একজন ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলার আগে ‘লা’ বললে ঈমান ঠিক থাকবে কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 8077
Questioner: Salahuddin Ahmed
Question Asked: 06 Nov 2026, 07:22 PM
Reviewed & Published: 06 Nov 2026, 09:08 PM
Views: 60
Tokens: 2,333
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজন আসতাগফিরুললাহ বলার আগে যদি লা বলেছেন তাহলে কি তার ঈমান ঠিক থাকবে? প্লিজ জানতে চাচ্ছি

Answer

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো: শুধু ‘লা’ শব্দ উচ্চারণ করলেই ঈমান নষ্ট হয় না; বরং দেখতে হবে তিনি কী নিয়তে বা কী অর্থে ‘লা’ বলেছেন। যদি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বা ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’-এর মতো কোনো বৈধ যিকিরের অংশ হিসেবে ‘লা’ বলেন, অথবা কোনো সাধারণ কথার জবাবে ‘না’ বোঝাতে বলেন, তাহলে ঈমান ঠিক থাকবে। কিন্তু যদি তিনি ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলার আগে ‘লা’ বলে আসতাগফিরুল্লাহ বা ইস্তিগফারকে অস্বীকার/ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেন, তাহলে তা কুফরির কারণ হতে পারে এবং ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. যিকিরের অংশ হিসেবে ‘লা’ বলা:
আল্লাহ তাআলা বলেন,

«فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ»
“জেনে রাখো, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং তোমার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।” (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯)
এখানে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ইস্তিগফার একসাথে এসেছে। তাই ‘লা’ বলে তারপর ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলা সম্পূর্ণ বৈধ; এতে ঈমানের কোনো ক্ষতি নেই।

২. ‘না’ বোঝানো:
কেউ যদি জিজ্ঞেস করে, “তুমি কি অমুক কাজ করবে?” আর তিনি বলেন, “লা” (না), তারপর বলেন, “আসতাগফিরুল্লাহ” — এটি সাধারণ কথা; এতে ঈমান নষ্ট হয় না।

৩. কুফরি অর্থ উদ্দেশ্য হলে:
যদি কেউ ইস্তিগফার বা আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনাকে অস্বীকার করে, ঠাট্টা করে বা ‘লা’ বলে ইস্তিগফারকে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তা কুফর। কারণ আল্লাহর বিধান বা রাসূল (সা.)-এর সুন্নতকে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা কুফর।
আল্লাহ বলেন,

«قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ»
“বলো, আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসূলকে কি তোমরা ঠাট্টা করছিলে? অজুহাত দেখিও না; তোমরা ঈমান আনার পর কুফরি করে ফেলেছ।” (সূরা তাওবা: ৬৫-৬৬)

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

  • ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন, কুফরির কথা মুখে উচ্চারণ করলে—যদিও ঠাট্টা করে—ঈমান নষ্ট হয়ে যায়; তবে নিছক শব্দ নয়, বরং অর্থ ও নিয়ত বিবেচ্য। (রাদ্দুল মুহতার: ৪/২২৩-২২৪, দারুল ফিকর)
  • «ফাতাওয়া আলমগিরি»-তে আছে, কেউ যদি এমন কথা বলে যা কুফরিকে আবশ্যক করে, তবে তাকে তাওবা ও কালিমা পুনরায় পড়তে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরি: ২/২৬০)
  • «বেহেশতি জেওর»-এ হাকিমুল উম্মত থানভি (রহ.) বলেন, কুফরি কালাম বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ ঈমান বিনষ্ট করে; সন্দেহ হলে তাওবা ও কালিমা পড়ে ঈমান নবায়ন করা কর্তব্য। (বাহিশতী জেওর, ঈমান-আকাইদ অধ্যায়)

উপদেশ:
যদি কেবল যিকিরের অংশ হিসেবে বা ‘না’ বোঝাতে ‘লা’ বলে থাকেন, তবে ঈমান ঠিক আছে; চিন্তার কিছু নেই। আর যদি ঠাট্টা-বিদ্রূপ বা ইস্তিগফারকে অস্বীকার করার নিয়ত থাকে, তবে সঙ্গে সঙ্গে তাওবা করুন এবং কালিমা তাইয়্যিবা পড়ে ঈমান নবায়ন করুন। সন্দেহ হলে احتیاطاً কালিমা পড়ে নেওয়া উত্তম।


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.