ভিনেগার (সিরকা) মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে খাওয়া জায়েয কি না?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 8115
Questioner: MD.NAZMUL HOSSEN SUMAN
Question Asked: 07 Nov 2026, 05:00 PM
Reviewed & Published: 07 Nov 2026, 06:00 PM
Views: 70
Tokens: 3,673
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ভিনেগার এর বোতলের মেয়াদ মনে হয় এই বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত। ভিনেগার এর বোতল ফ্রিজে সংরক্ষিত, এবং আমার কাছে মনে হয় ভিনেগার এখনো ভালো।
এই ভিনেগার খাওয়া ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে কি উচিৎ?

Answer

ভিনেগার (সিরকা) মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও খাওয়া ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে কি উচিত?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভিনেগার (সিরকা) খাওয়া সম্পূর্ণ জায়েয ও সুন্নতসুলভ — শর্ত হলো তা নাপাক (নাজাসাত) ও নেশাদায়ক না হওয়া।

মেয়াদ শেষ হওয়া বা ফ্রিজে সংরক্ষণ — এসব মূলত স্বাস্থ্যগত ও ব্যবহারিক বিষয়, দ্বীনি হুকুমের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

তবে ইসলামে নিজের শরীরের ক্ষতি করা নিষিদ্ধ (কুরআন ২:১৯৫), তাই ভিনেগার যদি পচে-গলে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যায়, তাহলে তা না খাওয়াই উচিত।


১. ভিনেগার হালাল হওয়ার দলিল

কুরআন

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু থেকে আহার করো, যা আমি তোমাদেরকে রিযিক হিসেবে দিয়েছি।" — সূরা আল-বাকারা: ১৭২

হাদিস

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

"সিরকা (ভিনেগার) কতই না উত্তম খাদ্য/ব্যবহার্য বস্তু!" — সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২০৫১; জামে তিরমিজি, হাদিস নং ১৮৪০

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:

"সিরকা উত্তম সালন (তরকারির মসলা)।" — সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৩১৫

ফিকহি ব্যাখ্যা (হানাফি)

  • আল-হিদায়া ও রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ আছে, ভিনেগার মূলত হালাল; কারণ এটি খালি (মদ) থেকে রূপান্তরিত হয়ে পবিত্র হয়ে যায়।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি-তে বর্ণিত: "সিরকা হালাল ও পবিত্র; তা খাওয়া ও বিক্রি করা জায়েয।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুল আশরিবা)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী রহ.)-তে স্পষ্ট করা হয়েছে — যে ভিনেগার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় (খামির থেকে) তৈরি হয় এবং তাতে নেশার পরিমাণ থাকে না, তা হালাল।

২. মেয়াদোত্তীর্ণ (Expired) হওয়ার দ্বীনি হুকুম

ইসলামে খাদ্যের "মেয়াদ" (expiry date) সম্পর্কিত সরাসরি কোনো ফিকহি বিধান নেই — এটি আধুনিক বাণিজ্যিক ও স্বাস্থ্যগত বিষয়। তবে নিম্নোক্ত নীতিগুলো প্রযোজ্য:

(ক) ক্ষতিকর বস্তু নিষিদ্ধ

"তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে নিক্ষেপ করো না।" — সূরা আল-বাকারা: ১৯৫

রাসূল ﷺ বলেছেন:

"ক্ষতি করা যাবে না, আর ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না।" — সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৩৪১

সিদ্ধান্ত: ভিনেগার যদি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে পচে যায়, দুর্গন্ধ হয়, ছত্রাক জন্মায় বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় — তাহলে তা খাওয়া নাজায়েয/মাকরুহ। আর যদি স্বাদ-গন্ধ স্বাভাবিক থাকে এবং ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তাহলে খাওয়া জায়েয।

(খ) ফ্রিজে সংরক্ষণ

ফ্রিজে সংরক্ষণ দ্বীনি দৃষ্টিকোণে কোনো সমস্যা নেই; বরং এটি খাদ্য নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচানোর বৈধ উপায়। ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে খাদ্য সংরক্ষণের বৈধ পদ্ধতি হিসেবে ঠান্ডা রাখার অনুমোদন আছে।

(গ) সন্দেহ হলে সতর্কতা

রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন) ও বাহিশতী যেওর-এ উল্লেখ আছে — সন্দেহজনক ও ক্ষতিকর বস্তু থেকে বিরত থাকাই তাকওয়ার পরিচায়ক। তাই ভিনেগারের স্বাদ, গন্ধ ও চেহারা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর খাওয়া উত্তম।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.