বিয়ের আগে ছেলের বাবা (শ্বশুর) ও ছেলের বোনের জামাইয়ের সামনে পর্দার বিধান কী?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 8110
Questioner: Isfakun Nisa-591
Question Asked: 07 Nov 2026, 01:45 PM
Reviewed & Published: 07 Nov 2026, 03:13 PM
Views: 61
Tokens: 4,409
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলের বাবা, ছেলের বোন জামাই এর সামনে মুখ দেখানো যাবে কীনা?
অনেকেই বলে যে জায়েজ আছে, এটা কতটা যুক্তিযুক্ত?

Answer

পর্দা: বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলের বাবা ও ছেলের বোন-জামাইয়ের সামনে মুখ খোলার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নে দু'টি সম্পর্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে— ১. ছেলের বাবা (অর্থাৎ শ্বশুর) — তার সামনে পর্দা করা কি জায়েজ? ২. ছেলের বোনের জামাই (অর্থাৎ ভাগিনার স্বামী/ভগ্নীপতি) — তার সামনে মুখ খোলা যাবে কি?

অনেকে বলেন এটা জায়েজ; প্রশ্ন হলো—এ দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত?

উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত উভয় জনই পাত্রীর জন্য গায়রে মাহরাম তাই তাদের সামনে মুখ খোলা জায়েজ হবেনা।

তবে বিবাহের পর ছেলের বাবা শ্বশুর হয়ে যাবে,তাই বিবাহের পর শ্বশুরের সামনে মুখ খোলা যাবে।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ

অর্থ: "মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখবে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করবে; আর তারা নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে না, তবে যা প্রকাশ্য হয়ে যায় তা ছাড়া। তারা নিজেদের ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখবে। আর তারা নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করবে না, তবে তাদের স্বামী, তাদের পিতা, স্বামীর পিতা, তাদের পুত্র, স্বামীর পুত্র, তাদের ভাই, ভাইয়ের পুত্র, বোনের পুত্র, তাদের নারীগণ, তাদের মালিকানাধীন দাসী, পুরুষদের মধ্যে যৌন-কামনা রহিত (বৃদ্ধ) ও শিশু—যারা নারীর গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অবগত নয়—এদের ছাড়া।" (সূরা আন-নূর: ৩১)

দলিলের বিশ্লেষণ:

  • এ আয়াতে মুহরিমদের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। তাতে স্বামীর পিতা (শ্বশুর) রয়েছেন — অর্থাৎ ছেলের বাবা মুহরিম।
  • কিন্তু বোনের স্বামী, ভাগিনার স্বামী, ফুফুর স্বামী, খালার স্বামী — এদের কেউই তালিকায় নেই। বরং হাদিসে এদের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা এসেছে (নিম্নে)।

ভগ্নীপতি/ভাগিনার স্বামী সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

الْحَمْوُ الْمَوْتُ

অর্থ: "হামূ (স্বামীর ভাই বা নিকটাত্মীয়) হলো মৃত্যু।" (সহীহ বুখারী: ৫২৩২; সহীহ মুসলিম: ২১৭২)

ইমাম নববী রহ. এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন—"হামূ" দ্বারা স্বামীর ভাই ও অনুরূপ নিকটাত্মীয় (যেমন ভগ্নীপতি) উদ্দেশ্য; কারণ সাধারণত মানুষ তার কাছে নির্ভয়ে অবাধ যাতায়াত করে, তাই এতে ফিতনার আশঙ্কা প্রবল। (শরহু সহীহ মুসলিম, ১৪/১৫৪)

উল্লেখ্য: ছেলের বোনের জামাই হলো নারীর জন্য ভাগিনার স্বামী — যা "হামূ"-এর অনুরূপ বা তার চেয়েও দূরের গায়র-মাহরাম। সুতরাং তার সামনে পর্দা করা আরও অধিক জরুরি।

গায়র-মাহরামের সামনে মুখ খোলার নিষেধ

وَالْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ

অর্থ: "নারী (গায়র-মাহরামের দৃষ্টিতে) সতর্কতার বিষয়।" (তিরমিজি: ১১৭৩)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.