বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন না করার কারণে বাবার পাঠানো টাকা হারাম হয় কি?

Halal and Haram · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 7945
Questioner: Rafizur Rahman Rafi
Question Asked: 04 Nov 2026, 06:45 PM
Reviewed & Published: 04 Nov 2026, 07:13 PM
Views: 13
Tokens: 3,165
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার গত মাসের মধ্যে বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করার কথা ছিল। আমার বাবা বলেছিলেন মেইন নাম্বারে বিকাশ খুললে তার জন্য টাকা পাঠাতে সুবিধা হয়। আমিও বলেছিলাম বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করব। কিন্তু পরে আমি তা ইচ্ছাকৃতভাবে করি নাই। এখন আমার বাবা আগের নাম্বারেই টাকা পাঠিয়েছেন। এই বিকাশ নাম্বার চেঞ্জ না করার কারণে কি বাবার পাঠানো ঐ টাকা নেওয়া আমার জন্য হারাম হবে?

Answer

বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন না করার কারণে বাবার পাঠানো টাকা নেওয়া কি হারাম?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, এটা হারাম হবে না। টাকাটি হালাল, এবং তা গ্রহণ করা আপনার জন্য বৈধ। তবে বাবার সাথে করা প্রতিশ্রুতি (ওয়াদা) পূরণ না করা একটি নৈতিক ত্রুটি, যা থেকে তাওবা করা উচিত — কিন্তু এটি টাকাকে হারাম করে না।


বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. টাকার মালিকানা ও হালাল হওয়ার মূলনীতি

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ: دَمُهُ، وَمَالُهُ، وَعِرْضُهُ» — সহীহ মুসলিম (২৫৬৪)

অর্থাৎ একজন মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম। এখানে বাবার সম্পদ তিনি স্বেচ্ছায় সন্তানকে দিয়েছেন — এটি একটি বৈধ হিবা/দান। দাতার পক্ষ থেকে দান বৈধ হলে গ্রহীতার জন্য তা গ্রহণ করা হালাল।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

«وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا» — সূরা আল-বাকারা: ২৭৫

এবং সম্পদের মূলনীতি হলো বৈধতা (আল-আসল ফিল-আশইয়া আল-ইবাহা), যতক্ষণ না কোনো স্পষ্ট দলিল তা হারাম প্রমাণ করে।

২. ওয়াদা ভঙ্গ করা কি টাকাকে হারাম করে?

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) ও ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর মূলনীতি হলো: হারাম হওয়ার কারণ ও হারাম বস্তুর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকতে হবে। এখানে টাকাটি নিজে হারাম উপার্জন নয়, চুরি নয়, সুদ নয়, ঘুষ নয় — বরং বাবার বৈধ সম্পদ থেকে স্বেচ্ছাদত্ত দান। ওয়াদা ভঙ্গ একটি পৃথক গুনাহ, যা টাকার হালালত্বকে প্রভাবিত করে না।

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেন, ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য (সহীহ বুখারী-মুসলিমে বর্ণিত হাদীস অনুযায়ী), তাই তা থেকে তাওবা করা কর্তব্য — কিন্তু এর দ্বারা প্রাপ্ত সম্পদ হারাম হয়ে যায় না।

৩. বাবার অনুমতি ও সন্তুষ্টি

বাবা টাকা পাঠিয়েছেন আপনার জন্যই — তিনি জানেন নাম্বার পরিবর্তন হয়নি, তবুও পাঠিয়েছেন। সুতরাং তার পক্ষ থেকে পূর্ণ সম্মতি রয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ» — মুসনাদ আহমাদ; শাইখ আল-আলবানী সহীহ বলেছেন

এখানে বাবার মন পূর্ণ সন্তুষ্ট — তাই গ্রহণ করা বৈধ।

৪. করণীয়

  1. টাকা গ্রহণ করুন — এটি হালাল।
  2. বাবার কাছে ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে ওয়াদা পূরণ করুন বা ওয়াদা করার আগে চিন্তা করুন।
  3. তাওবা করুন ওয়াদা ভঙ্গের জন্য — কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

    «آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ... وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ» — সহীহ বুখারী (৩৩), সহীহ মুসলিম (৫৯)

  4. ভবিষ্যতে বিকাশ নাম্বার পরিবর্তন করে বাবার সুবিধার্থে ব্যবস্থা নিন — এটি সদাচরণ (বিররুল ওয়ালিদাইন) হিসেবে সওয়াবের কাজ।

উপসংহার

  • টাকা হারাম নয় — বাবার বৈধ সম্পদ থেকে স্বেচ্ছাদত্ত দান, তার সম্মতিসহ।
  • ওয়াদা ভঙ্গ গুনাহ — তবে তা টাকার হালালত্ব নষ্ট করে না।
  • তাওবা ও বাবার কাছে ক্ষমা — কর্তব্য।
  • ভবিষ্যতে ওয়াদা পূরণে সচেষ্ট হোন।

والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.