পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিবসে ফ্রিতে বা সামান্য টাকায় দেওয়া খাবার খাওয়া কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিবস যেমন-হীরক জয়ন্তী, সূবর্ণ জয়ন্তী, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে যে খাবার দেওয়া ফ্রীতে অথবা সামান্য টাকা নিয়ে ঐই খাবার খাওয়া কি জায়েজ হবে (ভালো খাবার খাওয়ার নিয়তে)?
Answer
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
উত্তর:
হ্যাঁ, অনুমোদনযোগ্য। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিবস (হীরক জয়ন্তী, সুবর্ণ জয়ন্তী, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ইত্যাদি) উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে যে খাবার ফ্রিতে বা সামান্য টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়, তা খাওয়া জায়েজ। ভালো খাবার খাওয়ার নিয়তও বৈধ। তবে শর্ত হলো—খাবারটি হালাল হতে হবে, হারাম মাল (ঘুষ, সুদ, জুলুম-অত্যাচারের মাল) দ্বারা কেনা বা প্রস্তুত না হতে হবে, এবং খাবারের বিনিময়ে কোনো হারাম শর্ত বা প্রতিশ্রুতি না থাকতে হবে।
বিস্তারিত:
১. হালাল মালের শর্ত: ইসলামে খাবার হালাল হওয়ার মূল ভিত্তি হলো তার উপার্জন ও মালিকানা হালাল হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন—
"يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ" "হে মানুষ! পৃথিবীতে যা হালাল ও পবিত্র, তা থেকে খাও এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।" (সূরা বাকারা: ১৬৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
"إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ..." "নিশ্চয়ই হালাল সুস্পষ্ট এবং হারামও সুস্পষ্ট..." (সহীহ বুখারী: ৫২; সহীহ মুসলিম: ১৫৯৯)
২. হাদিয়া (উপহার) ও দাওয়াতের বিধান: কেউ যদি নিজের হালাল মাল থেকে দাওয়াত দেয় বা উপহার দেয়, তা গ্রহণ করা সুন্নত ও উত্তম। রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজে হাদিয়া গ্রহণ করতেন এবং দাওয়াত কবুল করতেন। (সহীহ বুখারী: ২৫৬৫, ৫১৭৮)
৩. সামান্য টাকা নিয়ে খাবার: এটি মূলত বিক্রয় বা সেবা-মূল্যের বিনিময়। যদি টাকাটি হালাল হয় এবং খাবারটি হালাল হয়, তবে তা জায়েজ। এতে কোনো সমস্যা নেই।
৪. সতর্কতা: যদি জানা যায় যে, খাবারটি ঘুষ, সুদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা অন্যায়ভাবে আদায়কৃত মাল দ্বারা প্রস্তুত, তবে তা খাওয়া জায়েজ হবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন—
"وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ..." "তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না..." (সূরা বাকারা: ১৮৮)
৫. নিয়ত: ভালো খাবার খাওয়ার নিয়ত করা বৈধ; বরং নিয়তকে ইবাদতে পরিণত করা যায়—যেমন শক্তি অর্জন করে ইবাদত করার নিয়ত করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
"إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ..." "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল..." (সহীহ বুখারী: ১)
উপসংহার: প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে খাবার হালাল হলে এবং মাল হালাল হলে খাওয়া জায়েজ; ভালো খাবার খাওয়ার নিয়তও বৈধ। তবে হারাম মালের আশঙ্কা থাকলে সতর্কতা অবলম্বন করা কর্তব্য।
وَاللهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ
References (Hanafi Kitab):
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৪১—হালাল-হারাম খাদ্য প্রসঙ্গে।
- ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৪১—হাদিয়া ও দাওয়াত প্রসঙ্গে।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪২—হালাল মালের শর্ত।
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৯৫—উপহার ও দাওয়াতের বিধান।
- বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী), খণ্ড ৩—হালাল-হারাম অধ্যায়।
- মাআরিফুল কুরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি), সূরা বাকারা ১৬৮-এর তাফসীর।