ফোনে নিকাহ/বিবাহ পড়ানো যায় কি? জায়েজ আছে কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 7863
Questioner: Trisha Moni
Question Asked: 03 Nov 2026, 01:54 PM
Reviewed & Published: 03 Nov 2026, 02:07 PM
Views: 9
Tokens: 2,749
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফোনে নিকা পড়ানো যায় কি জায়েজ আছে

Answer

ফোনে নিকাহ করানো/পড়ানো যায় কি? জায়েজ আছে কি?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

সরাসরি টেলিফোন, মোবাইল, অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমে ইজাব-কবুল করে বিবাহ করানো বা করার শরঈ বিধান ফিকহে হানাফী ও প্রামাণ্য কিতাবসমূহের আলোকে ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:


১. মূল শরঈ সিদ্ধান্ত:

সরাসরি ফোন, মোবাইল অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমে বর ও কনে দূরবর্তী স্থানে থেকে সরাসরি ইজাব-কবুল করে বিবাহ সম্পাদন করলে তা শরীআতের দৃষ্টিতে সহীহ বা শুদ্ধ হবে না ।


২. ফিকহী কারণসমূহ:

১. ইত্তিহাদে মজলিস (অভিন্ন মজলিসের শর্ত) ভঙ্গ হওয়া: ইসলামী ফিকহে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো 'ইত্তিহাদে মজলিস' অর্থাৎ বর-কনে বা তাদের প্রতিনিধিদের একই স্থানে শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে এক মজলিসে চুক্তি সম্পাদন করা । ফোনে বর ও কনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থান করায় ফিকহী দৃষ্টিতে ইত্তিহাদে মজলিস বাস্তবায়িত হয় না।

২. সাক্ষীর উপস্থিতি ও সরাসরি ইজাব-কবুল শ্রবণ (শাহাদাহ): বিবাহের আকদ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্তত ২ জন স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষের একই স্থানে সশরীরে উপস্থিত থাকা এবং বর-কনে উভয় পক্ষের ইজাব ও কবুল সরাসরি স্বকর্ণে শুনতে পাওয়া ও বোঝা বাধ্যতামূলক। ফোনে সরাসরি বিবাহ করার সময় এক মজলিসে উপস্থিত সাক্ষীগণ দূরবর্তী অপর পক্ষের ইজাব-কবুল সরাসরি শুনতে পান না।

৩. প্রযুক্তিগত জালিয়াতি ও ধোকার সুযোগ: বর্তমান যুগে ভয়েস পরিবর্তন, আইডি হ্যাকিং বা বিভিন্ন প্রযুক্তির সাহায্যে জালিয়াতি করার সুযোগ থাকায় বিবাহের ক্ষেত্রে যে সুনিশ্চিত স্বচ্ছতা প্রয়োজন, তা ব্যাহত হয়।


৩. প্রবাসে বা দূরে অবস্থানরত ব্যক্তির জন্য বিকল্প শরীআতসম্মত সঠিক পদ্ধতি (ওয়াকালাত):

যদি পাত্র বা পাত্রী প্রবাসে বা ভিন্ন দেশে/শহরে অবস্থান করেন এবং সশরীরে উপস্থিত হতে না পারেন, তবে শরীআতসম্মত বিকল্প ও নির্ঝঞ্ঝাট পদ্ধতি হলো:

১. উকিল নিয়োগ (তাওকীল): অনুপস্থিত ব্যক্তি (বর বা কনে) মোবাইল কল বা মেসেজের মাধ্যমে অপর প্রান্তে থাকা কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে তার পক্ষ থেকে বিবাহ চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য 'উকিল' (প্রতিনিধি) হিসেবে মনোনীত করবে। (যেমন বলবে: "আমি তোমাকে আমার পক্ষ হতে অমুকের সাথে বিবাহের ইজাব/কবুল করার জন্য উকিল বানালাম"। ২. বিবাহের মূল অনুষ্ঠান: মূল বিবাহের আকদ অনুষ্ঠানে সেই উকিল অনুপস্থিত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়ে অন্তত ২ জন শরঈ সাক্ষীর উপস্থিতিতে বর বা কনের নাম ও পরিচয় স্পষ্ট করে ইজাব বা কবুল পাঠ করবে। ৩. ফলাফল: এই পদ্ধতিতে বিবাহ সম্পাদন করলে শরীআতের দৃষ্টিতে বিবাহ শতভাগ শুদ্ধ, সহীহ ও বৈধ হবে।

  • **যদি মজলিসে পাত্রপাত্রী এবং শরয়ী সাক্ষী উপস্থিত থাকে, এবং দূর থেকে মুবাইল ভিডিওকলে কেউ খুতবাহ দেয়, তাহলে হানাফি ফিকহ মতে বিবাহ শুদ্ধ হতে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

সংযুক্ত কিতাবসমূহের বিবরণ (ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর সহ):

  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড/১২৩)
  • ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া (১০/২৭৮)

আল্লাহ ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.