স্বপ্নে সাগরে পড়ে যাওয়া, প্রবল স্রোত, কালো বোরকা, শিশু নিয়ে কিনারায় পৌঁছানোর ব্যাখ্যা।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 8129
Questioner: Binte Abdus Salam
Question Asked: 07 Nov 2026, 07:45 PM
Reviewed & Published: 07 Nov 2026, 09:26 PM
Views: 52
Tokens: 4,202
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকা তুহ্
আমি স্বপ্নে দেখেছি আমি আমার পরিচিত অনেকজনকে নিয়ে একটা সাগরে পড়ে গেছি।সাগরে প্রচন্ড স্রোত ছিল।ওখানে শুধু আমার পড়নে কালো বোরকা ছিল।এবং চোখসহ ঢাকা ছিল।তাই সাতার কাটতে পারছিলাম না।পরে আমার এক বোন বলল বোরকা খুলে ফেলতে তাহলে সাতার কাটতে পারব।কিন্তু আমি বোরকা না খুলে আমার কোলে একটা বাচ্চা ছিল,তাকে নিয়ে একটা কিনারায় চলে গেছি।তারপর পিছনে ফিরে দেখি আর কেউ নেই।
এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা কি হতে পারে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর:
স্বপ্নের ব্যাখ্যা (তাবির) শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি অনুমানভিত্তিক বিষয়; এটি আকীদা বা বিধান নয়। কুরআন-হাদীসে স্বপ্নের নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা-পদ্ধতি বাধ্যতামূলকভাবে শেখানো হয়নি। তবে আপনার স্বপ্নের উপাদানগুলো—সাগর, প্রবল স্রোত, কালো বোরকা, চোখ ঢাকা, সাঁতার কাটতে না পারা, বোনের পরামর্শ, বোরকা না খুলে শিশুকে নিয়ে কিনারায় পৌঁছানো এবং পিছনে ফিরে কাউকে না পাওয়া—এগুলোকে নেক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যায়, ভয়ের কিছু নেই ইনশাআল্লাহ।

বিস্তারিত:

১. স্বপ্নের ব্যাখ্যা শরীয়তের হুকুম নয়:
স্বপ্নের তাবির একটি ইজতিহাদি বিষয়। ইবনে সীরিন (রহ.)-এর তাবির গ্রন্থগুলোতে অনেক স্বপ্নের ইশারা আছে, কিন্তু সেগুলো কুরআন-হাদীসের মতো قطعি দলিল নয়। তাই স্বপ্ন দেখে দুশ্চিন্তা করা, ভয় পাওয়া বা কোনো আমল বন্ধ করা ঠিক নয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো; তাই খারাপ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে থুতু ফেলা, শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং কারও কাছে না বলা উচিত। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৬১-২২৬৩; সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৯৮৪-৬৯৮৬)

২. সাগর ও প্রবল স্রোত:
স্বপ্নে সাগর বা পানিতে পড়া সাধারণত দুনিয়ার পরীক্ষা, ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা বা জীবনের চাপের ইশারা হতে পারে। প্রবল স্রোত কঠিন পরিস্থিতি বা বিপদের অনুভূতির প্রতীক। কিন্তু আপনি ডুবে যাননি; বরং কিনারায় পৌঁছেছেন—এটি পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ও নিরাপত্তার ইঙ্গিত।

৩. কালো বোরকা ও চোখ ঢাকা:
বোরকা আপনার পর্দা, দ্বীনদারি ও লজ্জাশীলতার প্রতীক হিসেবে নেওয়া যায়। চোখ ঢাকা থাকায় সাঁতার কাটতে না পারা—এটি সরাসরি কোনো শরীয়তবিরোধী কিছু নয়; বরং পর্দা রক্ষা করতে গিয়ে কিছু কষ্ট বা সীমাবদ্ধতা অনুভব করার ইশারা হতে পারে। আপনার বোনের বোরকা খুলে ফেলার পরামর্শ—এটি দুনিয়ার সহজ পথ বা পর্দা হালকা করার প্রলোভনের প্রতীক হতে পারে। কিন্তু আপনি বোরকা না খুলে পর্দা রক্ষা করেছেন—এটি দ্বীন ও পর্দার প্রতি আপনার অবিচলতার নেক ইঙ্গিত।

৪. কোলে শিশু নিয়ে কিনারায় পৌঁছানো:
শিশু সাধারণত দায়িত্ব, ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা বা নেক সন্তানের প্রতীক। তাকে নিয়ে কিনারায় পৌঁছানো—দায়িত্ব পালন করে বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার ইশারা। পিছনে ফিরে কাউকে না পাওয়া—এটি একাকীত্ব বা কষ্টের অনুভূতির প্রতীক হতে পারে; তবে এটি ভয়ের কারণ নয়। অনেক সময় স্বপ্নে এমন দৃশ্য মনের চাপ ও দুশ্চিন্তার প্রতিফলনও হয়।

৫. সতর্কতা:
স্বপ্নের ভিত্তিতে কারও সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা, তাকে সন্দেহ করা, বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় পাওয়া জায়েজ নয়। স্বপ্নের তাবিরে ভুল হলে তা মানুষের সম্পর্ক ও আমলে ক্ষতি করতে পারে। তাই স্বপ্নকে হালকাভাবে নিন, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং নেক আমল চালিয়ে যান।

আমল:

  • পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও পর্দা যথাযথভাবে রক্ষা করুন।
  • সকাল-সন্ধ্যা আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস পড়ুন এবং ঘুমানোর আগে দুআ পড়ুন।
  • খারাপ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে থুতু ফেলা, শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং কারও কাছে না বলা।
  • ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং কারও কাছে বলা যেতে পারে।
  • দুশ্চিন্তা হলে ইস্তিগফার ও দরুদ শরিফ বেশি পড়ুন।

উৎস:

  • সহীহ মুসলিম, কিতাবুর রুইয়া, হাদীস ২২৬১-২২৬৩
  • সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাবির, হাদীস ৬৯৮৪-৬৯৮৬
  • ইবনে সীরিন, তাফসীরুল আহলাম (স্বপ্নের তাবির)
  • রদ্দুল মুহতার, কিতাবুল হাজার ওয়াল ইবাহা (স্বপ্ন ও তাবির প্রসঙ্গে)
  • ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, স্বপ্ন-সংক্রান্ত আলোচনা
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৫, স্বপ্ন ও তাবির প্রসঙ্গে

والله أعلم بالصواب
وإلى الله الرجوع والمآب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.