নামাজের পর সামান্য আঠালো বা পানির মতো পদার্থ বের হওয়ার সন্দেহ হলে ওজু ভাঙে কি না?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 7939
Questioner: Ahammad Hossain
Question Asked: 04 Nov 2026, 05:10 PM
Reviewed & Published: 04 Nov 2026, 06:14 PM
Views: 3
Tokens: 5,556
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

অজু করার পর প্রায়ই মনে হয়, সামান্য প্রস্রাবের ফোঁটা বের হচ্ছে। বিশেষ করে রুকু বা সিজদায় ঝুঁকলে এমন অনুভূতি হয়। এ কারণে সাধারণত টিস্যু ব্যবহার করে নামাজ আদায় করি।
কিন্তু আজ টিস্যু ছাড়াই নামাজ পড়েছি। নামাজের আগে লজ্জাস্থান শুকনো ছিল। নামাজ শেষে দেখি, সামান্য আঠালো বা পানির মতো কিছু একটা বের হয়েছে। তবে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করে আর কিছু দেখতে পাইনি। Vanish
এখন আমার প্রশ্ন হলো, এই পদার্থটি কী হতে পারে? এর কারণে কি আমার ওজু ভেঙে গেছে এবং নামাজ কি বাতিল হয়ে গেছে? হানাফি মাজহাব অনুযায়ী আমার করণীয় কী?

Answer

উত্তর: নামাজের পর সামান্য আঠালো/পানির মতো পদার্থ বের হওয়া — ওজু ও নামাজের হুকুম

উত্তর

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাব


১. পদার্থটি কী হতে পারে? (শরঈ বিশ্লেষণ):

লজ্জাস্থানের পথ দিয়ে সাধারণত ৩ ধরণের নাপাক বস্তু নির্গত হতে পারে: ১. প্রস্রাব বা প্রস্রাবের ফোঁটা। ২. মযী (مذي): কামভাব বা উত্তেজনার সময় নির্গত পাতলা আঠালো পানি। ৩. ওয়াদী (ودي): প্রস্রাবের পূর্বে বা পরে নির্গত সাদা ও গাঢ় আঠালো পানি।

তবে আপনার ক্ষেত্রে, যেহেতু নামাজের পূর্বে স্থানটি সম্পূর্ণ শুকনো ছিল এবং নামাজ শেষে আঠালো/পানির মতো অনুভূত হলেও সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করে আপনি আর কিছুই দেখতে পাননি, তাই এটি কোনো নাপাক বস্তু (প্রস্রাব, মযী বা ওয়াদী) ছিল না। শরীআতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ছিল নিছক শয়তানের ওয়াসওয়াসা (মানসিক সন্দেহ) অথবা প্রাত্যহিক সামান্য ঘাম/শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ।


২. অজু ও নামাজের শরঈ হুকুম (অজু ভেঙেছে কি না এবং নামাজ বাতিল হয়েছে কি না?):

না, আপনার অজু ভাঙেনি এবং আপনার নামাজ সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও সহীহ হয়েছে। এই নামাজের জন্য আপনাকে পুনরায় অজু করতে হবে না বা নামাজ দোহরাতে/কাজা করতে হবে না।

  • ফিকহী মূলনীতি: ফিকহে হানাফীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হলো—«اليقين لا يزول بالشك» (অর্থাৎ অকাট্য নিশ্চিত বিষয় কেবল সন্দেহের দ্বারা বাতিল হয় না)।
  • যতক্ষণ না সশরীরে কোনো নাপাকী বের হওয়া নিশ্চিতভাবে চোখে দেখা যায় বা অকাট্য প্রমাণ মেলে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেবল রুকু-সিজদায় ঝুঁকার অনুভূতির কারণে অজু ভাঙে না এবং নামাজও বাতিল হয় না।

৩. হানাফী মাযহাব অনুযায়ী আপনার করণীয় (স্থায়ী সমাধান):

১. ইস্তিবরা ও ধীরস্থিরতা অবলম্বন: প্রস্রাবের পর ফোঁটা আসার আশঙ্কা থাকলে ইস্তিবরা (টিস্যু ব্যবহার করা, কিছুটা অপেক্ষা করা বা হাঁটাচলা করে ফোঁটা বন্ধ হওয়া নিশ্চিত হওয়া) সম্পন্ন করে তবেই অজু করবেন । ২. পানি ছিটিয়ে দেওয়া (ওয়াসওয়াসা দূর করার সুন্নাত পদ্ধতি): ইস্তিনজা ও অজু করার পর গোপন অঙ্গের কাপড় বা আশেপাশের জায়গায় হাত দিয়ে সামান্য পানির ছিটা ছিটিয়ে দেবেন। এতে করে পরবর্তীতে কোনো ভিজা ভাব অনুভূত হলে মনকে বোঝাতে পারবেন যে এটি সেই ছিটিয়ে দেওয়া পানির ভিজা ভাব। ৩. অনুভূতি উপেক্ষা করা: টিস্যু ছাড়া নামাজ পড়ার পর বা রুকু-সিজদায় ঝুঁকলে যদি মনে হয় কিছু বের হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে চাক্ষুষ কোনো নাপাকী দেখা না যায়, তবে সেই অনুভূতির দিকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করবেন না। সন্দেহের পেছনে ছুটলে ওয়াসওয়াসা আরও বৃদ্ধি পায়।


সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ৫৫ (হিন্দিয়াহ ১/৯) (অধ্যায়: কিতাবুত তাহারাত, ৫ম অনুচ্ছেদ: অজু ভঙ্গের কারণসমূহ — 'প্রস্রাব, মযী ও ওয়াদী নির্গত হওয়ার ফিকহী বিবরণ')।
    • পৃষ্ঠা: ১৬৪, ১৬৫ (হিন্দিয়াহ ১/২০০) (অধ্যায়: সালাত — 'কেবল সন্দেহ ও অনুমানের ওপর ভিত্তি করে অজু ও নামাজের পবিত্রতা নষ্ট না হওয়া')।
    • পৃষ্ঠা: ১৩৮ (হিন্দিয়াহ ১/৪৮) (অধ্যায়: তাহারাত, ইস্তিনজার আহকাম — 'ওয়াসওয়াসা দূর করতে ইস্তিনজার পর পানি ছিটানোর ফিকহী মাসআলা')।
  • নূরুল ঈযাহ (বাংলা সংস্করণ):

    • পৃষ্ঠা: ২০ (পরিচ্ছেদ: ইস্তিনজার বর্ণনা — 'ইস্তিবরা করা এবং প্রস্রাবের ফোঁটার সন্দেহ দূর করতে পানির ছিটা দেওয়ার সুন্নাত নিয়ম')।
    • পৃষ্ঠা: ৩১ (পরিচ্ছেদ: অজু ভঙ্গের কারণসমূহ — 'মূত্রদ্বার বা মলদ্বার থেকে নিশ্চিতভাবে বস্তু নির্গত হলে অজু ভঙ্গ হওয়া')।
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (৫ম খণ্ড):

    • পৃষ্ঠা: ১৬১ (অধ্যায়: বাবুল মিয়াহ — 'শুধুমাত্র সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কোনো কিছুকে নাপাক না বলা ও অজু না ভাঙার ফতোয়া')।

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.