মৌখিক সম্মতি না নিয়ে শশুড় যদি আমার ওয়াজিব কুরবানি আদায় করেন, তাহলে কি আমার পক্ষ থেকে আদায় হবে?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 837
Questioner: Mardia Dewan
Question Asked: 27 May 2026, 12:45 PM
Reviewed & Published: 27 May 2026, 02:35 PM
Views: 94
Tokens: 2,148
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম উস্তাদ
আর্জেন প্রশ্ন : "আমার কোরবানি ওয়াজিব। শশ্বর আমার কোরবানি দিয়ে দেয়।আমার কোরবানি ওয়াজিব এজন্য উনি দিয়ে দেয় আমারটা। কিন্তু উনি মুখে মুখে আমার কাছ থেকে অনুমতি নেয় না। কিন্তু উনি যে দিয়ে দেয় তাতে আমি রাজি। তো উনি যে আমাকে না বলে দেয় কিন্তু আমার অনুমতি আছে এতে কি আমার ওয়াজিব আদায় হবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের জবাব:
ওয়াজিব কোরবানি আদায় হওয়ার শর্ত হলো, কোরবানি নিজের পক্ষ থেকে আদায় করা বা অন্য কারো পক্ষ থেকে আদায় করা হলে যার ওয়াজিব কুরবানি আদায় করা হচ্ছে, তার অনুমতি/সম্মতি থাকা। আপনার ক্ষেত্রে, আপনার শ্বশুর আপনার পক্ষ থেকে কোরবানি দিচ্ছেন, এবং আপনি এতে রাজি আছেন—অর্থাৎ অন্তর থেকে সম্মত। এদ্বারা আপনার কুরবানি আদায় হয়ে যাবে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
কারো পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য তার অনুমতি নেওয়া জরুরি। তবে অনুমতি শুধুমাত্র মুখের কথার মাধ্যমে হতে হবে—এমন নয়; বরং স্পষ্ট অনুমতি (صراحۃً) কিংবা ইঙ্গিত বা কাজের মাধ্যমে অনুমতি (دلالۃً) দুটোই গ্রহণযোগ্য। যদি আপনি জানেন যে আপনার পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়া হচ্ছে এবং আপনি তাতে রাজি (অন্তর থেকে সন্তুষ্ট), তাহলে তা অনুমতি হিসেবেই গণ্য হবে। বিশেষত যদি আপনার শ্বশুর পূর্ব থেকেই জানতেন যে আপনার কোরবানি ওয়াজিব এবং আপনি তা আদায় করতে চান, তাহলে তাঁর কাজটি আপনার অনুমতি বহির্ভূত নয়।

রেফারেন্স:
১. রদ্দুল মুহতার (শামী) - কিতাবুল উজহিয়্যাহ:
"ولو ضحى عن غيره بغير أمره لا يجوز إلا بإذنه صراحة أو دلالة"
অর্থ: "কাউকে অনুমতি ছাড়া তার পক্ষে কোরবানি দিলে তা শুদ্ধ হবে না, যতক্ষণ না স্পষ্টভাবে বা ইঙ্গিতে অনুমতি দেওয়া হয়।"
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৬, কিতাবুল উজহিয়্যাহ)

২. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এ উল্লেখ আছে:
যদি কেউ কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার কারণে তার পক্ষে অন্য ব্যক্তি কোরবানি দেয় এবং মালিক (যার পক্ষে দেওয়া হচ্ছে) এতে রাজি থাকে, তবে তা আদায় হয়ে যাবে।

৩. ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি দা.বা.)-এও বলা হয়েছে:
"কারো পক্ষে কোরবানি দেওয়ার জন্য তার পূর্বানুমতি নেওয়া উত্তম, কিন্তু যদি কেউ অনুমতি ছাড়াই কোরবানি দেয় এবং পরে মালিক তা বৈধ বলে গ্রহণ করে, তাহলেও কোরবানি শুদ্ধ হবে।"

আপনার ক্ষেত্রে:
যেহেতু আপনি রাজি আছেন এবং আপনার অন্তর থেকে সম্মতি রয়েছে, তাই আপনার শ্বশুরের কোরবানি দেওয়ার মাধ্যমে আপনার ওয়াজিব কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। তবে পরবর্তীতে মুখে মুখে অনুমতি নেওয়া উত্তম, কেননা তা সুন্নত ও স্পষ্টতার দিক থেকে ভালো।

উপসংহার:

  • আপনার ওয়াজিব কোরবানি আদায় হয়ে গেছে।
  • এখন থেকে শ্বশুরকে বলে দিন যে, তিনি আপনার অনুমতি নিয়ে কোরবানি দিন—এটাই অধিক নিরাপদ ও ফিকহি সুন্নত।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
কোরবানির সময় আপনার নিজের ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি থাকা জরুরি। আপনি যদি পূর্ব থেকেই জানতেন এবং রাজি ছিলেন, তাহলে তা যথেষ্ট।

আল্লাহু তাআলা আপনার কোরবানি কবুল করুন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.