মানত পূর্ণ হলে ওয়াজিব হয় কি না, মানতের সালাত ও রোজার কাফফারা আছে কি না?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 8123
Questioner: Binte
Question Asked: 07 Nov 2026, 06:28 PM
Reviewed & Published: 08 Nov 2026, 05:18 AM
Views: 68
Tokens: 4,746
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ

১.আমি কয়েকমাস আগে একটা গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য এই নিয়ত করেছিলাম যদি আমার দ্বারা এই কাজ হয়ে যায় তাহলে আমি ১০০০ রাকআত সালাত এবং ৩০ টা নফল রোজা রাখবো কিন্তু সেই কাজটি আমার দ্বারা পূনরায় হয়েই যায়। এক্ষেত্রে এখন আমি ওই সালাত এবং সিয়াম কি পালন করা ওয়াজিব হয়ে গিয়েছে? আর এই সালাত এবং সিয়াম যদি আমার পক্ষে আদায় করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে মনে হলে কি এর কোনো কাফফারা আদায় করলে পূরন হবে? আর হলে সেটা কী? আর যদি না হয় তাহলে আমি কি অল্প অল্প করে আদায় করে যাবো?

২. মানতের সালাত ও সাওমের সাথে হাজত বা নফল সালাত ও সাওম আদায় করতে পারবো নাকি শুধু মানতের গুলোই করতে হবে। আর নফলের গুলো আলাদা।

৩. একাধিক নিয়তে নফল নামাজ পড়া যাবে যেমন - তাহাজ্জুদ, হাজত, তাওবা, শোকর, আবার ্দ্বোহা, ইশরাক এবং হাজত এরকম করে?

জাঝাকুমুল্লাহু খ্বইরন আহসানাল জাঝা।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

১. মানত সম্পর্কে:

আপনি যে নিয়ত করেছেন তা হলো শর্তযুক্ত মানত (نذر معلّق) — অর্থাৎ "যদি অমুক কাজ হয়ে যায় তাহলে আমি ১০০০ রাকআত সালাত ও ৩০টি নফল রোজা রাখব।" যেহেতু শর্তটি পূর্ণ হয়ে গেছে (কাজটি পুনরায় ঘটেছে), তাই মানত ওয়াজিব হয়ে গেছে। এটি পালন করা আপনার উপর আবশ্যক (ওয়াজিব)।

দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন —

«وَلْيُوفُوا نُذُورَهُمْ» "এবং তারা তাদের মানত পূর্ণ করুক।" (সূরা হজ: ২৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন —

«مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ» "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে।" (সহীহ বুখারী: ৬৬৯৬)

কাফফারা প্রসঙ্গে: মানতের সালাত ও রোজার জন্য কাফফারা (দাস মুক্ত করা/৬০ মিসকিনকে খাওয়ানো/২ মাস রোজা) শরীয়তে নির্ধারিত নেই। কাফফারা শুধু ইবাদত ভঙ্গের ক্ষেত্রে (যেমন রোজা ভঙ্গ, কসম ভঙ্গ) প্রযোজ্য।

মানতের ইবাদত আদায় না করলে কাফফারা দিয়ে তা পূর্ণ হয় না; বরং ওই ইবাদতটিই আদায় করতে হবে। সুতরাং কাফফারা দিয়ে ১০০০ রাকআত ও ৩০ রোজা থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই।

১০০০ রাকআত ও ৩০ রোজা — এটি পরিমাণে বেশি হলেও অসাধ্য নয়, তাই তা আদায় করাই আবশ্যক।

কঠিন মনে হলে করণীয়: অল্প অল্প করে হলেও ধারাবাহিকভাবে আদায় করে যান, যতদিন লাগে। প্রত্যহ কিছু রাকআত ও কিছু রোজা রাখুন। আল্লাহ তাআলা বলেন —

«فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ» "তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর।" (সূরা তাগাবুন: ১৬)

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) ৩/৭৩২-৭৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৭০; ফাতাওয়া উসমানী ২/৫৬০।


২. মানতের সালাত/সাওমের সাথে হাজত বা নফল একসাথে আদায় করা:

না,এটি সহীহ নয়। এত মান্নতের রোযা আদায় হবেনা।

৩. একাধিক নিয়তে নফল নামাজ:

একটি নফল নামাজে একাধিক নফল নামাজের নিয়ত (যেমন তাহাজ্জুদ + হাজত + তাওবা + শোকর একসাথে) করা — এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কেরামের মতভেদ আছে। احتیاط (সতর্কতা) হলো: প্রতিটি উদ্দেশ্যের জন্য আলাদা আলাদা নফল নামাজ আদায় করা। তবে সাধারণভাবে নফল নামাজে "আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য" একাধিক নফল নামাজেত নিয়ত করলে এবং দোয়ায় একাধিক উদ্দেশ্য সামনে রাখলে অসুবিধা নেই — সব গুলোই আদায় হয়ে যাবে।

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার ২/২৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩৮০; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৭/৩৬৫।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.