প্রজাপতি পিষে গেলে নাপাক হয় কি
Taharah Purity · Hanafi
Question
(২) গরুর মাথার চামড়া পরিষ্কার করতে গেলে তো সেখানে তো কোনো নাপাকি নেই তাইনা? কারন সেটি তো গরুর মাথার চামড়া।
Answer
প্রজাপতি ও গরুর চামড়া সম্পর্কিত মাসআলা
(১) প্রজাপতি পিষে যাওয়া সম্পর্কে
উত্তর: প্রজাপতি (এবং সাধারণত উড়ন্ত পোকা-মাকড় যাদের প্রবাহিত রক্ত নেই) পিষে গেলে নাপাক হয় না। কারণ হানাফি মাযহাবের মূলনীতি হলো—
«مَا لَا نَفْسَ لَهُ سَائِلَةٌ فَلَا نَجَاسَةَ فِي مَوْتِهِ» "যার প্রবাহিত রক্ত নেই, তার মৃত্যু নাপাকি নয়।"
দলিল:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, মাছি, মশা, প্রজাপতি, পিঁপড়া, টিকটিকি—এসবের মৃতদেহ নাপাক নয়। (আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত; রাদ্দুল মুহতার, ১/৩১৬)
- হাদিসে এসেছে, নবী ﷺ বলেছেন: «إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي شَرَابِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْمِسْهُ ثُمَّ لِيَنْزِعْهُ» — মাছি পড়লে ডুবিয়ে তুলে ফেলো। (সহিহ বুখারি: ৩৩২০) — এতে বোঝা যায় মাছির মৃত্যুতে পানীয় নাপাক হয় না।
(২) গরুর মাথার চামড়া পরিষ্কার করা সম্পর্কে
উত্তর: গরুর মাথার চামড়া (বা যেকোনো হালাল পশুর চামড়া) মূলত পাক (তাহির)। কারণ হালাল পশুর সমস্ত শরীর—চামড়া, মাংস, হাড়—জীবিত অবস্থায় ও যবেহর পর পাক।
দলিল:
- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: «وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ» — "এবং তা থেকে তোমরা আহার করো।" (সূরা ইয়াসিন: ৭২)
- রাসূল ﷺ বলেছেন: «كُلُّ سَبُعٍ ذِي نَابٍ فَأَكْلُهُ حَرَامٌ» — তবে হালাল পশুর চামড়া পাক হওয়ার ব্যাপারে ফকিহগণ একমত। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৩১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৫)
তবে নাপাকি আসতে পারে দুটি কারণে:
- যবেহ ছাড়া মৃত পশুর চামড়া হলে সেটি নাপাক (মুরদার)।
- চামড়ার ভেতরের দিকে (যা মাংসের সাথে সংযুক্ত ছিল) রক্ত লেগে থাকলে সেটি ধুয়ে পরিষ্কার করা ওয়াজিব। বিশেষত মাথার চামড়ায় রক্ত ও চুলের গোড়ায় ময়লা থাকতে পারে।
সুতরাং: গরুর মাথার চামড়া পরিষ্কার করতে গেলে সেখানে মূল নাপাকি নেই; বরং রক্ত-ময়লা থাকলে তা ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট। চামড়া পাক, শুধু পরিষ্কার করে নিলেই ব্যবহারের উপযোগী হবে।
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | প্রজাপতি পিষে যাওয়া | নাপাক নয় (প্রবাহিত রক্ত নেই) | | গরুর মাথার চামড়া | মূলত পাক | | চামড়ায় রক্ত-ময়লা থাকা | ধুয়ে পরিষ্কার করা ওয়াজিব |
রেফারেন্স
- আল-হিদায়া, কিতাবুত তাহারাত
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন), ১/৩১৬
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগিরি), ১/৩৫
- ফাতাওয়া উসমানি, ১/১৭০
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৩০
- সহিহ বুখারি: ৩৩২০