আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা কী?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 7875
Questioner: asaduzzaman
Question Asked: 03 Nov 2026, 06:04 PM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 06:40 PM
Views: 10
Tokens: 3,809
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা কী?

Answer

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

জবাব:

আলহামদুলিল্লাহ!

সারসংক্ষেপ

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদা হলো—আল্লাহর একত্ব, রিসালাত, আখিরাত, তাকদীর, সাহাবা ও আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা, কুরআনকে আল্লাহর কালাম মানা, চার ইমামের অনুসরণ এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে বিদআত থেকে বিরত থাকা। এই আকীদাই কিয়ামত পর্যন্ত নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকীদা।


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ، حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلَانِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ، وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلَاثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً، كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلَّا مِلَّةً وَاحِدَةً، قَالُوا: وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي.

অর্থ: বনি ইসরাঈলের ওপর যে সব বিপদ, গোমরাহি ও শাস্তি এসেছিল, আমার উম্মতের মধ্যেও তার অনুরূপ বিষয় সংঘটিত হবে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি জঘন্যতম পাপে লিপ্ত হয়ে থাকে, আমার উম্মতের মধ্যেও এমন লোক পাওয়া যাবে। বনি ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। এদের মধ্যে একটি দল ছাড়া বাকিরা জাহান্নামের উপযুক্ত হবে। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সেই দল কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘যারা আমার এবং আমার সাহাবাদের আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।’ (সুনানে তিরমিযি, হাদীস: ২৬৪১)

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আকীদা

১. সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে বিশ্বাস সমস্ত সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সম্মানিত এবং সত্যের বাহক। তাঁদের সম্পর্কে কটূক্তি বা অবমাননাকর মন্তব্য করা যাবে না। তাঁদের পারস্পরিক মতপার্থক্য ও বিরোধ ছিল ইজতিহাদভিত্তিক বিষয়। সুতরাং এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা এবং তাঁদের সবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা আবশ্যক।

২. জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ ﷺ যেসব সাহাবায়ে কেরামকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন, তাঁদের জান্নাতি হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।

৩. মোজার ওপর মাসেহ শরিয়তের নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে মোজার ওপর মাসেহ করা বৈধ।

৪. নাবীযে তামার খেজুর বা আঙ্গুর পানিতে ভিজিয়ে প্রস্তুতকৃত পানীয়, যা নেশাযুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত নাবীয নামে পরিচিত। নেশা সৃষ্টি করার পর তা মদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। নাবীয বৈধ, কিন্তু মদ হারাম।

৫. নবী ও অলিদের মর্যাদা যত বড় ওলীই হোক না কেন, কোনো ওলী কখনো নবীদের মর্যাদায় পৌঁছতে পারে না।

৬. শরিয়তের বিধান সবার জন্য প্রযোজ্য পৃথিবীর কোনো মানুষ এমন স্তরে পৌঁছতে পারে না, যেখানে পৌঁছে তার ওপর থেকে শরিয়তের বিধান রহিত হয়ে যাবে। সকলেই শরিয়তের অনুসরণে বাধ্য।

৭. আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু ও অতি মেহেরবান। তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া বৈধ নয়।

৮. আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভীত থাকা আল্লাহ তাআলা যে কোনো সময় শাস্তি দিতে সক্ষম। অতএব তাঁর আযাব থেকে সম্পূর্ণ নির্ভয় হওয়া বৈধ নয়।

৯. গণক ও জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী কোনো গণক বা ভবিষ্যদ্বক্তার কথাকে শরিয়তসম্মত প্রমাণ ছাড়া সত্য বলে বিশ্বাস করা কুফরি। তবে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও উপাত্তের ভিত্তিতে কোনো সম্ভাব্য তথ্য বা পূর্বাভাস প্রদান করলে তা এ বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয়।

১০. ইলমে গায়েব গায়েবের প্রকৃত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআলারই রয়েছে। মানুষের ইন্দ্রিয় ও সাধারণ জ্ঞানের বাইরে যা কিছু রয়েছে, তার পূর্ণ জ্ঞান আল্লাহই জানেন। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী ও যাকে ইচ্ছা ওহী বা বিশেষ উপায়ে কিছু গায়েবি বিষয় অবগত করতে পারেন।

উপসংহার: উপরোক্ত বিষয়গুলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের গুরুত্বপূর্ণ আকীদাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (শরহুল আকায়িদ আন-নাসাফিয়্যাহ)


আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.