টভাবে তালাকের উদ্দেশ্যে না হয়। যদি ব্যক্তি শুধু মানসিক চিন্তার কারণে বা ওয়াসওয়াসার বশবর্তী হয়ে মুখে উচ্চারণ করে ফেলে, কিন্তু তার অন্তরে তালাক দেওয়ার কোনো ইচ্ছা না থাকে, তাহলে তা বৈধ তালাক হিসেবে গণ্য হবে না।
দলিল:
- কুরআন: আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা যদি তালাক দিতে ইচ্ছা কর, তবে…” (সূরা আত-তালাক: ১)।
- হাদীস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তিনটি বিষয় গুরুতর: নিয়্যত সহকারে তালাক দেওয়া, নিয়্যত সহকারে দাস মুক্ত করা, এবং নিয়্যত সহকারে ঋণ করা।” (আবু দাউদ, হাদীস: ২১৯৩)
- হানাফী ফিকহ:
- রদ্দুল মুহতার: “তালাক শুধু ঐ ব্যক্তির প্রতি কার্যকর হয়, যে তা ইচ্ছাকৃতভাবে উচ্চারণ করে।”
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: “যদি কেউ তালাকের শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু তার অন্তরে তালাকের নিয়্যত না থাকে, তবে তা তালাক হবে না।”
- ফাতাওয়া উসমানী: “অভ্যাসবশত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করলে তালাক পতিত হয় না।”
অতিরিক্ত পরামর্শ:
- ঐ ব্যক্তির উচিত এ ধরনের চিন্তা ও ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং আল্লাহর জিকিরকে আরও দৃঢ় করা।
- শয়তান প্রায়শই মানুষের মনে এ ধরনের কুমন্ত্রণা দেয়। তাই এ চিন্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে উপেক্ষা করা উচিত।
- তবে যদি ওয়াসওয়াসা অত্যধিক হয়, তাহলে কোনো আলিম বা মুফতির সাথে পরামর্শ করা উত্তম।
সারসংক্ষেপ:
অনিচ্ছাকৃত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে তালাক শব্দ উচ্চারণ করলে বিবাহিত জীবনে কোনো প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে ও নিয়্যত সহকারে তালাক উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হবে।